কালীপুজো-ছটপুজো নিয়ে বাড়তি সতর্কতা রাজ্যের, জরুরি বৈঠক ডাকলেন মুখ্যমন্ত্রী

CM Suvendu Adhikari Photo-SNS

চোরবাগানে দুর্গাপুজোর সময় যে দুর্ঘটনা ঘটেছে সেটা এখনও রাজ্যের মানুষ ভুলতে পারেনি। তাই আসন্ন কালীপুজো এবং ছটপুজোয় কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটুক তা চান না মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বরং বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে চলেছে রাজ্য প্রশাসন। এই উৎসবের মরশুমে যাতে কোনও অঘটন না ঘটে তার জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করতে চলেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে পুলিশ কর্তাদের পাশাপাশি মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব-সহ শীর্ষ অফিসাররা থাকবেন বলে সূত্রের খবর। আগামী বুধবার নবান্নে এই বৈঠক হবে বলে জানা গিয়েছে। এই বৈঠক থেকে উপযুক্ত পদক্ষেপ করতে বার্তা দেবেন মুখ্যমন্ত্রী।

এদিকে নবান্ন সূত্রে খবর, দুটি প্রধান উৎসব যাতে শান্তিপূর্ণভাবে হয় এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা সঠিকভাবে নেওয়া হয় তার জন্যই বৈঠক ডাকা হয়েছে। আগামী ৮ নভেম্বর কালীপুজো। এই কালীপুজোকে ঘিরে যেমন বারাসত-সহ উত্তর ২৪ পরগনায় মানুষের ঢল নামে তেমন শহরে নানা কালীপুজো মণ্ডপে ভিড় বাড়ে। এই ভিড় সামলানোর কৌশল নিয়ে আলোচনা করতেই জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে। একাধিক জেলার জেলাশাসক, পুলিশ সুপার এবং শীর্ষ প্রশাসনিক কর্মকর্তা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই বৈঠকে অংশ নেবেন। সেখানে উপযুক্ত পথ বাতলে দেওয়া হবে। চোরবাগান থেকে শিক্ষা নিয়েই নিরাপত্তা আঁটোসাঁটো করা হবে। বাড়তি পুলিশ মোতায়েন যে করা হবে সেটা ইতিমধ্যেই স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে।

অন্যদিকে উত্তর ২৪ পরগনার বারাসত, নৈহাটি এবং নদিয়া জেলার কৃষ্ণনগরে ধুমধাম করে কালীপুজোর আয়োজন করা হয়ে থাকে। এই জায়গাগুলিতে পুজোর দিনগুলিতে বিপুল জনসমাগম হয়ে থাকে। কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, দুর্গাপুর, আসানসোল-সহ একাধিক জায়গায় ছটপুজোতেও মেতে ওঠেন অবাঙালিরা। সেখানে যাতে কোনও খারাপ ঘটনা না ঘটে তার জন্য সবরকম ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আগে থেকে সরেজমিনে পরীক্ষা করার বার্তা দেওয়া হবে এই বৈঠক থেকে বলে সূত্রের খবর। কোন কোন বিষয়ে বাড়তি নজর দিতে হবে সেটাও জানিয়ে দেওয়া হবে।


তাছাড়া বড় কালীপুজো মণ্ডপগুলোতে প্রবেশ এবং প্রস্থানের পথ, জরুরি পরিষেবা, পর্যাপ্ত আলোকসজ্জার ক্ষেত্রে যেমন খেয়াল করতে হবে তেমন ছটপুজোর ঘাটগুলোতে দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি সংক্রান্ত বিষয়ে এই বৈঠকে আলোচনা হবে বলে জানা গিয়েছে। বিপুল ভিড়ের মাঝেও যাতে কোনও দুর্ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে পুলিশ প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, দুর্গাপুজোর প্রথম সপ্তমীর দিন উত্তর কলকাতার চোরবাগান সার্বজনীনের দুর্গাপুজো মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় ১৯ জনের। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।