বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যকে এবার খুনের হুমকি, মুখ্যমন্ত্রীর দিকে বল ঠেললেন আইনজীবী

Bikash Ranjan Bhattacharya Photo-SNS

কদিন আগে বাড়ি গিয়ে অকথ্য গালিগালাজ এবং মদের বোতল ছুঁড়ে জানালার কাচ ভাঙা হয়েছিল বলে অভিযোগ। যাদবপুরে আইনজীবী তথা সিপিএম নেতা বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের সঙ্গে ঘটা এই ঘটনা নিয়ে রাজ্য-রাজনীতি আলোড়ন পড়ে গিয়েছিল। তখন তিনি সমাজমাধ্যমে দাবি করেছিলেন, হিন্দুত্ববাদীরা এই হামলা চালিয়েছে। এমন কথা পোস্ট করা নিয়ে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়েছিলেন। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই এবার এল খুনের হুমকি ফোন। এমনকী তাঁর প্রয়াত মাকে নিয়ে কুৎসিত ইঙ্গিত করার অভিযোগ উঠেছে। সমাজমাধ্যমে এই বিষয়ে খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দিকে বল ঠেললেন বর্ষীয়ান আইনজীবী। তাঁর দাবি, ঘটনার নেপথ্যে হিন্দু মৌলবাদী।

বিকাশরঞ্জনের অভিযোগ, তাঁকে ফোন করে খুনের হুমকি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাঁর প্রয়াত মাকে নিয়ে কুরুচিকর ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে। দলের বহু কর্মী তাঁকে ফোন করে থাকেন। আবার অনেকে আইনি সহায়তার জন্য ফোন করে থাকেন। তাই সবার ফোনই ধরেন বিকাশবাবু। এমনই একটি ফোন এসেছে ভেবে ধরেন আইনজীবী। আর তখনই তাঁকে খুনের হুমকি দেওয়া হয়। এমনকী অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। এই ঘটনার পিছনে হিন্দু মৌলবাদীরা আছে বলে সমাজমাধ্যমে ফের পোস্ট করলেন তিনি। আর তার সঙ্গে বিকাশরঞ্জন লিখলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রী কী পদক্ষেপ করেন সেটা দেখার অপেক্ষায় রইলাম।’ অর্থাৎ এবার সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর কোর্টে বল ঠেললেন আইনজীবী বলে মনে করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার বেশি রাতে ফোন এসেছিল বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের কাছে। তখনই এমন কাণ্ড ঘটেছে বলে তাঁর দাবি। আইনজীবীর আরও দাবি, ফোনের অপরপ্রান্তে সুকান্ত মণ্ডল নামে এক যুবক ছিল। তাঁকে হিন্দু মৌলবাদী বলে তোপ দেগে সমাজমাধ্যমে বিকাশবাবু লেখেন, ‘ফোনে আমাকে ও আমার পরিবারের সদস্যদের খুনের হুমকি দেওয়া হয়েছে। আমার প্রয়াত মা সম্বন্ধে কুৎসিত ইঙ্গিত করলেন। ওই ধরনের কুৎসিত ইঙ্গিত হিন্দু মৌলবাদীদের সহজাত। মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রী এই ব্যাপারে কী ব্যবস্থা নেন সেটা দেখার অপেক্ষায় রইলাম। প্রয়োজন হলে আত্মরক্ষার অধিকার কার্যকর করব।’


তাছাড়া প্রথমে বাড়িতে হামলা পরে খুনের হুমকির ঘটনার প্রেক্ষিতে কলকাতা হাইকোর্টের দরজায় কড়া নাড়তে পারেন বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়ে নিরাপত্তার অভাববোধ করছেন বলে সওয়াল করতেই পারেন। এমন সম্ভাবনা রয়েছে। আগের ঘটনার প্রেক্ষিতে হিন্দুত্ববাদীদের আক্রমণ বলে তোপ দেগেছিলেন সমাজমাধ্যমে। সেই পোস্ট মুছে ফেলতে নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং অমান্য করলে উপযুক্ত কড়া ব্যবস্থার হুঁশিয়ারিও দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই পোস্ট মুছে ফেলেননি তিনি। তারপর খুনের হুমকি মিলল। এবার লিখলেন, ‘হিন্দু মৌলবাদী’ শব্দ।