আগের সরকারের বার্ধক্য-বিধবা-দিব্যাঙ্গ ভাতার তালিকা বাতিল, ৮২ লক্ষের অ্যাকাউন্টে পাঠালেন বর্ধিত ভাতা মুখ্যমন্ত্রী

CM Suvendu Adhikari Image: SNS

রাজ্যে বিজেপি সরকার আসার পর থেকে প্রত্যেক সামাজিক প্রকল্পের ভাতা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। যাঁরা যোগ্য তাঁরা ভাতা পেতে শুরু করেছেন। সেই সংখ্যা উত্তোরত্তর বাড়বে বলে আগেই জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আগের সরকারের চালু করা কোনও প্রকল্প বন্ধ হবে না বলে কথা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সে কথা রেখেছেন তিনি। এবার সুবিধাভোগীদের সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে। এমনকী একযোগে বার্ধক্য ভাতা, বিধবা ভাতা এবং দিব্যাঙ্গ ভাতার অঙ্ক বাড়িয়ে দিল রাজ্য সরকার। সোমবার থেকে একহাজার টাকার বদলে দেড় হাজার টাকা পাবেন উপভোক্তারা। এদিন নবান্নে এই অর্থ তাঁদের কয়েকজনের হাতে তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্বয়ং।

এদিকে নবান্ন সভাঘরে রাজ্য সরকারের সামাজিক সুরক্ষা ভাতা প্রদান অনুষ্ঠানে আগের তৃণমূল সরকারের আমলের ‘ওয়েটিং লিস্ট’ এক মুহূর্তে বাতিল করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যের ভেঙে পড়া অর্থনীতি কাটিয়ে উঠতে আরও অন্তত একবছর সময় লাগবে বলে জানান তিনি। তবে সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে আগস্ট মাস থেকে সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা ১,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১,৫০০ টাকা করার কথাও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা, ‘গত সরকারের যাবতীয় ওয়েটিং লিস্ট আজ থেকে বাতিল করে দেওয়া হলো। আমরা আবার জনকল্যাণ শিবির করব। সেখানে গিয়ে সকলে নতুন করে আবেদন জানাবেন।’

অন্যদিকে এদিন রাজ্যের মোট ৮২ লক্ষ ৫ হাজার ৯১৯ জন উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে এই বর্ধিত অর্থ সরাসরি হস্তান্তরিত করা হয়েছে। যার জন্য সরকারি কোষাগার থেকে বছরে ১৪,৭৭১ কোটি টাকা ব্যয় হবে বলে জানা গিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, ভারত সরকারের সব প্রকল্পে যুক্ত হওয়ার জেরে কেন্দ্রীয় অনুদান আসতে শুরু করেছে। আর রাজস্ব ফাঁকি বন্ধ হয়ে গিয়েছে। তার ফলে আয় প্রায় ১৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। অর্থ সাশ্রয় এবং যোগ্য মানুষের হাতে সরকারি সুবিধা পৌঁছে দিতে ভুয়ো উপভোক্তা ছেঁটে ফেলার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য, ‘আগে আমরা অনেক জায়গায় দেখেছি, একজন পুরুষ বিধবা ভাতা পাচ্ছেন। এমনটা তো চলতে পারে না। আমরা তাই আগের সরকারের ওয়েটিং লিস্ট বাতিল করে নতুন করে তালিকা তৈরি করব। আমি চাই, যাঁরা আমাদের জনকল্যাণ শিবিরে এসে নাম লিখিয়েছেন, তাঁদের আবেদন, নথি যাচাই করে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে আগে ভাতা দেওয়া হোক। আমরা আবার গ্রাম পঞ্চায়েত এবং ওয়ার্ড এলাকায় দু’দিন ধরে জনকল্যাণ শিবির করব। সেখানে এসে আপনারা নাম লেখান। ‘আপনার সরকার আপনার পাশে’ নামে কর্মসূচিও হবে। সেখানেও আবেদন করতে পারবেন।’


তাছাড়া বিশেষভাবে সক্ষম (দিব্যাঙ্গ) মহিলাদের জন্য বড় আর্থিক স্বস্তির কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সের প্রায় ১ লক্ষ ২৪ হাজার দিব্যাঙ্গ নারী মাসে ১,৫০০ টাকার প্রতিবন্ধী ভাতার পাশাপাশি ৩,০০০ টাকার ‘অন্নপূর্ণা ভাতা’ মিলিয়ে মোট ৪,৫০০ টাকা করে পাবেন। আর একই বয়সের বিধবা মহিলাদের ১৫০০ টাকার ভাতা ছেড়ে দিয়ে বিডিও বা পুরসভায় যোগাযোগ করে ৩০০০ টাকার অন্নপূর্ণা প্রকল্পে স্থানান্তরিত হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। শুভেন্দু অধিকারীর কথায়, ‘২০২৭-২৮ অর্থবর্ষে রাজ্যের আর্থিক স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটলে ভাতা দ্বিগুণ করার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে পুনর্বিবেচনা করা হবে।’