একদিন আগেই বঙ্গবিভূষণ সম্মান হারিয়েছেন অনন্ত মহারাজ। ঠিক তার ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই আরও বিপাকে বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ নগেন্দ্র রায় ওরফে অনন্ত মহারাজ। কোচবিহার জেলা পুলিশ এবার তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে। স্থানীয় এক বাসিন্দার অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ এই পদক্ষেপ করে তদন্ত শুরু করেছে। অনন্ত মহারাজের বিরুদ্ধে মোট ৬টি এফআইআর দায়ের হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিপাকে পড়ে ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে ভিডিও পোস্ট করে ওই ঘটনার জন্য ক্ষমা চেয়েছেন অনন্ত মহারাজ। কিন্তু তাতেই যে সব সমস্যার সমাধান হবে না সেটা বুঝিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
এদিকে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে কুমন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছে অনন্ত মহারাজের বিরুদ্ধে। তিনি দাবি করেছিলেন, ভারতের স্বাধীনতা অর্জনে নেতাজির কোনও ভূমিকা ছিল না। নেতাজির বিরুদ্ধে আজাদ হিন্দ ফৌজের অপব্যবহারের অভিযোগও তোলেন অনন্ত। অনন্তের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হতেই পদক্ষেপ করে রাজ্য সরকার। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার অনন্ত মহারাজকে বঙ্গবিভূষণ দিয়েছিল। এটি রাজ্যের সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান। নবান্ন বিবৃতি দিয়ে জানায়, সেই সম্মান প্রত্যাহার করা হচ্ছে। বিজেপি সাংসদ অনন্ত মহারাজ বলেছিলেন, ‘শুধু মহাত্মা গান্ধী, জওহরলাল নেহরু বা কংগ্রেসের আন্দোলনের ফলেই ভারত স্বাধীন হয়েছে, এই ধারণা সঠিক নয়। কোচবিহারের মহারাজার ভূমিকা ইতিহাসে যথাযথ গুরুত্ব পায়নি। কোচবিহারের মহারাজা যুদ্ধ করে হিটলার এবং আজাদ হিন্দ ফৌজকে পরাজিত করেছিলেন। জার্মানির হাতে বন্দি হওয়া ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাদের নেতাজির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। ওই সেনাদের নিয়েই আজাদ হিন্দ ফৌজ গঠিত হয়। নেতাজি সেই সুযোগের অপব্যবহার করেছিলেন। আজ যদি আমি সরকারের বিরুদ্ধে অস্ত্র তুলে নিই, তাহলে আমাকে এনকাউন্টার করা হবে। ব্রিটিশ আমলেও আইন ছিল। কোচবিহারের মহারাজাকে যদি স্বাধীন ভারতের সম্রাট করা হতো, তবে দেশভাগ হতো না। ভারত ও পাকিস্তান এক থাকত।’
অন্যদিকে পরিস্থিতির চাপে পড়েই রাতেই দুঃখপ্রকাশ করেন গ্রেটার কোচবিহার ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতা। সমাজমাধ্যমে ১৭ সেকেন্ডের ভিডিও’য় অনন্ত মহারাজ বলেন, ‘নেতাজির প্রতি সম্মান জানিয়ে বলছি, নেতাজি সম্পর্কে আমার অনিচ্ছাকৃত কিছু বক্তব্যের জন্য কেউ যদি মানসিকভাবে কোনও আঘাত পেয়ে থাকেন তার জন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত।’ ভিডিও’র উপরে লেখা ছিল, ‘নেতাজির প্রতি সম্মান জানিয়ে ভিডিও বার্তা’। তবে দুঃখপ্রকাশ করেও রেহাই মিলল না। কারণ মু্খ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, নেতাজিকে কেউ অপমান করলে সেটা বরদাস্ত করা হবে না। কঠিন শাস্তির হুঁশিয়ারি দিয়ে বৃহস্পতিবার অনন্ত মহারাজের বঙ্গবিভূষণ সম্মান ফিরিয়ে নেয় রাজ্য সরকার। রাজ্যের এই কঠোর পদক্ষেপের পরও বেশ কিছুক্ষণ আত্মপক্ষ সমর্থনের চেষ্টা করেন অনন্ত। যদিও পরে সুর নরম করে ক্ষমা চেয়ে নেন তিনি।
তাছাড়া মুখ্যমন্ত্রী আগেই জানিয়েছিলেন, সমাজমাধ্যমে পোস্ট মুছে দিলেও পার পাওয়া যাবে না। অনন্তের বিরুদ্ধেও কি পদক্ষেপ করবে পুলিশ? শুভেন্দু অধিকারী এই প্রশ্নের উত্তরে জানান, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নন। এরপরই ভবানীপুরে শুক্রবার যুবশক্তি কাপের উদ্বোধনে গিয়ে এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ভিডিও পোস্ট করে দুঃখপ্রকাশ করেছে দেখলাম। উনি পরবর্তীতে এমন আচরণ করবেন না বলেছেন। বিষয়টা আমাদের ইতিবাচকভাবেই দেখা উচিত। তবে ওনার বিরুদ্ধে এফআইআর হয়েছে। এই নিয়ে ১৮২টা পোস্ট ডিলিট করা হয়েছে। কারও কারও ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ডিলিট করা হয়েছে। পাঁচজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। তবে মনে রাখতে হবে উনি ক্ষমার অযোগ্য কথা বলেছেন।’