জমি দুর্নীতি মামলায় বুধবারও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়কে ম্যারাথন জেরা করল সিআইডি। মঙ্গলবারের পর বুধবারও তাঁকে ভবানী ভবনে জেরা করছেন তদন্তকারীরা। এই নিয়ে টানা পাঁচ দিন ধরে সুমিত রায়কে জিজ্ঞাসাবাদ করছে সিআইডির আধিকারিকরা। এর মধ্যে একদিন তাঁকে ডেবরা চাকরি দুর্নীতি মামলাতেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল।
এর আগে শনিবার ও রবিবার টানা দু’দিন জমি-দুর্নীতি মামলায় সুমিত রায়কে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করেন তদন্তকারীরা। দু’দিনই ভবানী ভবনে হাজিরা দেন তিনি। শনিবার প্রায় ১০ ঘণ্টা জেরার পর সিআইডি দপ্তর থেকে বেরোন সুমিত রায়। রবিবারও তাঁকে বেশ কিছুক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
জমি ও চাকরি দুই দুর্নীতি মামলাতেই ইতিমধ্যে আইনি রক্ষাকবচ পেয়েছেন সুমিত রায়। জমি-দুর্নীতি মামলায় কলকাতা হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন করেছিলেন তিনি। তবে গত সোমবার বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ সেই আবেদন খারিজ করে দেন। অন্যদিকে, চাকরি-দুর্নীতি মামলায় শর্তসাপেক্ষে আগাম জামিন মঞ্জুর হয় সুমিতের। তাঁকে ১০ দিনের মধ্যে তদন্তকারী আধিকারিকের সামনে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
গ্রেপ্তারির আশঙ্কায় সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন সুমিত রায়। গত বৃহস্পতিবার শীর্ষ আদালত তাঁকে শর্তসাপেক্ষে আইনি রক্ষাকবচ দেয়। এরপরই জমি-দুর্নীতি মামলার তদন্তে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তৎপর হয় সিআইডি। এরপরেই সুমিত রায়ের বাড়িতে হানা দেন সিআইডি-র আধিকারিকেরা। শুক্রবার রাতে বেহালা থানার পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে বেহালা ক্যানেল রোডে সুমিত রায়ের বাড়িতে পৌঁছয় সিআইডির একটি দল।
আরও পড়ুন: ‘আরজি কর কাণ্ডের মতো ঘটনা রুখতে আধ্যাত্মিক জাগরণ প্রয়োজন’, আদ্যাপীঠে বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর
জানা গিয়েছে, বাড়ির সামনে প্রায় ১০ মিনিট অপেক্ষা করার পর দরজা খোলে। এরপর সিআইডি আধিকারিকরা বেহালা থানার পুলিশ এবং একজন ফটোগ্রাফারকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করেন। প্রায় ১০ মিনিট বাড়ির ভিতরে থাকার পর সিআইডি আধিকারিকদের একটি দল এবং পুলিশ বাইরে বেরিয়ে আসে। তবে ঠিক কী কারণে এদিন ফের সুমিত রায়ের বাড়িতে সিআইডি-র আধিকারিকেরা গিয়েছিলেন, সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।