মাত্র কয়েক ঘন্টা আগে চোরবাগান এলাকা উৎসবের আনন্দে মাতোয়ারা হয়েছিল। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই বদলে গিয়েছে চোরবাগান সার্বজনীন দুর্গোৎসবের চেনা ছবি। শনিবার রাতে এখানে মর্মান্তিক ঘটনা হাহাকার নামিয়ে এনেছিল। স্বজন হারানোর হাহাকার। ভিড়ের চাপে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় এক শিশু-সহ ১৯ জনের। আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ২৫ জন। এই ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে রাজ্য প্রশাসন। শহরের বাকি দুর্গাপুজোগুলির ব্যবস্থাপনা কেমন রয়েছে সেটা খতিয়ে দেখতে গঠন করা হল বিশেষ দল। এই বিশেষ দল গঠনের নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রবিবার গোটা এলাকা থমথমে। পুজোমণ্ডপ লাগোয়া বেশিরভাগ বাড়ির জানালা বন্ধ। স্থানীয় বাসিন্দারা এখনও বিশ্বাস করে উঠতে পারছেন না কয়েক ঘণ্টা আগে সেখানে একসঙ্গে এতজনের প্রাণহানি হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী যে টিম গঠন করেছেন সেখানে আছেন-রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের সচিব রাজেশ সিনহা, দমকলের ডিজি অনুজ শর্মা, স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের এডিজি জাভেদ শামিম। তাঁর নেতৃত্বে বিশেষ এই দল গঠন করা হয়েছে। তাঁদের রিপোর্টের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে। এদিন ভবানী ভবনে জরুরি বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে ছিলেন স্বরাষ্ট্রসচিব, মুখ্যসচিব, ডিজি, পুলিশ কমিশনার এবং আরও শীর্ষ কর্তারা। এদিন চোরবাগানের পুজোমণ্ডপে ঢোকার অনেক আগে থেকেই ব্যারিকেড দেখা গেল। দুর্ঘটনাস্থল থেকে ২০ মিটার দূর পর্যন্ত ব্যারিকেড করে দেওয়া হয়েছে রাস্তায়। কয়েকজন পুলিশকর্মীকেও দেখা গেল সেখানে। সব চুপচাপ। নিস্তব্ধ। কারও মুখে কোনও কথা নেই।
চোরবাগান সার্বজনীন দুর্গাপুজোর মণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। রবিবার হাসপাতালে গিয়ে আহতদের সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়েছেন। নিজের বাকি কর্মসূচি বাতিল করেছেন। মৃতদের পরিবারের সদস্যদের ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছেন। গোটা বিষয়টি তদন্ত করার জন্য পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করছেন। আর চোরবাগানের পুজো মণ্ডপে পরিদর্শনের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, ‘একটা টিম বানিয়ে গেলাম। রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের সচিব রাজেশ সিনহা, দমকলের ডিজি অনুজ শর্মা, স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের এডিজি জাভেদ শামিমের নেতৃত্বে এই টিম শহরের জনপ্রিয় পুজোগুলf ঘুরে দেখবে। গাইড করবেন ডিজি। কলকাতা পুলিশ সাহায্য করবে। তারপর স্বরাষ্ট্রসচিব সংঘমিত্রা ঘোষের কাছে রিপোর্ট জমা দেবেন।’ ইতিমধ্যেই স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, পর্যাপ্ত পরিমাণে পুলিশ এবং ভলান্টিয়ার ছিল না চোরবাগান দুর্গাপুজো মণ্ডপে।
তাছাড়া দুর্গাপুজোর এখনও তিনদিন বাকি আছে-অষ্টমী, নবমী এবং দশমী। এই কদিন শহরের প্যান্ডেলগুলিতে ভিড় হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাই এই কটা দিন শহরের পুজো কমিটিগুলিকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘দুর্গাপুজোর বাকি দিনগুলিতে যাতে চোরবাগানের মতো পরিস্থিতি নতুন করে তৈরি না হয় সেটা নিশ্চিত করতে তৎপর পুলিশ-প্রশাসন। সবাইকে কটা দিন সতর্ক থাকতে হবে। পুজো কমিটিগুলিকে পুলিশ প্রশাসন যা সুপারিশ করবে সেটা মেনে চলতে হবে। প্রয়োজনে শুধুমাত্র পুরোহিত দিয়ে পুজো, সংকল্প করুন। দর্শকদের জন্য মণ্ডপ বন্ধ রেখে বাইরে এলইডি স্ক্রিন লাগান।’