তৃণমূলের অ্যাকাউন্টে ১৬৪ কোটি টাকার হিসাব মিলছে না, ইডির চিঠি ব্যাঙ্কে

Enforcement Directorate Photo-ANI

তৃণমূল কংগ্রেসের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নিয়ে নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর থেকে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এই অ্যাকাউন্টে থাকা টাকা বেআইনি পথে এসেছে বলে প্রথম অভিযোগ তোলেন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিধায়ক সন্দীপন সাহা। তারপর তা নিয়ে ব্যাঙ্কে প্রথম চিঠি দেন অরূপ বিশ্বাস। তার জেরে তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছিল। কিন্তু কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে তা খুলে দিতে হয়। এরপর আরও বেশ কয়েকটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করতে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট চিঠি দেয় ব্যাঙ্কে। তা নিয়েও মামলা হয়। এই আবহে তদন্ত শুরু করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। কিন্তু টাকার কোনও হিসেব পাচ্ছে না ইডি। বিপুল অঙ্কের লেনদেন হয়েছে। কিন্তু কোনও হিসেব নেই বলে অভিযোগ। এবার হিসেব পেতে সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিল ইডি।

এদিকে তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে থাকা ১৬৪ কোটি টাকার হিসাব চেয়ে ব্যাঙ্ককে চিঠি দিল ইডি। সাতটির মধ্যে তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ আগেই করেছিল ইডি। তারপর তৃণমূল কংগ্রেসের যে মূল ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সেখানে নজর দিয়েছে ইডি। আর সেখানে তদন্ত করে তদন্তকারী অফিসাররা ১৬৪ কোটি টাকার হিসাব মেলাতে পারছেন না বলে সূত্রের খবর। এই তদন্তের পাশাপাশি বিমান পরিষেবার সংস্থাতেও তল্লাশি করা হয়। সেখানেও কোটি কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে বলে জানতে পেরেছেন ইডির অফিসাররা। এবার তৃণমূল কংগ্রেসের যে মূল ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট আছে তার যাবতীয় লেনদেনের হিসেব চেয়ে ব্যাঙ্ককে চিঠি দিল ইডি।

অন্যদিকে ইডি সূত্রে খবর, তৃণমূল কংগ্রেসের অ্যাকাউন্ট থেকে কোটি কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের হদিশ মিলেছে। বিপুল এই টাকা গিয়েছে ‘কেয়ারওয়েল অ্যাভিয়েশন’ নামক একটি সংস্থায়। এমনকী এই সংস্থার সহযোগী নানা সংস্থার অ্যাকাউন্টেও টাকা ঢুকেছে। এই ‘কেয়ারওয়েল অ্যাভিয়েশন’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ ভিআইপিদের বিমান ভাড়া দিয়ে থাকে। ওই সংস্থাকেই তৃণমূলের দলীয় তহবিল থেকে প্রায় ১৬০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। ওই টাকা দিয়ে সংস্থাটি একটি বিমান এবং একটি অগুস্টার হেলিকপ্টার কেনে। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নিয়ে স্বস্তি ফিরলেও পরে একসঙ্গে ১২টি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করেছে পুলিশ।


তাছাড়া এই অ্যাকাউন্টগুলিতে সন্দেহজনক লেনদেন হয়েছে বলে মনে করছে ইডি। আর লেনদেন নিয়ে সন্দেহ হতেই ওই মামলার তদন্তভার নিয়েছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। সূত্রের খবর, কাটমানির টাকা-সহ আরও বেশ কিছু টাকার বেআইনিভাবে লেনদেনের হদিশ পেয়েছে তদন্তকারীরা। তাই এবার তৃণমূলের মূল ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে যাবতীয় লেনদেনের হিসেব চেয়ে ব্যাঙ্ককে চিঠি দিল ইডি। এই বিষয়ে বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ বলেন, ‘১৬৪ কোটি তো কিছুই না। এই অঙ্ক ১০০০ কোটিতে পৌঁছবে।’