দমদমে গ্রেপ্তার প্রাক্তন উপ-পুরপ্রধান-সহ তিন, তোলাবাজি-প্রতারণার অভিযোগ

Former Vice Chairman Arrested Photo-SNS

তোলাবাজি এবং প্রতারণার অভিযোগে দমদম পুরসভার প্রাক্তন উপ-পুরপ্রধান তথা তৃণমূল নেতা বরুণ নট্ট-সহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করল দমদম থানার পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে আছেন প্রাক্তন কাউন্সিলর নয়নাশিস দাস এবং সুমন্ত ঘোষ। প্রথমে তাঁদের আটক করা হলেও পরে অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হয় তিনজনকেই। এই প্রাক্তন উপ-পুরপ্রধানের বিরুদ্ধে এক প্রোমোটার অভিযোগ তোলেন। তাঁর কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা তোলাবাজি করা হয়েছে বলে অভিযোগ। ওই প্রোমোটার জনতার দরবারে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে অভিযোগ জানান। তার ভিত্তিতেই গ্রেপ্তার করা হয় এই তিনজনকে।

এই তোলাবাজি এবং প্রতারণার সঙ্গে আরও কয়েকজন জড়িত বলে অভিযোগ আছে। তাদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, দমদমের এক প্রোমোটারের কাছ থেকে নির্মাণকাজ করার জন্য কোটি কোটি টাকা তোলা আদায় করেন দমদম পুরসভার প্রাক্তন ভাইস চেয়ারম্যান বরুণ নট্ট। তাঁর সঙ্গে ছিলেন শাগরেদরা। এমনই অভিযোগ জানানো হয় মুখ্যমন্ত্রীর কাছে। জনতার দবরারে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারীকে এই তোলাবাজির কথা জানান ওই প্রোমোটার। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে তদন্তে নেমে পুলিশ অভিযোগের সত্যতা হাতে পান। তারপরই শুক্রবার দমদম থানার পুলিশ এই তিনজনকে গ্রেপ্তার করেন। দু’দিনের মধ্যেই তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

দমদম থানায় তোলাবাজি এবং প্রতারণার অভিযোগে একটি লিখিত অভিযোগও দায়ের করা হয়। তোলাবাজি-প্রতারণার অভিযোগ দায়ের করেন প্রোমোটার সুজয় মজুমদার। ওই অভিযোগের ভিত্তিতেই বরুণ নট্ট-সহ তিনজনকে তাঁদের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃতদের বিরুদ্ধে তোলাবাজি, প্রতারণা-সহ একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আর দমদম পুরসভার তিন নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর পর্ণা দাসের ছেলে নয়নাশিস দাস এবং দমদমের তিন নম্বর ওয়ার্ডের সিন্ডিকেটের মাথা বলে পরিচিত সুমন্ত ঘোষকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার ধৃত তিনজনকে ব্যারাকপুর আদালতে হাজির করা হয়।


তাছাড়া তোলাবাজি-প্রতারণার সঙ্গে বরুণরা সরাসরি যুক্ত কিনা, এই ঘটনায় আর কারা যুক্ত, প্রতারণার মাধ্যমে আর্থিক লেনদেন হয়ে থাকলে সেটা কেমন করে হয়েছে সবটা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এই তোলাবাজির সঙ্গে দমদম পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান হরেন্দর সিং-সহ পুরসভার বেশ কয়েকজন আধিকারিক জড়িত বলেও পুলিশ জানতে পেরেছে। তাই তদন্ত জারি রেখেছে পুলিশ। তথ্যপ্রমাণ হাতে এলেই তাঁদেরকেও গ্রেপ্তার করা হতে পারে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।