আগের সরকার ছাত্রীদের জন্য প্রকল্প এনেছিল কন্যাশ্রী। সেই প্রকল্প বিশ্বের দরবারে পৌঁছেও গিয়েছিল। রাজ্যে পালাবদলের পর সেই প্রকল্প চালু থাকবে কিনা তা নিয়ে অনেকে সংশয় প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের ছাত্রীদের কথা ভেবে এই প্রকল্প বন্ধ করছেন না। সেই প্রকল্পের নাম বদল হচ্ছে ঠিকই। প্রকল্প বন্ধ হচ্ছে না। অর্থাৎ কন্যাশ্রী প্রকল্পের নাম বদল হচ্ছে। বুধবার নবান্ন থেকে সেই কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
তাহলে এবার নতুন নাম কী? কন্যাশ্রী প্রকল্পের নাম বদল করে তা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কন্যাশ্রী প্রকল্পের নাম বদলে জনপ্রিয় এই প্রকল্পের নাম রাখা হচ্ছে কন্যারত্ন। বুধবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে এই কথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এমনকী সবুজ সাথী প্রকল্পের নাম বদলে রাখা হচ্ছে ‘সারথী’। এই প্রকল্পগুলি চলবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘ছাত্রছাত্রীদের জন্য যা করার সেটা করা হবে।’ ক্ষমতায় আসার পর মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন কোনও প্রকল্প বন্ধ করা হবে না। এবার এভাবেই সেই কথা রাখলেন শুভেন্দু অধিকারী। নাম বদল হলেও প্রকল্প বন্ধ হচ্ছে না।
তৃণমূল সরকার শিক্ষাকে পণ্য করেছিল। গত সরকারকে বিঁধে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, বাংলার সরকারি স্কুলগুলিতে এবার হবে স্মার্ট ক্লাস। ভিডিও টিউটোরিয়াল শিক্ষার্থীদের জন্য করা হবে। আধুনিকমানের পরিকাঠামো গড়ে তোলা হবে। পশ্চিমবঙ্গ শিক্ষা পোর্টাল এবং পিএম ভি বিদ্যা চ্যালেনে উচ্চমানের অডিও-ভিসুয়াল শিক্ষা সহজে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এমনকী উচ্চশিক্ষায় আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলেজেন্স এবং মেশিন লার্নিং, ডেটা সায়েন্স যুক্ত করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। আবার বুধবার নবান্নে স্কুল কম্পোজিট গ্র্যান্ট প্রদান অনুষ্ঠান থেকে রাজ্য সরকার বা সরকার পোষিত মোট ৮০ হাজার ৩৭৫টি স্কুলকে ২৯৬ কোটি টাকার বেশি আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী।
২০১৩ সালে কন্যাশ্রী প্রকল্প চালু হয়েছিল। এই প্রকল্পের অধীনে ছাত্রীরা এককালীন ২৫ হাজার টাকা পায়। তিনটি ধাপে এই প্রকল্পের টাকা দেওয়া হয়। ১৩ থেকে ১৮ বছর বয়সের ছাত্রীদের প্রত্যেক বছর ১ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হতো। দ্বিতীয় ধাপে ছাত্রীর ১৮ বছর পূর্ণ হলে এবং অবিবাহিত থাকলে এককালীন ২৫ হাজার টাকা দেওয়া হতো। তৃতীয় ধাপে অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর স্তরে বিজ্ঞান ও কলা বিভাগের ছাত্রীদের জন্য এই সুবিধা দেওয়া হয়। প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ছিল, ছাত্রীদের স্কুলছুট ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করা। এই প্রকল্প আন্তর্জাতিক পুরষ্কারও পেয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই বিষয়ে বলেন, ‘১৪ আগস্ট যে কন্যাশ্রী দিবস পালন করা হতো সেটা হবে। তবে নাম বদলে করা হচ্ছে কন্যারত্ন।’