প্রাক্তন বিধায়কদের জন্য বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রাক্তন বিধায়কদের আর্থিক সুরক্ষা এবং সাধারণ মানুষের কাছে পরিষেবা পৌঁছে দিতে বিধানসভায় একাধিক পদক্ষেপের কথা জানালেন তিনি। বুধবার প্রাক্তন বিধায়কদের চিকিৎসা খরচের জন্য মাসিক সহায়তা ৬ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার টাকা করার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। একইসঙ্গে প্রত্যেকটি বিধানসভা এলাকায় ‘নেতাজি সুভাষ সেবাকেন্দ্র’ খোলার উদ্যোগের কথাও ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আবার আসামের বন্যা দুর্গতদের জন্য আর্থিক সাহায্যও ঘোষণা করেছেন তিনি। যদিও আসামে ডবল ইঞ্জিন সরকার।
এদিকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রাক্তন বিধায়কদের অর্থনৈতিক সুরক্ষা দেয়নি গত সরকার। নিষ্ঠা, সততার সঙ্গে অনেক বিধায়ক নিজেদের কার্যকাল শেষ করেছেন। মহিষাদলের বিধায়ক দীনবন্ধুবাবু এখনও বাজার করেন। সাইকেলে ঘুরে বেড়ান। সুভাষ নস্কর এখনও রেলওয়ে স্টেশনে বসে মানুষের সঙ্গে কথা বলেন। পাশের বাজারে বাজার করেন। এই অবস্থা দেখে প্রাক্তন বিধায়কদের চিকিৎসা ভাতা বাড়ানোর কথা ঘোষণা করেন শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে পরের সেশনে আইন আনতে হবে। কার্যকর হবে আগস্ট মাস থেকে। পরে এরিয়ার-সহ প্রাক্তন বিধায়করা পাবেন। দীর্ঘদিন ধরে বিধায়কদের নানা সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হলেও প্রাক্তন বিধায়কদের জন্য সেভাবে আর্থিক সুরক্ষার ব্যবস্থা করা হয়নি। তাঁদের অবসরের পরেও সম্মানের সঙ্গে জীবনযাপনের সুযোগ থাকা প্রয়োজন।’
অন্যদিকে প্রাক্তন বিধায়কদের আর্থিক সুরক্ষা ও সম্মান জানাতে বড় পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সততার সঙ্গে কাজ করা বহু প্রবীণ প্রাক্তন বিধায়ককে দেখেছি। বর্ষীয়ান প্রাক্তন বিধায়কদের প্রতি সরকারের কিছু দায়িত্ব রয়েছে। সেই কথা মাথায় রেখেই প্রাক্তন বিধায়কদের মাসিক চিকিৎসা ভাতা ৬ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার টাকা করতে চাইছি। আর কেন্দ্রীয় ও রাজ্য স্তরের দলীয় নেতৃত্বের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, দলের প্রত্যেক বিধায়ককে নিজের এলাকায় একটি করে সেবাকেন্দ্র খুলতে হবে। সেখানে যাঁরা দলকে ভোট দিয়েছেন এবং যাঁরা দেননি—দু’পক্ষের মানুষই পরিষেবা পাবেন। সেবাকেন্দ্রের নাম রাখতে হবে ‘নেতাজি সুভাষ সেবাকেন্দ্র’। রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর থেকে দেওয়া নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর একটি ছবি ওই সেবাকেন্দ্রে রাখতে হবে।’
তাছাড়া মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই সেবাকেন্দ্র চালু করা হলে রাজ্য সরকার থেকে ৩০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। রাজনৈতিক কর্মসূচির বাইরে বিধায়কদের স্থানীয় স্তরে মানুষের সঙ্গে আরও সরাসরি যুক্ত করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের পরিষেবা পাওয়ার সুযোগ বাড়াতেই এই উদ্যোগ। আসামের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, প্রায় ১০০ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তাই তাদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে ১০ কোটি টাকা দেওয়া হবে।