মিত্র বাড়িতে চাপ বাড়াল ইডি, পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় মদন-সহ গোটা পরিবারকে তলব

MLA Madan Mitra Photo-SNS

একুশে জুলাইয়ের সমাবেশের পরই ইডি তলব করল কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্রকে। এই নিয়ে এখন জোর চর্চা শুরু হয়েছে। শিবির বদলের পরও যদি কেন্দ্রীয় এজেন্সি ডাকাডাকি করে তাহলে সেটা অবশ্যই চাপের। কী লাভ হলো? বুধবার ইডির দপ্তরে হাজিরা দিলেন মদন মিত্রের ছেলে শুভরূপ মিত্র। সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দেন শুভরূপ। পুরসভার নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে ইডির স্ক্যানারে মদনের গোটা পরিবার। বুধবার মদনের দুই ছেলেকে তলব করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার তলব করা হয়েছে মদনের স্ত্রীকে। আর আগামী ২৯ জুলাই ডেকে পাঠানো হয়েছে কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্রকে। সুতরাং মিত্র বাড়িতে চাপ বাড়িয়েছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)।

পুরসভার নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গত ১৩ জুন তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্রের একাধিক ঠিকানায় ম্যারাথন তল্লাশি চালিয়েছিল ইডি। এমনকী বিধায়ককে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছিল। তদন্তকারীদের দাবি, নগদ টাকা এবং সোনাদানা ঘুষের বিনিময়ে কামারহাটি ও টিটাগড় পুরসভায় অন্তত ১২৫ জন চাকরি পেয়েছেন। আর এসবের সঙ্গে মদন মিত্রের সরাসরি যোগ রয়েছে। সেই সূত্র ধরেই তাঁর স্ত্রী এবং দুই ছেলেকে সিজিও কমপ্লেক্সে ব্যাঙ্কের নানা নথিপত্র-সহ ২২ ও ২৩ জুলাই হাজিরার নির্দেশ দিয়েছে ইডি। মদনের দুই পুত্র শুভরূপ ও স্বরূপ এবং স্ত্রী অর্চনা মিত্রকে পৃথক পৃথক দিনে তলব করেছে ইডি। আর আগামী ২৯ জুলাই খোদ মদন মিত্রকেই ডেকে পাঠানো হয়েছে।

২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে পুরসভার নিয়োগ দুর্নীতি সংক্রান্ত মামলায় মদন মিত্রের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছিল সিবিআই। তখন তাঁর বাড়িতে পাঁচ ঘণ্টা ধরে তল্লাশি চালানো হয়েছিল। গত সপ্তাহে মদনের স্ত্রী এবং দুই পুত্রকে তলব করার পরেই শিবির বদল করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবিরে যোগ দেন মদন। সুপারিশের মাধ্যমে ১২৫ জনের নিয়োগের তথ্য পেয়েছে ইডি। আর ওই সুপারিশের ক্ষেত্রে মদন মিত্রের নাম ইডির স্ক্যানারে বলেই সূত্রের খবর। ইডি এই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে চায় বলেই সকলকে তলব করেছে।


তাছাড়া শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে অয়ন শীলের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে সেখান থেকে বেশ কিছু নথি উদ্ধার হয়েছিল। যা থেকে তদন্তকারীরা অনুমান করেন, রাজ্যের একাধিক পুরসভাতেও নিয়োগ-দুর্নীতি হয়েছে। তদন্তে উঠে আসে কামারহাটি, বরাহনগর, দক্ষিণ দমদম-সহ রাজ্যের একাধিক পুরসভায় নিয়োগ দুর্নীতি হয়েছে। আর তখন একাধিক দাপুটে নেতার নামও উঠে আসে। দক্ষিণ দমদম পুরসভার দুর্নীতির তদন্তে নেমে গ্রেপ্তার করা হয় প্রাক্তন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুকে। তবে ইডির তলব নিয়ে মদন মিত্র বলেছেন, ‘যদি আমায় ডাকে আমি কোনও ডেট, অসুখ, জ্বর, কোনও বাহানা দেব না। আমি সবরকমভাবে ইডিকে সহযোগিতা করব। স্ত্রী, পুত্ররাও যাবেন এবং প্রত্যেকে সহযোগিতা করবেন। সেন্ট্রাল গভর্নমেন্ট এজেন্সি অফিসিয়াল আমায় ডাকলে আমরা ফুল সাপোর্ট দেব।’