প্রধানমন্ত্রী লালকেল্লা থেকে যে কথা বলেছিলেন এবার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর নিশানায় উঠে এল তারা। দেশবিরোধী শক্তি বলে তোপ দেগেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাই তো শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রীর নিশানায় উঠে এল, ‘দিমাগী নকশাল’রা। আবার এদিনই আইনজীবী তথা সিপিএম নেতা বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যকে দিলেন কড়া বার্তা। তাঁর বাড়িতে হামলা চালিয়েছে হিন্দুত্ববাদীরা বলে তদন্তের আগে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেছিলেন বিকাশবাবু। তা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এমন ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ সমাজমাধ্যমে পোস্ট গোটা সনাতনী হিন্দু সমাজকে অপমান করেছে বলেই দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কে বা কারা হামলা করেছে যেমন তদন্ত হবে, তেমনই সনাতনের ‘অপমানে’ বিকাশরঞ্জনের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
এদিকে দেশজুড়ে আন্দোলন শুরু হয়েছে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে। সেখানে সব বিরোধী রাজনৈতিক দল যেমন সামিল হয়েছে তেমন মাঠে নেমে পড়েছে ককরোচ জনতা দলও। এই পরিস্থিতিতে দেশবিরোধী শক্তির দিন শেষের হুঙ্কার দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তা, ‘কমিউনিস্ট লোক, দিমাগী নকশাল, দেশবিরোধী শক্তিদের চিনে চিনে ধ্বংস করতে হবে। এখন ঘরে বসে থাকার সময় নয়, রাস্তায় নেমে চিনে চিনে শিকড় উপড়ে ফেলুন। যে কাশ্মীরের মাটিতে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যু, সেই কাশ্মীর আমাদেরই। কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি!কী আজাদি? আজাদি আজিদি মিছিল চলবে না। সব কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে বন্দে মাতরমের আওয়াজ উঠবে।’
অন্যদিকে বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের বাড়িতে বৃহস্পতিবার মোটরবাইকে করে বেশ কয়েকজন যুবক এসে হামলা চালায় বলে অভিযোগ। মুখ ঢাকা ছিল তাদের। নম্বর প্লেটও কালো কাপড় দিয়ে ঢাকা ছিল। তাই কাউকে চেনা সম্ভব হয়নি। সিপিএম নেতার অভিযোগ, হঠাৎ বাড়ি লক্ষ্য করে একের পর এক ইট, মদের বোতল ছুঁড়তে থাকে তারা। ভেঙে দেওয়া হয় বাড়ির জানালার কাচ। একেবারে পরিকল্পনা করে এই হামলার করা হয়েছে। এই হামলার নেপথ্যে আছে হিন্দুত্ববাদী গুণ্ডারা। সমাজমাধ্যমে এমনই পোস্ট করেছিলেন বিশিষ্ট আইনজীবী। এই ঘটনা নিয়ে এদিন মুখ্যমন্ত্রী পাল্টা বলেন, ‘এই হামলার ঘটনার তদন্ত অবশ্যই হবে। আমার নির্দেশে পুলিশ হামলাকারীকে গ্রেপ্তারও করেছে। তবে উনি কীভাবে সমাজমাধ্যমে লিখলেন হিন্দুত্ববাদীরা হামলা করেছে? গোটা হিন্দু সমাজের অপমান করেছেন। তাই তাঁর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা হবে। আমি ছাড়ার পাত্র নই। গেরুয়া, সনাতন, হিন্দুত্ব, রাষ্ট্রবাদীর বিরুদ্ধে আঙুল তুললে তাদের সবক শেখাতেই হবে।’
তাছাড়া রেজিনগর এবং নন্দীগ্রামের ফলাফল প্রকাশ হয়েছে। তাতে বিজেপির ব্যাপক সাফল্য মিলেছে। সেটাকে সামনে রেখেই শুভেন্দু অধিকারী কড়া বার্তা দিয়েছেন। এই মন্তব্যের জেরে ইতিমধ্যেই আইনজীবীর বিরুদ্ধে জোড়া এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। এই হামলার ঘটনায় এখনও পর্যন্ত একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে মুখ্যমন্ত্রী কড়া ভাষায় বলেন, ‘দেশ বিরোধী শক্তিদের চুন চুন কে উপড়ে ফেলব। রেজিনগর, নন্দীগ্রাম যা করে দেখাল সেটাই দেশের আওয়াজ। এবিভিপির সঙ্গে থেকে ন্যাশনাল এডুকেশন সিস্টেম বাস্তবায়ন করবে সরকার।’