পুরনো মামলায় গ্রেপ্তারি নিয়ে প্রশ্ন, পুলিশি হয়রানি থেকে রক্ষাকবচ চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ কংগ্রেস প্রার্থী

Photo: Statesman

নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনের আগে গ্রেপ্তার হয়েছেন কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান। প্রায় দুই দশক পুরনো একাধিক মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে অভিযোগ। সেই গ্রেপ্তার এবং পরবর্তী পুলিশি তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন তিনি। ভবিষ্যতে তাঁকে যাতে অযথা হয়রানির মুখে পড়তে না হয়, সেই আবেদনও জানানো হয়েছে আদালতে।

মিলন প্রধানের হয়ে হাইকোর্টে সওয়াল করেন আইনজীবী অয়ন ভট্টাচার্য। তাঁর দাবি, গত ১৮ সেপ্টেম্বর প্রায় ১৯ বছর আগের পাঁচটি মামলায় মিলনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর পাশাপাশি, তাঁর বিরুদ্ধে আরও কোনও মামলা রয়েছে কি না, থাকলে সেগুলির তথ্য আদালতের সামনে প্রকাশ করার আবেদন জানানো হয়েছে।

আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন হওয়ার কথা। ভোটের ঠিক আগে প্রার্থীর গ্রেপ্তারিকে ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। আইনজীবী মঙ্গলবারই মামলাটির শুনানির আবেদন জানিয়েছেন। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য মঙ্গলবার শুনানির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন।


পুলিশের বক্তব্য, মিলন প্রধানের বিরুদ্ধে আদালতের জারি করা চারটি জামিন-অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। তার মধ্যে তিনটি মামলা অস্ত্র আইনের আওতায় রয়েছে বলে পুলিশের দাবি। শুক্রবার চণ্ডীপুর থানা এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। শনিবার তাঁকে হলদিয়া আদালতে হাজির করানো হয়।

তদন্তকারীদের দাবি, মিলনের বিরুদ্ধে খুন, খুনের চেষ্টা, খুনের উদ্দেশ্যে অপহরণ, প্রমাণ লোপাট, অনধিকার প্রবেশ এবং অস্ত্র ব্যবহার করে অশান্তি ছড়ানোর মতো অভিযোগে মামলা রয়েছে। পুলিশের দাবি, মামলাগুলি ২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময় দায়ের করা হয়েছিল। নন্দীগ্রাম থানায় তিনটি এবং খেজুরি থানায় একটি মামলা হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। তদন্তকারীদের আরও দাবি, ২০০৭ সালের পর থেকে আইনি প্রক্রিয়ার বাইরে ছিলেন মিলন।

অন্যদিকে, মিলনের আইনজীবীর বক্তব্য এত বছর আগের মামলায় ভোটের আগে গ্রেপ্তার এবং পুলিশের তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তাঁর পক্ষ থেকে ভবিষ্যতে পুলিশি হয়রানি বন্ধে আদালতের সুরক্ষা চাওয়া হয়েছে। এদিকে, কংগ্রেস প্রার্থীকে কালীঘাট তৃণমূলের সমর্থনের ঘোষণার পরই গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটায় রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠেছে। তবে সেই অভিযোগের সত্যতা নিয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায়নি।

আরও পড়ুন: তৃণমূলের তিন অ্যাকাউন্টে আপাতত তালা নয়, বহাল অন্তর্বর্তী নির্দেশ

আদালতে মঙ্গলবারের শুনানিতে মিলন প্রধানের বিরুদ্ধে থাকা পুরনো মামলাগুলির প্রকৃতি এবং তাঁর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত কী নির্দেশ দেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।