একদিকে এসআইআর নিয়ে নানা বিতর্ক চলছে। আর তার মধ্যে অপরদিকে প্রাক্তন বিচারপতি ইস্তফা দিলেন এসআইআর ট্রাইব্যুনাল থেকেই। যা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। তবে এই ইস্তফার নেপথ্যে কারণ কিন্তু বেশ চাঞ্চল্যকর। বেহাল রাস্তায় যাতায়াত বেশ কষ্টকর। কারণ খানা-খন্দে ভরা যাতায়াতের রাস্তা। আর তাতেই বিরক্ত হয়ে কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি ইন্দ্রজিৎ চট্টোপাধ্যায় এবার বড় সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলেন। বেহাল রাস্তার বিবরণ এবং দীর্ঘ যাত্রার কারণ দেখিয়ে এসআইআর ট্রাইব্যুনাল থেকে ইস্তফা দিলেন বিচারপতি। নিজের বাড়ি থেকে জোকার ট্রাইব্যুনাল পর্যন্ত যেতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
এই পরিস্থিতি নিয়ে প্রাক্তন বিচারপতি কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির দপ্তরে চিঠি পাঠিয়েছেন। প্রাক্তন বিচারপতি ইন্দ্রজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়ি সল্টলেক এলাকায়। একদা তিনি কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি ছিলেন। এখন এসআইআর ট্রাইব্যুনাল চলছে। সেখানে প্রাক্তন বিচারপতি ইন্দ্রজিৎ চট্টোপাধ্যায়ও ট্রাইব্যুনালের অংশ। আর ট্রাইবুন্যাল সেন্টার তাঁর জোকাতে। প্রাক্তন বিচারপতির বক্তব্য, সল্টলেক থেকে জোকার দূরত্ব বহু রাস্তা। আর সেই রাস্তা অত্যন্ত বেহাল। দেড় ঘণ্টার উপর সময় লাগে। ট্রাফিক জ্যাম তো আছেই। এই দীর্ঘ বেহাল পথে যাতায়াত করতে তাঁর সমস্যা হচ্ছে। তাই ইস্তফার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
প্রধান বিচারপতিকে যে চিঠি দিয়েছেন প্রাক্তন বিচারপতি তাতে তিনি লিখেছেন, তাঁকে সল্টলেকে থেকে নিয়মিত জোকা ট্রাইব্যুনালে যেতে হয়। পাইলট কার নিয়েও তাঁর বাড়ি থেকে জোকায় পৌঁছতে দেড় ঘণ্টা সময় লাগে। ফিরতে সময় লাগে আরও বেশি। কারণ ট্রাফিকের যানজট এবং রাস্তার বেহাল দশা। রাস্তার তথৈবচ অবস্থার কারণে তাঁর যাতায়াত করতে ব্যাপক সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। তাই তাঁকে ট্রাইব্যুনালের কাজ থেকে নিষ্কৃতি দেওয়া হোক। তবে যদি সল্টলেকে বসে তাঁকে কাজের সুযোগ দেওয়া হয় তিনি সেটা ভেবে দেখতে পারেন। প্রথমে তিনি ভেবেছিলেন দুই-তিন মাসের মধ্যে ট্রাইব্যুনালের কাজ শেষ হবে। কয়েকটা দিন সমস্যা হলেও কাজ চালিয়ে যাবেন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কিন্তু এখন বুঝতে পারছেন, এটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। দীর্ঘদিন এভাবে যাতায়াত করা সম্ভব নয়। তাই তিনি ট্রাইব্যুনালের কাজ থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন।
তাছাড়া এখন যা পরিস্থিতি তাতে পশ্চিমবঙ্গে এসআইআরের পর ট্রাইব্যুনালে প্রচুর আবেদন ঝুলে আছে। অত্যন্ত ধীর গতিতে আবেদনগুলির নিষ্পত্তি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রোজ ট্রাইব্যুনালে বিচারপতি সংখ্যা বাড়ানোর দাবি উঠছে। এই পরিস্থিতিতে ট্রাইব্যুনালের এক বিচারপতি ইস্তফা চাইলেন। এই ঘটনার আগে কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানমও ট্রাইব্যুনাল থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন। আগামী ২ নভেম্বর থেকে ইন্দ্রজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের ইস্তফার সিদ্ধান্ত কার্যকর হতে পারে বলে সূত্রের খবর।