বিশ্ববিদ্যালয় সংশোধনী বিল পাশ বিধানসভায়, পক্ষেই ভোট পড়ল ১৭১

Ritabrata Banerjee-Suvendu Adhikari Photo-ANI

বিধানসভায় উচ্চশিক্ষা সংক্রান্ত বিল বৃহস্পতিবার পেশ করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তা নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়। এই বিলের পক্ষেও যেমন বিধায়ক, মন্ত্রীরা সওয়াল করেন তেমন বিরোধিতাও করেন বিরোধী দলগুলির বিধায়করা। এই বিল নিয়ে রাজ্য সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তবে এই বিল নিয়ে শুরু থেকেই শাসক-বিরোধী বাকযুদ্ধে সরগরম হয়ে ওঠে বিধানসভার নৌসর আলি কক্ষ। তীব্র হট্টগোলের মধ্যেই রাজ্য বিধানসভার বিশেষ অধিবেশনে শেষমেশ পাশ হয়ে গেল বহুচর্চিত ‘আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় কর্মী ও শিক্ষক বদলি (সংশোধন) বিল ২০২৬’। এই বিলের নেপথ্যে অন্য কোনও পরিকল্পনা আছে কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন উঠে যায়।

এদিকে এই বিল পাশ করানো নিয়ে ভোটাভুটি হয়। ভোটাভুটিতে বিলের পক্ষে ১৭১টি ভোট পড়েছে। আর বিপক্ষে ভোট পড়েছে মাত্র ১৫টি। এই ১৫ জনের বিরোধীদের মধ্যে কালীঘাট তৃণমূল শিবিরের ১১ জন বিধায়ক ছাড়াও আছেন নওসাদ সিদ্দিকি, মোস্তাফিজুর রহমান এবং দুই কংগ্রেস বিধায়ক। সুতরাং অত্যন্ত দুর্বল বিরোধিতা হওয়ায় বিল আটকানো সম্ভব হয়নি। হই-হট্টোগেলের মধ্যেই পাশ হয়ে যায় ‘আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় কর্মী ও শিক্ষক বদলি (সংশোধন) বিল ২০২৬’। তবে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শুরুতে সমর্থনের কথা বললেও পরে বিরোধিতা করেন। আর বিলটি যাতে পাশ হয়ে যায় তার জন্য ওয়াকআউট করে সুযোগ করে দেয় তাঁরা শাসকদলকে।

অন্যদিকে এই বিল নিয়ে বলতে উঠে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ধরি মাছ না ছুঁই পানি গোছের মন্তব্য করেন। ঋতব্রত বলেন, ‘যদি এই বিল রাজ্য সরকার কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশে অথবা প্রতিহিংসামূলকভাবে ব্যবহার না করে তাহলে আমরা একে নীতিগতভাবে সমর্থন জানাব। তবে কোনওভাবেই যেন প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার না হয়। মুখ্যমন্ত্রী অতীতে সিপিএমের ‘অনিলায়ন’ এবং পরবর্তীতে মমতায়ন-এর কথা বলেছেন। আমাদের আশঙ্কা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বশাসন খর্ব করে এই বিলের আড়ালে এখন নতুন করে ‘গৈরিকীকরণ’ চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।’


বিরোধী দলনেতার এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে পাল্টা কড়া জবাব দেন মুখ্যমন্ত্রী। বিধানসভায় দাঁড়িয়ে শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য, ‘অতীতে সিপিএম উচ্চশিক্ষায় অনিলায়ন করেছিল। আর আপনাদের পার্টি এখন তিন না চার টুকরো জানি না, আপনারা করেছিলেন মমতায়ণ! আমরা এসবের কোনওটাই করব না। আমাদের লক্ষ্য দুর্বল বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে আরও শক্তিশালী এবং স্বাবলম্বী করে তোলা।’ মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের সঙ্গে সহমত পোষণ করে শিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের জবাব, ‘স্বশাসনের নামে কোনও বিশ্ববিদ্যালয় যদি কুশাসন বা স্বেচ্ছাচারিতা চালায় তাহলে এই বিলই হবে রাজ্য সরকারের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। এখন একই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকা কলেজের অধ্যাপকরা এক কলেজ থেকে অন্য কলেজে বদলির সুযোগ পেলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের ক্ষেত্রে সেটা সম্ভব হতো না। এই বৈষম্য দূর করতে এবং শিক্ষাব্যবস্থায় সমতা ফেরাতেই বিলটি পাশ করা হল।’