আরও চাপে পড়ে গেলেন শান্তনু সিনহা বিশ্বাস, গড়িয়াহাট থানায় এফআইআর দায়ের

Shantanu Sinha Biswas Photo-SNS

এবার দুর্নীতি দমন আইনের ধারায় কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন অফিসার শান্তনু সিনহা বিশ্বাস এবং তার দুই ছেলে, শান্তনু-ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী জয় কামদার এবং কলকাতা দাগি অপরাধী বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনা পাপ্পুর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করল কলকাতা পুলিশ। কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন ডিসিপি শান্তনু সিনহা বিশ্বাস। এবার তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন আইনে মামলা দায়ের করল কলকাতা পুলিশ। ইডির অভিযোগের ভিত্তিতে গড়িয়াহাট থানায় এই মামলা শুরু হয়েছে বলে সূত্রের খবর। সুতরাং আরও চাপে পড়ে গেলেন শান্তনু সিনহা বিশ্বাস বলে মনে করা হচ্ছে।

কয়েক মাস আগে ইডির পক্ষ থেকে ৬টি আর্থিক দুর্নীতির অনুসন্ধান রিপোর্ট কলকাতা পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। কলকাতা পুলিশ এবং ইডির অফিসারদের যৌথ বৈঠক হয় ওই রিপোর্ট নিয়ে। ওই বৈঠকের পরে ইডির পক্ষ থেকে গড়িয়াহাট থানায় শান্তনু-সহ বাকিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। শুধু তাই নয়, ওই রিপোর্টে যে অভিযোগ তোলা হয়েছিল তার ভিত্তিতেই আর্থিক দুর্নীতি দমনের ধারায় মামলা করে তদন্ত শুরু করা হয়েছে বলে কলকাতা পুলিশ সূত্রে খবর। শান্তনু, জয় ও সোনা পাপ্পু ইডির মামলায় এখন জেল হেপাজতে রয়েছে।

এই শান্তনু সিনহা বিশ্বাস অত্যন্ত প্রভাবশালী অফিসার ছিলেন। ব্যবসায়ীদের থেকে টাকা তোলা থেকে শুরু করে অপরাধীদের আড়াল করার নানা অভিযোগ আগেই উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে। এমনকী কোন অফিসারকে কোথায় পোস্টিং দেওয়া হবে সেটা কার্যত নিজেই ঠিক করে ফেলতেন তিনি। শান্তনু সিনহা বিশ্বাস বড় কোনও অভিযোগ পেলে তাতে নেমে টাকা আদায় করতেন বলেও অভিযোগ। ইডি তদন্তে নেমে জানতে পারে, শান্তনু সিনহা বিশ্বাসকে ঘিরে নানা আর্থিক অনিয়ম, জমি দখল এবং প্রভাব খাটানোর অভিযোগ রয়েছে। এই পদক্ষেপের আগে ইডি দাবি করেছিল, জমি দখল বিষয়ক একটি মামলায় শান্তনু, সোনা পাপ্পু এবং ব্যবসায়ী জয় কামদারের মধ্যে যোগসূত্রের তথ্য মিলেছে।


তাছাড়া ইডির দাবি, কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন এই অফিসারের বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের নানা তথ্য তদন্তে উঠে এসেছে। জুলাই মাসে জমি দখল মামলায় শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের বিরুদ্ধে চার্জশিটও জমা দেয় ইডি। সেখানে প্রায় ২.৮৯ কোটি টাকা অপরাধমূলক কাজের মাধ্যমে আয়ের অভিযোগ করা হয়েছিল বলে রিপোর্টে প্রকাশ পায়। শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের বিরুদ্ধে নানা মামলার তদন্ত করছে ইডি। বালি পাচার লোক দিয়ে করিয়ে টাকা রোজগার করত বলেও অভিযোগ রয়েছে। ইডি সূত্রে খবর, শান্তনু সিনহা বিশ্বাসকে পাঁচবার তলব করা হয়েছিল। তাঁর বিরুদ্ধে লুক আউট নোটিশ জারি করা হয়েছিল। তারপরই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।