ভিক্টোরিয়ায় পৌঁছে গেল ‘দিব্যা’, পার্পল লাইনে বড় সাফল্য মেট্রোর

Photo: Statesman

কলকাতার মেট্রো মানচিত্রে আরও এক ধাপ এগোল পার্পল লাইন। মঙ্গলবার অর্থাৎ ১১ আগস্ট, ভিক্টোরিয়া মেট্রো স্টেশনে সুড়ঙ্গ খননের কাজ শেষ করে পৌঁছে গেল টানেল বোরিং মেশিন (টিবিএম)‘দিব্যা’। দুপুর ১২টা নাগাদ ভিক্টোরিয়া স্টেশনে ‘দিব্যা’র সুড়ঙ্গ খননের কাজ শেষ হয়। এর ফলে খিদিরপুর থেকে ভিক্টোরিয়া পর্যন্ত জোড়া সুড়ঙ্গ তৈরির কাজই সম্পূর্ণ হল। তবে এদিকে মঙ্গলবারই মেট্রোয় সাময়িক বিভ্রাট দেখা যায়। নিয়মিত পরিদর্শন ও রক্ষণাবেক্ষণের সময় নোয়াপাড়া ও বরাহনগরের মধ্যে সিগন্যালিং ব্যবস্থায় ত্রুটি ধরা পড়ে। এর জেরে ওই অংশে কিছুক্ষণের জন্য মেট্রো পরিষেবা নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। তবে প্রায় আধ ঘণ্টার মধ্যেই পরিষেবা স্বাভাবিক হয়।

এদিকে জোকা-এসপ্লানেড মেট্রো করিডরের এই অংশে দ্বিতীয় সুড়ঙ্গ তৈরির কাজ শুরু হয়েছিল গত বছরের ১১ অক্টোবর। এর আগে গত ১০ জুলাই টিবিএম ‘দুর্গা’ ভিক্টোরিয়া স্টেশনে পৌঁছে প্রথম সুড়ঙ্গের কাজ শেষ করেছিল। এবার ‘দিব্যা’ও পৌঁছে যাওয়ায় খিদিরপুর থেকে ভিক্টোরিয়া পর্যন্ত আপ ও ডাউন দুই সুড়ঙ্গই তৈরি হয়ে গেল।

এই অংশের সুড়ঙ্গ তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে দু’টি টিবিএম। কলকাতার নরম মাটি এবং মাটির নীচে বেশি জল থাকার কথা মাথায় রেখে ব্যবহার করা হয়েছে বিশেষ ধরনের ‘আর্থ প্রেসার ব্যালান্সিং’ টিবিএম। সুড়ঙ্গ খননের সময় মাটির চাপ এবং জলস্তর সামলাতেই এই প্রযুক্তি কাজে লাগানো হয়েছে।


‘দিব্যা’ খিদিরপুর থেকে ভিক্টোরিয়া পর্যন্ত প্রায় ১.৭২ কিলোমিটার পথ মাটির নীচ দিয়ে কেটেছে। প্রায় ৬.৬ মিটার ব্যাসের এই টিবিএমটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৯৫ মিটার। ওজন প্রায় ৬০০ টন। সুড়ঙ্গ তৈরির জন্য ২৭৫ মিলিমিটার পুরু প্রিকাস্ট কংক্রিটের খণ্ড ব্যবহার করা হয়েছে। সেগুলি জুড়ে তৈরি হয়েছে প্রায় ৫.৮ মিটার ব্যাসের সুড়ঙ্গ।

Photo: Statesman

এই কাজের জন্য খিদিরপুরের সেন্ট থমাস স্কুলের ভিতরে তৈরি করা হয়েছিল বিশেষ ‘লঞ্চিং শ্যাফ্‌ট’। প্রায় ৩৭ মিটার লম্বা, ২২ মিটার চওড়া এবং ১৭ মিটার গভীর ওই জায়গা থেকেই টিবিএম নামিয়ে সুড়ঙ্গ খননের কাজ শুরু হয়েছিল। ২০২৫ সালের মার্চে চেন্নাইয়ে তৈরি টিবিএমটি কলকাতায় আনা হয়। পরে সেটি জোড়া লাগিয়ে মাটির নীচে নামানো হয়েছিল।

খিদিরপুর থেকে পার্ক স্ট্রিট পর্যন্ত জোড়া সুড়ঙ্গ তৈরিতে এই দুই টিবিএমই ব্যবহার করা হচ্ছে। পার্ক স্ট্রিটের পরের অংশে অবশ্য মাটির উপর থেকে খুঁড়ে সুড়ঙ্গ তৈরির পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে। ঘনবসতিপূর্ণ কলকাতার এই অংশে মাটির উপর যান চলাচল বা স্বাভাবিক জনজীবনে বড় ধরনের প্রভাব না ফেলেই সুড়ঙ্গ খননের কাজ এগিয়েছে। ফলে ভিক্টোরিয়ায় ‘দিব্যা’র পৌঁছে যাওয়া শুধু মেট্রোর কাজের অগ্রগতি নয়, শহরের মাটির নীচে যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।

Photo: Statesman

জোকা-এসপ্লানেড মেট্রো করিডরের পার্পল লাইন চালু হলে দক্ষিণ কলকাতার সঙ্গে শহরের মধ্য কলকাতার যোগাযোগ আরও সহজ হবে। বিশেষ করে ভিক্টোরিয়া, পার্ক স্ট্রিট এবং এসপ্লানেডের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় যাতায়াতের ক্ষেত্রে এই করিডর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। শহরের ব্যস্ত রাস্তায় যানজটের চাপ কমানোর পাশাপাশি দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য গণপরিবহণ ব্যবস্থার সুযোগও বাড়বে।

‘দিব্যা’র এই সাফল্যের পর এখন জোকা-এসপ্লানেড করিডরের বাকি কাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই লক্ষ্য মেট্রো কর্তৃপক্ষের। ভিক্টোরিয়ায় জোড়া সুড়ঙ্গ তৈরির কাজ শেষ হওয়ায় প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ পার করল কলকাতা মেট্রো।