নয়া বিজেপি সরকারের কাজ নিয়ে বিরোধীরা নানা সমালোচনা করে চলেছেন। পাঁচ মাসেই এই সরকারের শেষের শুরু হয়ে গিয়েছে বলে বিরোধীদের দাবি। বিশেষ করে চোরবাগান বিপর্যয়ের পর বিরোধীরা এই দাবি বেশি করে করছেন। যার জেরে এবার মুখ্যমন্ত্রী বড় চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন বিরোধীদের দিকে। বিধানসভায় শক্তিপরীক্ষা হলে ২৭৫ ভোট পাবে বিজেপি। বিরোধী শিবিরের ৬৪ জন বিধায়কও বিজেপির পক্ষেই হাত তুলবেন বলে দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপান-উতোর শুরু হয়েছে। পাল্টা আক্রমণ করেছে তৃণমূল এবং সিপিএম।
এদিকে দুর্গাপুজো শেষ হতেই বিজয়া দশমীতেই মুখ্যমন্ত্রী কার্যত রাজনীতির লড়াইয়ের ময়দানে বিরোধীদের নামিয়ে আনলেন। যা নিয়ে পাল্টা জবাবও দিয়েছে বিরোধীরা। সিপিএমের দাবি, মুখ্যমন্ত্রীর এই কথার সূত্র ধরেই বিরোধী দলের বিরুদ্ধে মামলা করবে। মমতা তৃণমূলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা প্রথম থেকেই এই কথা বলে আসছিল। মুখ্যমন্ত্রী নিজেই সেই ইঙ্গিত দিয়ে দিলেন। বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রী কেন এমন কথা বললেন সেটা তিনিই বলতে পারবেন। এই বিষয়ে কোনও ব্যাখ্যা তাঁদের কাছে নেই। মুখ্যমন্ত্রীর ছোঁড়া চ্যালেঞ্জ কি মেনে নেবেন বিরোধীরা? উঠছে প্রশ্ন।
অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, বিজেপি সমাজমাধ্যমে ভর করে জেতেনি। সনাতনীদের সরকার গঠন হয়েছে। ৪৯ বছরের আবর্জনা তো ৬ মাসে পরিষ্কার করা যাবে না। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, ‘সজল ঘোষ জিতেছে কি সমাজমাধ্যমের দৌলতে? বিজেপি তো ২০৯ হয়ে গিয়েছে। কাল যদি ফ্লোর টেস্ট হয় তাহলে আমি ২৭৫টা আসন পাবো। ওদের মধ্যে ৬৪ জনও তো আমার পক্ষে হাত তোলার জন্য বসে আছে। আমাদের সনাতনীদের সরকার গঠন হয়েছে। আমরা যা করার করব। ৪৯ বছরের আবর্জনা আপনি তো ৬ মাসে পরিষ্কার করতে পারবেন না। মানুষ ভরসা করেছে, পরিবর্তন হবে।’ এই বক্তব্যের পাল্টা তৃণমূলের বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, ‘আমরা যা যা বলেছি, উনি সেটা প্রমাণ করে দিলেন। কিছু বিধায়ককে রেখেছেন, আমরা বলছি, এরা বিজেপির বি-টিম। আমরা বলছি বিধানসভার বিরোধী দল বিজেপির দালাল। মুখ্যমন্ত্রী নিজের কথাতেই সেটা প্রমাণ করে দিলেন।’
তাছাড়া মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের পর অন্যান্য বিরোধী দলও আক্রমণ করতে শুরু করেছে। চাপে পড়ে গিয়ে ঋতব্রত শিবিরের বিধায়ক আখরুজ্জামান বলেন, ‘আমাদের যদি উনি ধরে থাকেন, আমরা বিজেপিকে কোনওদিন সমর্থন করব না। আমাদের আইডেন্টিটি, লড়াই বিজেপির বিরুদ্ধে। তাই বিজেপির মুখ্যমন্ত্রীকে সমর্থনের কোনও প্রশ্নই ওঠে না।’ সিপিএম নেতা শতরূপ ঘোষের বক্তব্য, ‘আদালত বলে দিয়েছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় প্রোবেশনারি বিরোধী দলনেতা। শুভেন্দু অধিকারীর এই মন্তব্যকে আমরা আদালতের নোটিসে আনব। শুভেন্দু অধিকারীর এই বক্তব্যকে প্রমাণ হিসাবে তুলে ধরব। সত্যিকারের বিরোধী বিধায়কদের মধ্যে থেকে যেন বিরোধী দলনেতা বেছে নেওয়া হয়। এই দাবি নিয়ে আমরা আদালতে যাব।’ কংগ্রেস নেতা আশুতোষ চট্টোপাধ্যায়ের কথায়, ‘বিরোধীকে একেবারে শূন্য করে দেওয়ার যে রাজনীতি, সেটা করছে। এরা একেবারেই শূন্য করে দেওয়ার রাজনীতি করছে। এই রাজনীতিটা গণতন্ত্রের জন্য খুব একটা সুখকর নয়।’