শারদোৎসব লিখলে চলবে না। লিখতে হবে দুর্গাপুজো। আর তা না হলে সিপিএমকে দুর্গাপুজোর সময় স্টল করতে দেওয়া হবে না। বিধানসভায় দাঁড়িয়ে এমনই ফরমান দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এবার সেই ফরমানকে গুরুত্ব না দিয়েই শতাধিক বুক স্টল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিপিএম। শহর থেকে জেলা দুর্গাপুজোর সময় বুক স্টল দেবে তারা। এই বুক স্টল দেওয়ার রেওয়াজ সিপিএমের নতুন নয়। বরাবরই তারা এই বুক স্টল দিয়ে থাকে। আর এখান থেকে পার্টির নানা বই বিক্রি করে থাকে। কিন্তু এবার স্টল করার ক্ষেত্রে মুখ্যমন্ত্রীর ফরমান মানতেই হবে।
দুর্গাপুজোর সময় বুক স্টলে দুর্গাপুজো লেখা থাকবে এটাই প্রত্যাশিত। সেখানে শারদোৎসব লেখা থাকবে কেন? এই প্রশ্ন ওঠারও যথেষ্ট কারণ আছে। উৎসবের মরশুম জুড়ে তো আর বুক স্টল দেয় না সিপিএম। শুধু দুর্গাপুজোর সময়ই বুক স্টল দিয়ে থাকে। তাহলে দুর্গাপুজো লিখতে অসুবিধা কোথায়? এমন ভাবনা থেকেই বুক স্টলে দুর্গাপুজো লিখতে বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেটাকে নিয়ে এবার সমাজমাধ্যমে ব্যঙ্গ করতে শুরু করেছেন সিপিএম নেতা-কর্মীরা। এমনকী এবার আরও বেশি বুক স্টল দেবেন তাঁরা বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সুতরাং সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সরগরম হয়ে উঠেছে রাজ্য-রাজনীতি।
মুখ্যমন্ত্রীর এই নির্দেশের পর সিপিএম নেতৃত্ব বলছেন, এবার দুর্গাপুজোতেও স্টল হবে। এটা চ্যালেঞ্জ রইল। কিন্তু তাঁরা কি দুর্গাপুজো লিখবেন? এই প্রশ্নও উঠতে শুরু করেছে। তা নিয়ে নেতৃত্বের কথায়, শারদোৎসব বা দুর্গাপুজো কিছুই লেখা হয় না তাঁদের বুক স্টলে। আগে যা লেখা হতো এবারও তাই লেখা হবে। কিন্তু লাল শালুর বুক স্টলে যদি হামলা হয়? এই প্রশ্নের উত্তরে জানা গিয়েছে, সিপিএম নেতৃত্ব পরিকল্পনা করেছে, যেসব স্টলে বই রাখা থাকে সেখানে স্বেচ্ছাসেবকরা সারারাত থাকবেন। রাত পাহারা দেওয়া হবে। যাতে সেখানে হামলা হলে মোকাবিলা করা যায়। কিন্তু পিছু হটা যাবে না।
তাছাড়া প্রত্যেক বছর কলকাতায় সিপিএমের প্রায় শতাধিক স্টল থাকে। রাজ্যে সেটা হাজার ছাড়িয়ে যায়। এই বিষয়ে সিপিএমের রাজ্য কমিটির সদস্য সুদীপ সেনগুপ্ত সংবাদমাধ্যমে বলেন, ‘এই বছরও কলকাতায় আমাদের শতাধিক স্টলই থাকবে। আমরা তো কখনও শারদোৎব বা দুর্গাপুজো কিছুই লিখি না। যাদবপুরে যেমন বড় করে স্টল হয়, তেমনই হবে। সারাবছর আমরা বিজেপি বিরোধিতা করি। যদি হামলা হয়, আমরা প্রতিরোধ করব। স্বেচ্ছাসেবকরা থাকবেন, সাধারণ মানুষ থাকবেন। যেসব স্টলে বই থাকে, সেখানে সারারাত স্বেচ্ছাসেবকরা থাকবেন। রাত-পাহারা দেবেন তাঁরা।’