অলিম্পিকে সোনা জিতলেই মিলবে ১ কোটি টাকা, প্রাক্তনদের মাসিক অনুদানের সিদ্ধান্ত মুখ্যমন্ত্রীর

CM Suvendu Adhikari Photo-IANS

ক্রীড়াজগতে এবার বড় সিদ্ধান্ত নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পশ্চিমবঙ্গকে ক্রীড়া ক্ষেত্রে দেশের মধ্যে একটা উচ্চস্থানে নিয়ে যেতে চান তিনি। আর তাই রাজ্যের একাধিক ক্রীড়াবিদদের উৎসাহিত করতে এবং রাজ্যকে ক্রীড়ার পীঠস্থান গড়ে তুলতে বড় ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। এবার চালু হতে চলেছে শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী ক্রীড়া সহায়তা প্রকল্প। এই প্রকল্পের অধীনে ক্রীড়াক্ষেত্রে জাতীয় এবং রাজ্যস্তরের প্রতিযোগিতা আয়োজন ও অংশগ্রহণের জন্য সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। খেলাধুলায় পুরষ্কার ও সহায়তার পরিমাণ বাড়ানো নিয়েও বিশেষ প্রস্তাব দিয়েছে রাজ্য সরকার।

ক্ষমতায় আসীন হওয়ার পরই রাজ্যের ক্রীড়াক্ষেত্রকে আরও শক্তিশালী করার বার্তা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এবার ক্রীড়াক্ষেত্রে কৃতীদের জন্য বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো শুভেন্দু অধিকারী সরকারের পক্ষ থেকে। ক্রীড়াক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা পর্যন্ত আর্থিক সাহায্য দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে মন্ত্রীসভার বৈঠকে। অলিম্পিক্সে সোনা, রুপো এবং ব্রোঞ্জ জয়ী ক্রীড়াবিদদের জন্যও বড় অঙ্কের আর্থিক পুরষ্কার দেবে রাজ্য সরকার। এই খবর চাউর হওয়ার পর থেকে ক্রীড়ামহলে খুশির জোয়ার এসেছে। বিজেপি সরকারের এই সিদ্ধান্তে খুশি ক্রীড়াবিদরা।

আয়োজক সংস্থাগুলিকেও দেওয়া হবে ১ কোটি টাকা। কিন্তু রাজ্য গেমস আয়োজনে দেওয়া হবে ৫০ লক্ষ টাকা। ‘অটল খেল সম্মান’-এর অধীনে যদি কোনও ক্রীড়াবিদ অলিম্পিকে সোনা জেতেন তাহলে তাঁকে ১ কোটি টাকা পুরষ্কার দেবে রাজ্য সরকার।  রুপো জিতলে পাবেন ৭৫ লক্ষ এবং ব্রোঞ্জ জিতলে পাবেন ৫০ লক্ষ টাকা। এখানেই শেষ নয়, কমনওয়েলথ এবং এশিয়ান গেমসে সোনা জিতলে দেওয়া হবে ৫০ লক্ষ টাকা। রুপো জিতলে মিলবে ৩০ লক্ষ ও ব্রোঞ্জের ক্ষেত্রে মিলবে ২০ লক্ষ টাকা। পাশাপাশি এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের পদকজয়ীদেরকেও যথাক্রমে ২৫ লক্ষ, ১৫ লক্ষ এবং ১০ লক্ষ টাকা দেবে রাজ্য সরকার।


তাছাড়া জাতীয় গেমস এবং জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে সোনাজয়ীদের মিলবে ১০ লক্ষ টাকা। রুপো এবং ব্রোঞ্জজয়ীদের মিলবে যথাক্রমে ৫ লক্ষ এবং ৩ লক্ষ টাকা। জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পশ্চিমবঙ্গের যেসব ক্রীড়াবিদরা প্রতিনিধিত্ব করেছেন, তাঁদের মাসিক ১০ হাজার টাকা করে ভাতা দেবে রাজ্য সরকার। ‘মুখ্যমন্ত্রী কৃতি ক্রীড়াবিদ সম্মান যোজনা’র অধীনে ক্রীড়াবিদদের মাসিক সাম্মানিক দেওয়া হবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজ্যে খেলাধুলোর পরিকাঠামো যাতে আরও উন্নত হয় তার জন্যই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে। রাজ্য সরকারের আশা, এই আর্থিক সাহায্যের জেরে ক্রীড়াবিদরা যেমন উৎসাহিত হবেন, তেমনই ক্রীড়াক্ষেত্রে রাজ্যকে বা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ভূমিকাও নেবে।