আরজি কর হাসপাতালে দু’বছর আগে তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় নতুন করে তদন্তে গ্রেপ্তার করা হয়েছে পানিহাটির প্রাক্তন তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক নির্মল ঘোষ। ওড়িশা থেকে ট্রানজিট রিমান্ডে শুক্রবার সকালে তাঁকে খড়দহ থানায় নিয়ে আসা হয়। সেখানে শ্মশানঘাটে কী ঘটেছিল সেটা নিয়ে গোপন জবানবন্দি দিতে থানায় পৌঁছন অভয়ার বাবাও। এদিন থানা থেকে আদালতে নিয়ে যাওয়ার পথে ডিম ছোঁড়া হলো নির্মল ঘোষকে। এই ডিমের হাত থেকে বাঁচতে হেলমেটও পরে ছিলেন প্রবীণ নেতা। কিন্তু তাতেও নিজেকে বাঁচাতে পারলেন না। থানার দরজা থেকে পুলিশের প্রিজন ভ্যান পর্যন্ত হেঁটে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাঁকে খেতে হলো কিল, চড়, লাথি!
এখানেই শেষ নয়, নির্মল ঘোষকে থানায় আনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই বাইরে ভিড় জমে যায়। তৃণমূল নেতাকে আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় যাতে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি না হয় তার জন্য হেলমেট পরিয়ে বের করা হয়। কিন্তু তাতে তাঁকে বাঁচানো যায়নি ডিম থেরাপি থেকে। থানার বাইরে নির্মলকে লক্ষ্য করে ডিম ছোঁড়ার সঙ্গে সঙ্গে জুতোর মালাও ছোঁড়া হয় বলে অভিযোগ। তার সঙ্গে নির্মল ঘোষকে নির্মমভাবে কিল, চড় ও লাথি মারার ঘটনাও ঘটেছে। নির্মল ঘোষকে ওড়িশা থেকে বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তার করে পুলিশ। শুক্রবার ব্যারাকপুর মহকুমা আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় ধৃত আর এক অভিযুক্ত প্রাক্তন কাউন্সিলর সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়কে নিশানা করেও ডিম ছোঁড়া হয়েছে। থানার সামনে দাঁড়িয়ে ‘চোর-চোর’ স্লোগান দেন বিজেপি কর্মীরা। তার সঙ্গে দেদার বাজানো হচ্ছিল ডিজে।
নির্মল ঘোষের গ্রেপ্তারের পর থানার বাইরে ব্যাপক উচ্ছ্বাসও দেখা যায়। অনেকে ডিজে বাজিয়ে নাচতে শুরু করেন। পরে কড়া নিরাপত্তায় নির্মল ঘোষকে ব্যারাকপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়। আর এক অভিযুক্ত সোমনাথ দে’কে খুঁজে পাওয়া যায়নি। শুক্রবার নির্মল ঘোষদের যখন আদালতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে তখন খড়দহ থানায় হাজির হন নির্যাতিতার বাবা। তিনি সংবাদমাধ্যমে মুখ খুলতে চাননি। তবে নির্মলদের গ্রেপ্তারিতে যে তিনি খুশি সেটা বুঝিয়ে দিয়েছেন। এই মামলায় অভয়ার বাবা গোপন জবানবন্দি দিতে পারেন বলে সূত্রের খবর। ইতিমধ্যেই তাঁকে পৃথক পুলিশের নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে।
তাছাড়া আরজি কর কাণ্ডের পর নির্মল ঘোষকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল সিবিআই। এবার পুলিশ গ্রেপ্তার করল। সিবিআই তাঁকে গ্রেপ্তার করেনি। তাই নির্মলের পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, তিনি রাজনীতির শিকার। গত ৯ আগস্ট তরুণী চিকিৎসকের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী অনুষ্ঠানে পুনর্তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিশেষ করে ঘটনার রাতের শ্মশানঘাটের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ব্যারাকপুরের পুলিশ কমিশনারকে নির্দেশ দেন তিনি। নির্মল ঘোষ, সঞ্জীব মুখোপাধ্যায় ও সোমনাথ দে’র বিরুদ্ধে তদন্তের কথাও জানানো হয়। তার পরেই অভয়ার বাবা অভিযোগ দায়ের করেন। আর অভিযোগ দায়েরের দু’দিনের মধ্যেই ওড়িশার বালেশ্বরের সিমুলিয়া থানার এলাকার একটি হোটেল থেকে নির্মল ঘোষকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতে সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়কেও গ্রেপ্তার করা হয়। সোমনাথকে খুঁজছে পুলিশ।