রাত পোহালেই স্বাধীনতা দিবস। রেড রোডে হবে কুচকাওয়াজ। এবার এই কর্মসূচিকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যাপক আঁটোসাঁটো করা হলো। কোনও গাফিলতি সহ্য করা হবে না বলে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন কলকাতা পুলিশের শীর্ষ কর্তারা। শনিবার রেড রোডে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করবেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে উপস্থিত থাকবেন একাধিক ভিভিআইপি এবং ভিআইপিরা। তাই এই অনুষ্ঠানকে ঘিরে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের। কদিন ধরে রাজ্য থেকে পাক চর এবং জঙ্গি সংগঠনের সদস্যদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই ঘটনায় গোয়েন্দারা ইতিমধ্যেই হাই অ্যালার্ট জারি করেছেন। তাই এবার নিরাপত্তায় বাড়তি কড়াকড়ি রাখা হচ্ছে।
রানা রাউত থেকে হামিম মণ্ডল গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে আশঙ্কা করা হচ্ছে স্বাধীনতা দিবসকে টার্গেট করতে পারে জঙ্গিদের স্লিপার সেল। নয়াদিল্লিতে যেমন কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে তেমন পশ্চিমবঙ্গেও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। যাতে স্বাধীনতা দিবসের দিন কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। ইতিমধ্যেই থানা এবং ট্রাফিক গার্ডের ওসিদের মাধ্যমে ডিউটিতে থাকা সমস্ত পুলিশকর্মীকে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন লালবাজারের কর্তারা। কর্মরত অবস্থায় কোনওভাবেই মোবাইলে চোখ রাখা, ছবি অথবা ভিডিও তোলা যাবে না। লালবাজার সূত্রে খবর, গত বছরগুলিতে কর্তব্যরত অবস্থায় অনেক পুলিশকর্মীকে সেলফি তুলতে দেখা গিয়েছিল। আর সেই ছবি সমাজমাধ্যমে পোস্ট করতেও দেখা গিয়েছে। এবার এসব পুরোপুরি বন্ধ করার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এখানেই শেষ নয়, কুচকাওয়াজের অনুষ্ঠান চলাকালীন আগত মানুষজন এবং দর্শকদের উপর কড়া নজরদারি রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। স্বাধীনতা দিবসের দিন রেড রোডে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মঞ্চ থেকে নেমে মাল্যদান কর্মসূচিতে গেলে দর্শকরা রাস্তায় নেমে পড়তে পারেন। তখন পুলিশের নজরদারি যেন শিথিল না হয়। তাই এবার পুরো অনুষ্ঠান শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও দর্শককে রেড রোডে নামতে দেওয়া হবে না। আর পুলিশের ডিউটিও কখনও শিথিল হবে না। এই কারণে গোটা রেড রোড এলাকাকে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হচ্ছে। পুরো এলাকাকে প্রায় ১৫টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছে। এই প্রত্যেকটি সেক্টরের দায়িত্বে থাকবেন একজন করে ডিসি পদমর্যাদার অফিসার। গোটা এলাকার নিরাপত্তার তদারকি করবেন একজন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার, ৬ জন যুগ্ম কমিশনার, ২০ জন ডিসি এবং ৪০ জন অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার। এখানে রাখা হচ্ছে ৬টি ওয়াচ টাওয়ার এবং ১১টি বাঙ্কার।
তাছাড়া রেড রোডে নিরাপত্তার স্বার্থে রাখা থাকছে ১,৫০০ পুলিশকর্মী, কলকাতা পুলিশের স্পেশাল ফোর্স এবং কমান্ডো বাহিনী। কলকাতা শহর জুড়ে অতিরিক্ত আরও ৩,০০০ পুলিশ মোতায়েন করা হবে। রেড রোডে দফায় দফায় তল্লাশি চালাবে বম্ব স্কোয়াড ও পুলিশ কুকুর। সাধারণ দর্শকদের ভিড়ে মিশে থাকবেন সাদা পোশাকের পুলিশকর্মীরা। যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের জন্য রেড রোড ও ময়দান সংলগ্ন কিছু রাস্তায় যানবাহন বন্ধ থাকবে। শহরের ২৩টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে থাকবে কড়া নাকা চেকিং। টহল দেবে ৯টি পিসিআর ভ্যান এবং ৩টি কুইক রেসপন্স টিম। শহরজুড়ে ১৯টি পুলিশ পিকেট, মেট্রো স্টেশনগুলিতে ২৫টি পিকেট এবং একাধিক বাজার, শপিং মল, কালীঘাট মন্দির-সহ ৭টি ধর্মস্থান মিলিয়ে মোট ২৪টি পিকেট বসানো হচ্ছে।