কলেজের পরিচালন সমিতিতে বিধায়ক-সাংসদরা, মহাবিদ্যালয়ের সভাপতি পদের বিজ্ঞপ্তি জারি

Bikash Bhavan Photo-SNS

রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ফেরানোর বড় বার্তা আগেই দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এবার সেই কথা রাখতে চলেছেন তিনি। উচ্চশিক্ষা দপ্তরের নতুন বিজ্ঞপ্তি সামনে আসতেই সেটা সামনে চলে এলো। আগের শাসকদলের বিরুদ্ধে উঠে আসা গত এক দশকের অনিয়মের যে অভিযোগ দূর করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল সেটা এবার ঠিক করতে নতুন তালিকায় নিয়ে আসা হলো বিজেপির সাংসদ, বিধায়ক এবং পরিচিত মুখদেরই। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় এসেই ভেঙে দেওয়া হয়েছিল কলেজের গর্ভনিং বডি। বসানো হয়েছিল প্রশাসক। এবার প্রশাসক সরানো হলো। শনিবার শিক্ষাদপ্তরের পক্ষ থেকে বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানানো হলো, এবার গর্ভনিং বডির প্রেসিডেন্ট পদে থাকবেন বিধায়ক-সাংসদরা। কোন কলেজের গর্ভনিং বডির প্রেসিডেন্ট কে, সেই তালিকাও প্রকাশ করা হয়েছে।

এবার ২৪৭টি কলেজের গভর্নিং বডির জন্য নতুন সভাপতি মনোনীত করা হয়েছে। এই তালিকায় বিজেপির সাংসদ-বিধায়কদের জায়গা দেওয়া হয়েছে। বিরোধীদের জেতা বিধানসভা কেন্দ্রেও শাসকদলের নেতাদেরই বসানো হয়েছে গভর্নিং বডির সভাপতির দায়িত্বে। বামফ্রন্ট এবং তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর স্কুল-কলেজগুলিতে নিজেদের নেতা বসিয়ে দাদাগিরি করত বলে অভিযোগ। সেখানেই স্বচ্ছতা আনতে ক্ষমতায় এসে গভর্নিং বডি ভেঙে দিয়েছিল বিজেপি। খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, গর্ভনিং বডিতে আর থাকবেন না কোনও রাজনৈতিক প্রতিনিধি। এতে শিক্ষা থেকে রাজনীতিকে আলাদা করা সম্ভব হবে।

কিন্তু সেখানে দেখা গেল, কলেজগুলির গভর্নিং বডিতে বিধায়ক-সাংসদরা জায়গা পেলেন। এই নিয়ে সমালোচনা শুরু হলেও শিক্ষাব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে গেলে এবং অগ্রগতি ঘটাতে গেলে এটা করতেই হতো। কারণ রাজ্যে ডবল ইঞ্জিন সরকার গড়ে উঠেছে। তাই কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয়ে শিক্ষাব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে গেলে বিধায়ক-সাংসদ গভর্নিং বডিতে রাখা অত্যন্ত সঠিক পদক্ষেপ বলেই মনে করছেন অনেকে। সাংসদদের মধ্যে ডঃ সুকান্ত মজুমদার (কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী)-বালুরঘাট কলেজ এবং গঙ্গারামপুর কলেজ, শান্তনু ঠাকুর-গোবরডাঙা হিন্দু কলেজ এবং শ্রীচৈতন্য কলেজ হাবড়া, সৌমিত্র খাঁ-ওন্দা থানা মহাবিদ্যালয় এবং রামানন্দ কলেজ, সৌমেন্দু অধিকারী-প্রভাত কুমার কলেজ (কাঁথি), অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়-মহিষাদল রাজ কলেজ, রাজু বিস্তা-বিজনবাড়ি কলেজ, সাউথ ফিল্ড কলেজ এবং শিলিগুড়ি কলেজ অফ কমার্স, খগেন মুর্মু-চাঁচল কলেজ এবং হরিশ্চন্দ্রপুর কলেজ, জগন্নাথ সরকার-চাকদহ কলেজ এবং কল্যাণী মহাবিদ্যালয় এবং মনোজ টিগ্গা-শামুকতলা সিধু কানু কলেজ এবং বিবেকানন্দ কলেজ (আলিপুরদুয়ার)।


তাছাড়া শনিবার শিক্ষাদপ্তরের পক্ষ থেকে জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে বিধায়কদের নামও রয়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, বিধানসভার অধ্যক্ষ রথীন্দ্র বোস-কোচবিহার কলেজ, অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত-আশুতোষ কলেজ, যোগমায়া দেবী কলেজ এবং শ্যামাপ্রসাদ কলেজ, সজল ঘোষ-বঙ্গবাসী কলেজ, বঙ্গবাসী ইভনিং কলেজ এবং বঙ্গবাসী মর্নিং কলেজ, শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়-বিদ্যাসাগর কলেজ (ডে), বিদ্যাসাগর কলেজ ফর উইমেন এবং বিদ্যাসাগর মেট্রোপলিটন কলেজ, কৌস্তভ বাগচী-সুরেন্দ্রনাথ ল কলেজ এবং ব্যারাকপুর রাষ্ট্রগুরু সুরেন্দ্রনাথ কলেজ,
তরুনজ্যোতি তিওয়ারি-গুরুদাস কলেজ এবং সরোজিনী নাইডু কলেজ ফর উইমেন, রীতেশ তিওয়ারি-মহারাজা মণীন্দ্র চন্দ্র কলেজ, মহারাজা শ্রীশচন্দ্র কলেজ এবং মহারাণী কাশীশ্বরী কলেজ, অগ্নিমিত্রা পাল-আসানসোলের বানওয়ারিলাল ভালোটিয়া (বিএলবি) কলেজ, শংকর ঘোষ-শিলিগুড়ি কলেজ এবং সূর্য সেন মহাবিদ্যালয়, রুদ্রনীল ঘোষ-ডঃ কানাইলাল ভট্টাচার্য কলেজ এবং নরসিংহ দত্ত কলেজ
হিরণ্ময় চট্টোপাধ্যায়-শ্যামপুর সিদ্ধেশ্বরী মহাবিদ্যালয়, ইন্দ্রনীল খাঁ-কিশোর ভারতী ভগিনী নিবেদিতা কলেজ, রবিন মুখার্জি কলেজ এবং সরশুনা কলেজ, রূপা গাঙ্গোপাধ্যায়-সোনারপুর মহাবিদ্যালয়, জিতেন্দ্র তিওয়ারি-পাণ্ডবেশ্বর কলেজ এবং অশোক দিন্দা-শেঠ আনন্দরাম জয়পুরিয়া কলেজ।