জলপথে নেপালে নানা পণ্য পাঠানো হয়ে থাকে। এবার সেই সুযোগকে কাজে লাগাতে চেষ্টা করল অসাধু ব্যবসায়ী চক্র। নানা পণ্যের আড়ালে চলছিল নিষিদ্ধ ই-সিগারেট পাচারের চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ। অথচ ই-সিগারেট পাচারের আড়ালে পণ্যের চালানে কোথাও ‘ওয়াটার গ্লাস’, কোথাও ‘সিরামিক মগ’ এমনই পরিচয় লেখা হয়েছিল। এভাবেই হাজার হাজার ই-সিগারেট পাচারের ছক কষা হয়েছিল। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে অভিযান চালানো হয় কলকাতার শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি বন্দরে। আর পাচারের ছক ভেস্তে দিল ডিরেক্টরেট অফ রেভিনিউ ইন্টেলিজেন্স। তাদের থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৫৫ হাজার ই-সিগারেট বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। যার অনুমানিক বাজারমূল্য ১৩.৫০ কোটি টাকা
এই কাজ যে ভিতরে লোক না থাকলে করা যায় না সেটাও বুঝতে পেরেছেন তদন্তে নামা গোয়েন্দারা। সম্প্রতি ডিরেক্টরেট অফ রেভিনিউ ইন্টেলিজেন্সের অফিসাররা নেপালগামী ট্রান্সশিপমেন্টের দুটি কন্টেনার আটক করেন। গোপন সূত্রে তাঁদের কাছে আগেই খবর পৌঁছে গিয়েছিল। ওই তথ্যের উপর ভিত্তি করেই কন্টেনার দুটিতে তল্লাশি চালানো হয়। তাতেই সামনে আসে পাচারের অভিনব কৌশল। ঘোষিত পণ্যের আড়ালে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল নানা ব্র্যান্ডের নিষিদ্ধ ই-সিগারেট। প্রথম কন্টেনার যেটার উপর ‘ওয়াটার গ্লাস’ বলে লেখা ছিল সেটায় পাচার করা হচ্ছিল ৪০ হাজার ই-সিগারেট। যা উদ্ধার করা হয়েছে। আর দ্বিতীয় কন্টেনারে ‘সিরামিক মগ’ লিখে পণ্যের আড়ালে রাখা হয়েছিল প্রায় ১৫ হাজার ই-সিগারেট।
ভারতে ই-সিগারেট এবং সব ধরনের ইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম নিষিদ্ধ। ২০১৯ সালের ইলেকট্রনিক সিগারেট নিষিদ্ধকরণ আইনে সমস্ত রকম ই-সিগারেটের উৎপাদন, আমদানি, রপ্তানি, পরিবহণ, বিক্রি সবকিছুর উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা রয়েছে। তবে নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও নানা পথে এই ধরনের পণ্য পাচারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে পাচারকারীদের। যা এবার হাতেনাতে ধরা পড়ে গেল।
ডিরেক্টরেট অফ রেভিনিউ ইন্টেলিজেন্সের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে দেশের নানা বন্দর, বিমানবন্দরে অভিযান চালিয়ে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৩ লক্ষ ই-সিগারেট বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। বাজেয়াপ্ত পণ্যগুলির মোট মূল্য ১২০ কোটি টাকারও বেশি। মহারাষ্ট্র, গুজরাট, দিল্লি এবং পশ্চিমবঙ্গের নানা জায়গায় এই অভিযান চালানো হয়েছে। তবে এই কাজের পিছনে মাথা কে বা কারা সেটা এখন খুঁজে দেখছেন গোয়েন্দারা। এমনকী বন্দরের অন্দরে কেউ এই সুযোগ করিয়ে দিয়েছেন কিনা সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এভাবে আর কী কী পাচার হতে পারে সে বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।