কালীঘাট তৃণমূলের কোষাধ্যক্ষকে তলব ইডির, দলের তহবিল মামলার জের

Enforcement Directorate Raid Photo-SNS

তৃণমূলের তহবিল নিয়ে নানা অভিযোগ উঠেছে। তা নিয়ে মামলা গড়িয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। ফ্রিজ করা হয়েছে একাধিক অ্যাকাউন্ট। এই ঘটনার তদন্ত করছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। এবার ইডির তলব পেলেন কালীঘাট তৃণমূলের কোষাধ্যক্ষ তথা প্রাক্তন রাজ্যসভার সাংসদ শুভাশিস চক্রবর্তী। কারণ দলের তহবিল তিনিই দেখভাল করেন। চলতি সপ্তাহে ইডি শুভাশিসকে দলের অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত সমস্ত কাগজপত্র নিয়ে যেতে বলেছে। শুভাশিসবাবু দলের তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের ‘সাইনিং অথরিটি’ বলেও ইডি জানতে পেরেছে। তাই তাঁকে তলব করল ইডি বলে সূত্রের খবর। তৃণমূলের তহবিলে ১৬৪ কোটি টাকা গরমিল পাওয়া গিয়েছে বলে অভিযোগ ওঠায় তদন্ত করছে ইডি।

এদিকে ইডি সূত্রে খবর, চলতি সপ্তাহেই শুভাশিস চক্রবর্তীকে সিজিও কমপ্লেক্সের দপ্তরে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে। শুভাশিস এখনও কালীঘাট তৃণমূলের কোষাধ্যক্ষ। এই বিষয়ে শুভাশিস সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন, এটি নিয়ে তিনি দলের সঙ্গে আলোচনা করবেন। তলবে সাড়া দেওয়ার জন্য ইডির কাছে একটু সময় চাওয়া হবে। বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবি হওয়ার পর তৃণমূল কংগ্রেসের পরিষদীয় দল দ্বিধাবিভক্ত হয়ে গিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন কালীঘাট তৃণমূল এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘আসল’ তৃণমূল। এই অবস্থায় দলের প্রতীক এবং তহবিলের মালিকানা কারা পাবে সেটা নিয়ে আইনি লড়াই শুরু হয়েছে। ইডিও পৃথকভাবে তদন্ত শুরু করেছে।

অন্যদিকে দলের তহবিলে গড়মিল আছে সেটা প্রথম জানিয়ে ব্যাঙ্ককে চিঠি দেন অরূপ বিশ্বাস। তারপর এই বিষয়টি নিয়ে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দিপন সাহা। তারপরই অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে তিনটি অ্যাকাউন্ট খুলে যায়। তবে বাকি আরও কয়েকটি অ্যাকাউন্ট নিয়ে তদন্ত শুরু করে ইডি। গত ৯ জুন বিধায়কদের সই জাল কাণ্ডের তদন্তে তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি সংলগ্ন তৃণমূল কার্যালয়ে হানা দিয়েছিল সিআইডি। তার সঙ্গে ছিল পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীও। তবে প্রথমে ভিতরে ঢুকতে বাধা পায় সিআইডি। তখন ওই কার্যালয়ে থাকা শুভাশিসের সঙ্গে বাদানুবাদের পর ভিতরে প্রবেশ করতে পারে তারা। প্রায় দু’ঘণ্টা কার্যালয়ের ভিতরে তল্লাশি চালায় সিআইডি।


তাছাড়া তৃণমূলের তিনটি অ্যাকাউন্টে সইয়ের দায়িত্বে আছেন শুভাশিস চক্রবর্তী। আর তাই তাঁকে সরাসরি ইডি তলব করল বলে মনে করা হচ্ছে। তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় তহবিল নিয়ে মামলায় বেসরকারি বিমানসংস্থা কেয়ারওয়েল-এর দুই ডিরেক্টর পবন জাজু এবং রমেশ জাজুকেও তলব করেছিল ইডি। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করে বেশ কিছু তথ্য হাতে পেয়েছে ইডি। তারপরই তলব করা হয়েছে শুভাশিস চক্রবর্তীকে। এই কেয়ারওয়েল সংস্থার কাছ থেকেই বিমান এবং হেলিকপ্টার ভাড়া নিয়েছিল তৃণমূল। ইডির দাবি, তৃণমূলের দলীয় তহবিল থেকে ওই সংস্থাকে ১৬০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল। ওই টাকায় কেয়ারওয়েল নামের সংস্থা থেকে বিমান এবং হেলিকপ্টার কেনে বলে ইডির অনুমান। তদন্তকারীরা সন্দেহ করছে, এভাবে তৃণমূলের দলীয় তহবিলের টাকা পাচার করা হয়েছিল।