গত মঙ্গলবারই বাঁকুড়ায় ৭ জেলা নিয়ে বৈঠক করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে সুন্দরবনের উন্নয়ন নিয়েও বিস্তারিত রূপরেখার কথা উল্লেখ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এই দুই ক্ষেত্রে উন্নয়নের স্বার্থে আগামী তিন মাসের জন্য একটি স্ট্র্যাটেজিও নির্ধারণ করেন। স্বাধীনতা দিবসে এবার সুন্দরবন নিয়ে বিশেষ পরিকল্পনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী বলে সূত্রের খবর। ৮০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে এক অন্যরকম নজির সৃষ্টি হতে চলেছে সুন্দরবনে। শহরের রাজপথ ছেড়ে আগামী ১৫ আগস্ট মেঠো সুন্দরবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করতে পারেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলে জানা যাচ্ছে।
এদিকে নবান্ন থেকে যদিও এখনও চূড়ান্ত কোনও সফরসূচি অথবা সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। কিন্তু বারুইপুর পুলিশ জেলায় মুখ্যমন্ত্রী আসছেন ধরে নিয়ে প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। যদি আসেন তাহলে সুন্দরবনের কোথায় যাবেন মুখ্যমন্ত্রী? গোসাবা অথবা বাসন্তীর ঝড়খালি যাওয়া নিয়ে কানাঘুষো চর্চা শুরু হয়েছে। সুন্দরবনের কোনও দ্বীপে স্বাধীনতা দিবসের দিন জাতীয় পতাকা উত্তোলন করবেন শুভেন্দু অধিকারী বলে সূত্রের খবর। কলকাতার রেড রোডে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান শেষ করে সুন্দরবনের কোনও একটি দ্বীপে তিরঙ্গা যাত্রা এবং জাতীয় পতাকা উত্তোলন করতে চান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এমনই তথ্য মিলেছে। তাঁর এই আগ্রহ প্রকাশের পর সুন্দরবনের কোন দ্বীপে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা যেতে পারে সেটা নিয়ে তৎপরতা শুরু হয়েছে।
অন্যদিকে পুলিশের একটি সূত্রে খবর, হেলিকপ্টারে করে ঝড়খালিতে আসার কথা রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর। তাই হেলিপ্যাড হবে সেখানে। নদীপথে নেতিধোপানি বা দোবাকি জঙ্গল সংলগ্ন একটি জনবসতিহীন দ্বীপে যেতে পারেন শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে পতাকা উত্তোলন করার পরিকল্পনা আছে তাঁর। পুলিশ সব জায়গাই খতিয়ে দেখছে। নিরাপত্তা-সহ নানা দিক ভাল করে খোঁজখবর করা হচ্ছে। এই বিষয়ে গোসাবার বিজেপি বিধায়ক বিকর্ণ নস্কর বলেন, ‘আমরাও মুখ্যমন্ত্রীর আসার কথা শুনেছি। সেই মতো প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে। যদিও এখনও নিশ্চিতভাবে কিছু জানানো হয়নি।’
তাছাড়া মুখ্যমন্ত্রী কোনও জায়গায় সফরের আগে তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ আধিকারিকদের সংশ্লিষ্ট জায়গা নিয়ে বৈঠক করতে হয়। এমনকী অন্যান্য বিষয় খতিয়ে দেখতে হয়। এই নিয়ে এখনও সেরকম কিছু দেখা যায়নি। তবে বারুইপুর পুলিশ জেলা থেকে পদস্থ আধিকারিকরা ঘুরে দেখছেন নানা জায়গা। রাজ্য পুলিশের এডিজি কোস্টাল এবং এডিজি দক্ষিণবঙ্গ সুন্দরবন লাগোয়া দ্বীপগুলিতে পরিদর্শন করেছেন। দুই পুলিশ শীর্ষকর্তার পরিদর্শনের পর জায়গা চূড়ান্ত করা হবে। তারপরই এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এই অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের পক্ষ থেকে বলে সূত্রের খবর। মুখ্যমন্ত্রীর কর্মসূচির জন্য গোসাবা কাছারি মাঠ এবং সুন্দরবন ব্যাঘ্র প্রকল্পের ঝিলা ফরেস্ট ক্যাম্প এলাকা খতিয়ে দেখা হয়েছে। এই এলাকা পরিদর্শন করেন-এডিজি (সাউথ বেঙ্গল) রাজেশ প্রসাদ সিং, এডিজি (কোস্টাল) কুশমা কর, বারুইপুর পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার।