‘প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীদের ক্রেতা সুরক্ষা দপ্তরের অনুষ্ঠানে দেখা যায়নি’, তোপ শুভেন্দুর

CM Suvendu Adhikari Photo-SNS

১ থেকে ৭ সেপ্টেম্বর তারিখ পর্যন্ত উপভোক্তা অধিকার সুরক্ষা সপ্তাহ পালন করা হচ্ছে। হগ মার্কেটের সামনে থেকে উপভোক্তা অধিকার সুরক্ষা সপ্তাহ অনুষ্ঠানের সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ক্রেতা সুরক্ষা দপ্তরের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ। মঙ্গলবার এই অনুষ্ঠান থেকে একাধিক বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। আগের মুখ্যমন্ত্রীরা এই ধরণের অনুষ্ঠানে কখনও আসেননি বলে তোপ দাগেন তিনি। এমনকী তিনি দেখেননি তাঁদের ক্রেতা সুরক্ষার অনুষ্ঠানে আসতে। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়ার বিষয়েও মুখ খুলেছেন তিনি।

এদিকে চিনি এবং পিঁয়াজের দাম পৌঁছে গিয়েছে ৭০ টাকা কেজিতে। তার সঙ্গে চালের দামও বেড়েছে। আবার সবজি থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম অনেক বেড়ে গিয়েছে। তা কিনতে নাভিশ্বাস উঠছে মধ্যবিত্তের। সে খবর জানেন মুখ্যমন্ত্রী। তাই শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘হঠাৎ করে চিনি ও আনাজের দাম বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। জানি রিটেলে কিছু দাম বেড়েছে। কিন্তু চালের দাম তো বাড়ার কথা নয়। কারণ ওটা তো রাজ্যে উৎপাদিত হয়। নানা খাবারের দোকানে রং মেশানো হচ্ছে। সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সবজি, মাছ তাজা দেখানোর জন্য যে রং ব্যবহার হচ্ছে সেটা বিষ। নিষিদ্ধ রং দেওয়া হচ্ছে মিষ্টিতে মুনাফার জন্য। কিছু পুলিশ আধিকারিক যুক্ত। কোথাও কনজ্যুমার অফিসার, ফুড ইন্সপেক্টর যুক্ত থাকতে পারেন এসবের সঙ্গে। তাই একসপ্তাহ ব্যাপী ক্রেতা সুরক্ষা সপ্তাহ শুরু হলো। ২০১৯ সালের আগে থেকে কার্যকর হওয়া আইন প্রচার প্রসারের জন্য এই সপ্তাহ।’

অন্যদিকে মানুষ নানাভাবে প্রতারিত হচ্ছেন। এই তথ্য পেয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাই বিষয়টি নিয়ে বৈঠকও করেছেন। এবার সেসব বিষয়ে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, ‘কদিন আগে সচিবালয়ে মিটিং ডেকেছিলাম। সেখানে রাজ্যের ফুড ডিপার্টমেন্ট, ক্রেতা সুরক্ষা দপ্তরের আধিকারিক, স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিকরা ছিলেন। সেখানে সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়। এসব ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নিচ্ছে রাজ্য সরকার। বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেট ১০ দিন আগে নিউটাউনের একটি ঘরে রেইড করে দেখেছে খাবার ডেলিভারি অ্যাপে ১২০ জনকে আছে যারা ফলস বুকিং নিয়ে টাকা নিচ্ছে। কিন্তু মাল দিচ্ছে না। তাই উচিত যে ক্রেতা বিক্রেতাকে সুরক্ষিত ও সচেতন করা।’


তাছাড়া ফ্ল্যাট কেনা নিয়ে প্রতারণা হচ্ছে বলে অভিযোগ তোলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তবে ক্রেতা সুরক্ষা বিষয়ক অনুষ্ঠানে আগের কোনও মুখ্যমন্ত্রীকে আসতে দেখেননি বলেও তোপ দেগেছেন তিনি। শুভেন্দু অধিকারী এদিন স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘ক্রেতা সুরক্ষা দপ্তরের পক্ষ থেকে উপভোক্তা অধিকার সুরক্ষা সপ্তাহ শুরু হচ্ছে। অবহেলিত দপ্তরের মধ্যে অন্যতম এই দপ্তর। কোনও সরকার ক্রেতা সুরক্ষা নিয়েছেন বা মুখ্যমন্ত্রী এই ধরনের কর্মসূচিতে এসেছেন এটা আমি আগে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য বা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখিনি। এর সঙ্গে লক্ষ লক্ষ মানুষের প্রত্যেকদিনের সম্পর্ক আছে। রাজ্যজুড়ে ফ্ল্যাট কেনাবেচার যে প্রতারণা সেটা যে কত বড় মাপের সেটা সল্টলেক বিজেপি দপ্তরে জনতার দরবারে প্রমাণ মেলে। প্রত্যেকদিন বিজ্ঞাপন দিয়ে ফ্ল্যাট বুকিংয়ের ক্ষেত্রে কত ভাবে প্রতারিত করছে তার কোনও ব্যবস্থা আগে ছিল না। কারণ রাজ্যে যেভাবে সর্বস্তরের দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ ও সিলমোহর দেওয়া হয়েছিল তাতে ক্রেতা ও বিক্রেতা দুজনেই প্রতারিত হচ্ছিলেন।’