বুধবার সাতসকালে কামালগাজিতে অভিযান চালাল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। এখানের ব্যবসায়ী শ্যামল ব্যাপারীর খোঁজে লেকটাউন, কামালগাজি-সহ একাধিক জায়গায় অভিযান শুরু করে ইডি। ওই ব্যবসায়ী চালের ব্যবসার আড়ালে ইন্টারনেটকে কাজে লাগিয়ে হাওয়ালার মাধ্যমে টাকা পাচার করেছেন বলে অভিযোগ। ওই সূত্রেই তাঁকে খুঁজছে ইডির অফিসাররা। গুয়াহাটির একটি মামলার সূত্র ধরেই এই তল্লাশি অভিযান বলে ইডি সূত্রে খবর। শ্যামল ব্যাপারীর বাড়ি এবং অফিসে হানা দেয় ইডি। নরেন্দ্রপুর থানা এলাকার কামালগাজিতে ওই ব্যবসায়ীর বাড়িতে যায় ইডির একটি দল। তাঁর অফিসেও অভিযান চালান ইডি অফিসাররা।
লেকটাউনে অভিযান চালিয়ে তেমন কিছু পাননি ইডি অফিসাররা। কিন্তু অফিসের হদিশ মেলে কামালগাজিতে। রাজ্যের নানা প্রান্তে জাল ছড়ানো ছিল বলে জানা যায়। ইডি সূত্রে খবর, চালের ব্যবসার আড়ালে কোটি কোটি টাকার হাওয়ালা কারবার করতেন এই ব্যবসায়ী। কামালগাজির ব্যবসায়ী শ্যামল ব্যাপারী চালের ব্যবসাকে সামনে রেখে ইন্টারনেটের মাধ্যমে হাওয়ালার মাধ্যমে লেনদেন চালাতেন এমন তথ্য মিলেছে। তাই এদিন সকালে তাঁর বাড়ি এবং অফিসে হানা দেন ইডি তদন্তকারীরা। কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তায় চারটি জায়গায় একযোগে তল্লাশি চলে। ইডির অফিসাররা প্রথমে লেকটাউনের একটি জায়গায় অভিযান চালায়। পরে তদন্তে উঠে আসা তথ্যের ভিত্তিতে কামালগাজির অফিস-সহ নানা জায়গায় তল্লাশি চালান তদন্তকারীরা।
সাইবার প্রতারণার মাধ্যমে হাওয়ালার টাকা সরিয়েছেন ওই ব্যবসায়ী। কোটি কোটি টাকা হাতানোর অভিযোগ রয়েছে শ্যামল ব্যাপারীর বিরুদ্ধে। আর্থিক প্রতারণার অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে ইডি। তবে ব্যবসায়ীর হদিশ মেলেনি। তাঁকে খুঁজছে পুলিশ। খতিয়ে দেখা হচ্ছে নথি। কামালগাজির মূল অফিসের সামনে কেন্দ্রীয় বাহিনীতে ছয়লাপ। শ্যামল ব্যাপারী এমন কাজ করতে পারেন ভেবে চমকে উঠছেন প্রতিবেশীরা। শ্যামল দেশ-বিদেশে চাল আমদানি-রফতানি করেন। কিন্তু চালের ব্যবসাতেই থেমে থাকেননি তিনি। সাইবার ক্রাইমের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। আর হাওয়ালার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা তাঁর কাছে এসেছে বলে জানতে পেরেছে ইডি।
তাছাড়া তল্লাশিতে ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ, আর্থিক লেনদেনের হিসাব এবং গুরুত্বপূর্ণ নথি সংগ্রহ করার চেষ্টা চলছে। সন্দেহভাজন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলি আছে তদন্তের আওতায়। প্রয়োজনে সেগুলি ফ্রিজ করাও হতে পারে। কেমন করে গুয়াহাটির সাইবার প্রতারণার টাকা পশ্চিমবঙ্গের এই ব্যবসায়ীর মাধ্যমে হাওয়ালার পথে ঘোরানো হতো সেই চক্রের সঙ্গে আরও কারা যুক্ত সেটা জানতে তদন্ত করছে ইডি। উল্লেখ্য, কিছুদিন আগে কুঁদঘাট-সহ কলকাতার মোট আট জায়গায় একযোগে অভিযান চালিয়েছিল ইডি। মোটা টাকার মুনাফার টোপ দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা তুলে আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ উঠেছিল এক অর্থলগ্নি সংস্থার বিরুদ্ধে।