বিধানসভার অধিবেশনে বুধবার স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দপ্তরের বাজেট আলোচনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠল রাজ্য-রাজনীতি। একুশে জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে নতুন তৃণমূলের জন্ম এবং ৩১ সালে হিসাব নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপিকে বাংলা ছাড়া করার চ্যালেঞ্জ ছুঁড়েছেন। সেখানে বিধানসভায় দাঁড়িয়ে এবার নাম না করে অভিষেককে সরাসরি কড়া চ্যালেঞ্জ ছুঁড়লেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর অধিকারী।
এদিকে বিধানসভায় দাঁড়িয়ে একের পর এক সুর চড়িয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে তিনি একবারও অভিষেক বন্দ্যোপাধায়ের নাম নেননি। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘আড়াই হাজার লোক নিয়ে বড় বড় কথা! আমি একটা গ্রাম পঞ্চায়েতে মিটিং করলে এর থেকে চারগুণ লোক হয়। ক্ষমতা থাকলে ডায়মন্ডহারবারে দাঁড়ান।’ এই ঘটনার সূত্রপাত বিধানসভায় পুলিশ বাজেট আলোচনা চলাকালীন বিরোধী শিবিরের প্রতিনিধি আলিফা আহমেদকে বলতে অনুরোধ করা হয়। তখন তিনি অভিযোগ তোলেন যে, তাঁদের পাঠানো বক্তাদের নাম বাদ দিয়ে অন্য নাম ডাকা হচ্ছে। ক্ষোভ উগরে দিয়ে আলিফা বলেন, ‘যাঁরা একটা বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করে প্রস্তুতি নিয়ে এসেছেন, তাঁদের ডাকা হচ্ছে না কেন?’
অন্যদিকে আলিফার অভিযোগ শুনে জবাব দেন মুখ্যমন্ত্রী। নিয়ম স্মরণ করিয়ে দিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘আমি পাঁচ বছর বিরোধী দলনেতা ছিলাম। নিয়ম হলো, বিরোধী দলের মুখ্যসচেতক একটি তালিকা শাসকদলের মুখ্যসচেতকের কাছে জমা দেবেন। আর সেই তালিকা অনুযায়ী স্পিকার বক্তাদের ডাকবেন। এখন আপনাদের ঘরের মধ্যে যদি কোনও ঝগড়া থেকে থাকে সেটা নিজেদের ঘরে মেটান। মুখ্যমন্ত্রী বা বিধানসভা এই ঝামেলা মেটাতে পারবে না। গতকাল বড় বড় আওয়াজ দেওয়া হয়েছে। বলা হচ্ছে নোটবুকে লিখে রাখতে। ৩১ সালে হিসাব নেবে! ও ৩১ সালে কোথায় থাকে আমি দেখব। সাহস থাকলে ডায়মন্ডহারবারে দাঁড়াক না! আড়াই হাজার লোক নিয়ে বড় বড় কথা! আমি একটা গ্রাম পঞ্চায়েতে মিটিং করলে এর থেকে চারগুণ লোক হয়।’
তাছাড়া একুশে জুলাইয়ের সমাবেশে ভিড় ভালই হয়েছিল। সেখান থেকেই বিজেপিকে নিশানা করে একের পর এক আক্রমণ করেছিলেন ডায়মন্ডহারবারের সাংসদ। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ‘ফুটপাতে থাকব, লড়াই করে বিজেপিকে হারাব। দেখি ওরা কী করতে পারে। যে কোনও মূল্যে বিজেপিকে হারাবই। ফুটপাতে থাকব, লড়াই করে বিজেপিকে হারাব। দেখি ওরা কী করতে পারে।’ আর এইসব কথার প্রেক্ষিতেই জবাব দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভার ফ্লোর থেকে ডায়মন্ডহারবারের প্রসঙ্গ টেনে পাল্টা আক্রমণ শানালেন বলে মনে করা হচ্ছে।