দুর্গাপুজোর শুরু থেকেই রাজ্যের নানা প্রান্তে সিপিএমের বুকস্টল ভাঙা হয়েছে বলে অভিযোগ। শহর থেকে জেলা কোথাও বাদ নেই লালপার্টির বুকস্টল ভাঙা বাদ পড়েনি। হামলা, আক্রমণ, বই ছিঁড়ে ফেলে দেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন সিপিএমের নেতা-নেত্রীরা। এই আবহে পরিস্থিতি প্রশমনে বিজেপি বিধায়ক সিপিএমের বুকস্টলে গিয়ে বই কিনেছেন। বিজেপির আদি নেতাদের কয়েকজন বুকস্টল ভাঙার সমালোচনা করেছেন। কিন্তু তারপরও বিষয়টি থামেনি। নবমীতেও একাধিক জায়গায় বুকস্টল ভাঙার অভিযোগ উঠেছে। বিজেপির লোকজন এই হামলা চালাচ্ছে বলে সিপিএমের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। আর এবার বিজয়া দশমীর দিন অকপটে নয়া দাবি করলেন প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ ডা. সুভাষ সরকার।
এদিকে এই হামলা, আক্রমণ থেকে শুরু করে ক্ষতিপূরণের দাবিতে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেছিল সিপিএম। যদিও তা খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। খোদ রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত এই বুকস্টল ভাঙার ঘটনায় তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। কিন্তু কারা করছে এইসব অপকর্ম? এই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে রাজ্য-রাজনীতিতে। যার জবাবে ডা. সুভাষ সরকার বলেন, ‘৪ তারিখের পর যারা বিজেপিতে এসেছে, তারাই অতি উৎসাহী। নিজেদের বিজেপির কর্মী হিসেবে প্রমাণ করতে গিয়েই সিপিএমের বুক স্টল ভাঙচুর করেছে তারা। এই ঘটনার সঙ্গে প্রকৃত বিজেপির কোনও যোগ নেই।’ সুভাষবাবুর বক্তব্যের সঙ্গে মিল আছে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের।
অন্যদিকে বিজেপিতে এসে যারা এসব তাণ্ডব চালাচ্ছে তাদের দায় তো দলকেই নিতে হবে। এমনই দাবি বিরোধী নেতা-নেত্রীর। দুর্গাপুজোর সময় বামেরা নানা জায়গায় বইয়ের স্টল করে থাকে। এবার বিজেপিশাসিত পশ্চিমবঙ্গে উত্তর থেকে দক্ষিণবঙ্গের নানা জায়গায় একাধিক বুকস্টল ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। শাসকদলের লোকজন এই হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ। শুধু সিপিএম নয়, স্টল ভাঙা পড়েছে সিপিআই (এমএল) লিবারেশনেরও। একই ঘটনা ঘটেছে এসইউসিআই-এর স্টলে। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, ‘কর্পোরেশন বা সরকার যা করেছে, কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে করেছে। কাউকে আইন হাতে তুলে নেওয়ার কোনও দরকার নেই। একটা উঠে যাওয়া পার্টি পশ্চিমবঙ্গ থেকে তাকে প্রাসঙ্গিক করার কোনও দরকার নেই। কলকাতা হাইকোর্ট মামলা খারিজ করে ঠিকই করেছে। কারণ যারা দুর্গাপুজোকেই মানে না, কোনও পুজোই মানে না, তারা স্টল দেবে পুজোর সময়!’
তাছাড়া উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগরে নবমীর দিন একটি বুকস্টলে ভাঙচুর করা হয়! ওই ঘটনা ঘিরে বাম-বিজেপি সংঘর্ষে উত্তেজনা ছড়ায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে জখম হন এক পুলিশ আধিকারিক। দক্ষিণ ২৪ পরগনার উস্তিতেও বামেদের স্টল ভাঙার অভিযোগ উঠেছে। উত্তর দিনাজপুরেও বামেদের স্টলে বিজেপি হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ। তবে ডা. সুভাষ সরকারের মতে, ‘এই ধরনের রীতিতে বিজেপি বিশ্বাস করে না।’ আর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘আমরা সব বই-প্রেমী, বই বিরোধী নই। কিন্তু আপনি পুষ্পাঞ্জলী দেবেন না, নবমীর আরতি করবেন না, সিদুঁর খেলবেন না, হাতে ডোর লাগাতে গেলে বলবেন, না না লাগাব না। টিকা লাগাতে গেলে বলবেন, না কপালে লাগাবেন না। গলায় তুলসী রাখবেন না। সনাতনী হিন্দুত্বের যে পরম্পরা রয়েছে তার বিরোধিতা করবেন। তারপরে আপনি গিয়ে দুর্গাপুজো মণ্ডপের সামনে গিয়ে বইয়ের দোকান বানাবেন!’