মমতার অ্যাকাউন্টে ইন্দ্রনীলের সংস্থার টাকা ঢুকেছিল? ইডির দাবি ঘিরে চর্চা তুঙ্গে

Mamata Banerjee-Indranil Sen Photo-ANI

দুর্গাপুজোর ‘প্রিভিউ শো’র পাসের টাকা নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। আর তার জেরে ইডির স্ক্যানারে উঠে এসেছেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। তাঁকে প্রায় ৯ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন তদন্তকারীরা। এই ইন্দ্রনীল সেনের সংস্থার টাকা নাকি ঢুকেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে। বৃহস্পতিবার সমাজমাধ্যমে এমনই বিস্ফোরক দাবি করল ইডি। এই সমাজমাধ্যমে পোস্ট সামনে আসতেই জোর চর্চা শুরু হয়েছে রাজ্য-রাজনীতিতে। কারণ ইন্দ্রনীল সেনের সংস্থা থেকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ৩০ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছিল। ‘মাস আর্ট’ তদন্তে এই দাবি করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)।

এদিকে ইন্দ্রনীলের বাড়ি, দপ্তরে তল্লাশি চালানোর পর বুধবার তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদও করে ইডি। আগামী সপ্তাহে আবার তাঁকে তলব করা হয়েছে। এই বিষয়ে বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় সংস্থার পক্ষ থেকে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। সেখানেই এসেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গ। ইডির বিবৃতি অনুযায়ী, জনৈক জয়দীপ মুখোপাধ্যায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। ওই অভিযোগে নাম জড়িয়েছে প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন, তাঁর স্ত্রী তথা ম্যাসআর্টের সভাপতি মধুচ্ছন্দা সেন, সচিব ধ্রুবজ্যোতি বসু, সহ-সভাপতি সায়ন্তন মৈত্র এবং কোষাধ্যক্ষ রঞ্জন চট্টোপাধ্যায়ের। ২০২২ সাল থেকে প্রায় তিন বছর দুর্গাপুজোর পাসের নামে বিপুল টাকা তোলা হয়েছে বলে অভিযোগ। আর ওই টাকা পরে ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ।

Enforcement Directorate Notice Photo-SNS

অন্যদিকে ইডির অবশ্য দাবি, ইন্দ্রনীল মন্ত্রী থাকাকালীন তাঁর এবং তাঁর মালিকানাধীন সংস্থা ‘অক্টেভ রেকর্ডস’-এর অ্যাকাউন্টে মোট ৩.৮ কোটি টাকা জমা পড়েছিল। পরে সেই সংস্থার অ্যাকাউন্ট থেকে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অ্যাকাউন্টে ৩০ লক্ষ টাকা স্থানান্তর করা হয়। এই বিষয়ে ইন্দ্রনীল সেনকে প্রশ্ন করা হয়েছিল। তিনি জানান, ‘রয়্যালটি’ বাবদ ওই টাকা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেওয়া হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, কমপক্ষে ৮৫ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের একাধিক সরকারি টেন্ডার নিয়ম ভেঙে ইন্দ্রনীলের ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের সংস্থাকে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ মিলেছে। এখন পাস বিক্রির টাকা কীভাবে কোথায় পৌঁছে ছিল সেটা খতিয়ে দেখছেন ইডি তদন্তকারীরা।


তাছাড়া ইন্দ্রনীলের ওই সংস্থার কর্মীরা নিজেদের ইউনেস্কো অনুমোদিত সংস্থা হিসেবে দাবি করে ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করেছিলেন। পরে সেই টাকা ব্যক্তিগত স্বার্থে কাজে লাগানো হয় বলে অভিযোগ। সুপরিকল্পিতভাবে দুর্গাপুজোর বাণিজ্যিকীকরণ করা হয়েছিল বলে দাবি ইডির। উৎসবকে পরিণত করা হয়েছিল লাভজনক ব্যবসায়। ২০২১ সালে কলকাতার দুর্গাপুজো ইউনেস্কোর স্বীকৃতি মেলার পরপরই ওই সংস্থা গড়ে উঠেছিল। আবার ওইসব টিকিটের দাম ছিল ১৭৪৯ থেকে ৫৪৯৯ টাকা পর্যন্ত। ওই সংস্থার সঙ্গে ইউনেস্কোর কোনও যোগ ছিল না। ইউনেস্কোর নাম ব্যবহার করে লোক ঠকানো হয়েছে বলে অভিযোগ।