পড়ুয়াদের হস্টেল বাবদ বরাদ্দ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত, দমকলে ১৪০০ পদে নিয়োগের সিদ্ধান্ত মুখ্যমন্ত্রীর

CM Cabinet Meeting Photo-SNS

বুধবার রাজ্যের মন্ত্রীসভার বৈঠকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজ্যে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ও বিপর্যয় মোকাবিলা পরিকাঠামোকে নতুন করে সাজিয়ে তুলতে বড় পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। এদিন রেড রোডে আনুষ্ঠানিকভাবে ২২৬টি নতুন ও আধুনিক ক্ষমতার ফায়ার টেন্ডার দমকল বাহিনীর হাতে তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ওই সঙ্গেই দমকল দপ্তরে কর্মীসঙ্কট দূর করতে একগুচ্ছ নতুন নিয়োগের ঘোষণা করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী জানান, পুলিশ রিক্রুটমেন্ট বোর্ডের মাধ্যমে অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে দমকলে ১,৪০০টি শূন্যপদ পূরণ করা হবে। আগামী একবছরের মধ্যে আরও ২,৫০০ নতুন পদ তৈরি করা হবে।

এখানেই শেষ নয়, এই নিয়োগের বিষয়ে মন্ত্রীসভার বৈঠকেও আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সেখানে সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্তে সিলমোহর পড়েছে। তপসিলি জাতি, উপজাতি সম্প্রদায়ের পড়ুয়াদের হস্টেল বাবদ বরাদ্দ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রীসভার বৈঠকে ১৮০০ টাকা থেকে বরাদ্দ বাড়িয়ে ৩৩০০ টাকা করা হয়েছে। আদিবাসীদের বসতজমির পাট্টা দেওয়ার বিষয়েও প্রস্তাব রাখা হয়েছে। তার ফলে তাঁরা কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকারের নানা প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। এই প্রস্তাব মন্ত্রীসভায় রেখেছেন মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু। রাজ্যে পৃথক আয়ুষ দপ্তর তৈরির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুরের নিমতৌড়িতে নতুন সংশোধনাগার তৈরির সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

এদিন মন্ত্রীসভার বৈঠকেই স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় এবং পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালকে দপ্তরে বসার বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। রাস্তা বিতর্কের মধ্যেই দুই মন্ত্রীকে এমনই বার্তা দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী বলে সূত্রের খবর। দুই মন্ত্রীকে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ, ‘এবার দপ্তরে বসে কাজ করুন। দপ্তরে বসে মন দিয়ে কাজ করুন।’ এই দুই মন্ত্রীকে নিয়ে নানা বিতর্ক তৈরি হতেই এমন কথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী বলে মনে করা হচ্ছে। সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রত্যেক দপ্তরে গড়ে ১০ হাজার কর্মী নিয়োগ করে দ্রুত পরিষেবা মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। কলকাতা পুলিশে ২,০০০ এবং রাজ্য পুলিশে ৬,০০০ কর্মী নিয়োগ হবে। আপাতত বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন। এই নিয়োগ দ্রুত হবে।


তাছাড়া বাবা সাহেব আম্বেদকর বিশ্ববিদ্যালয় নিয়েও মন্ত্রীসভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। হাওড়া পুরসভার ওয়েভার স্কিম পাশ করা হল মন্ত্রীসভায়। বকেয়া সম্পত্তি করের সুদ এবং পেনাল্টি ১০০ শতাংশ ছাড় করে দেওয়া হল মন্ত্রীসভার বৈঠকে। স্কুলশিক্ষা দপ্তরেও নিয়োগ করা হবে আগামী মার্চ মাসের মধ্যে। স্কুলশিক্ষা দপ্তরের অধীনেও শিক্ষক এবং শিক্ষাকর্মী মিলিয়ে ৩৪ হাজার নিয়োগের কথা এই বৈঠকে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।