নামমাত্র ক্লাস করিয়ে টাকা তোলার অভিযোগে কড়া বার্তা আদালতের। সেলফ-ফিনান্সড বিএড কলেজগুলির ভূমিকা খতিয়ে দেখতে গড়া হয়েছে বিশেষ তদন্তকারী দল। বিএড ডিগ্রির আড়ালে চলছে কি শুধুই অর্থের কারবার? সেলফ-ফিনান্সড বা স্বশাসিত বিএড কলেজগুলির কর্মকাণ্ড নিয়ে এমনই গুরুতর প্রশ্ন তুলল কলকাতা হাইকোর্ট।
বিচারপতি অমৃতা সিনহা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ব্যবসার কেন্দ্রে পরিণত করা চলবে না। ক্লাসের নির্ধারিত শর্ত পূরণ না করেই কম সময়ে কোর্স শেষ করে পরীক্ষা নেওয়ার প্রবণতার বিরুদ্ধে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।
শুনানিতে আদালতের পর্যবেক্ষণ, অনেক ক্ষেত্রে পড়াশোনার মান বজায় না রেখে শুধুমাত্র ডিগ্রি দেওয়ার নামে ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হচ্ছে। এভাবে নামমাত্র ক্লাস করিয়ে ডিগ্রি দেওয়া হলে শিক্ষার মান যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তেমনি চাকরির বাজারে পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎও চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে।
এদিন বিচারপতি অমৃতা সিনহা বলেন, ‘শিক্ষা কোনও পণ্য নয়। ডিগ্রি বিক্রির মাধ্যমও নয়। বিএড ডিগ্রি অর্জনের জন্য যে ন্যূনতম শিক্ষাগত ও প্রশিক্ষণগত মানদণ্ড রয়েছে, তা কঠোরভাবে মেনে চলতেই হবে।’ এই পরিস্থিতিতে সেলফ-ফিনান্সড বা স্বশাসিত বিএড কলেজগুলির ভূমিকা খতিয়ে দেখতে দক্ষ আধিকারিকদের নিয়ে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (স্পেশাল টিম) গঠনের নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট।
আরও পড়ুন: এনকাউন্টার ঠেকাতে ৪ দিন আগেই সতর্কবার্তা! বারুইপুর কাণ্ডে হাইকোর্টে নতুন জনস্বার্থ মামলা
আদালতের আশা, তদন্তে প্রকৃত চিত্র সামনে আসবে। সেই সঙ্গে অনিয়মে জড়িত প্রতিষ্ঠানগুলির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিক্ষাক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও গুণগত মান রক্ষায় কলকাতা হাইকোর্টের এই কড়া অবস্থানকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে হাইকোর্টের আইনজীবী মহলের একাংশ।