‘সকলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে’, টুলুর সম্পত্তি নিয়ে কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

CM Suvendu Adhikari Photo-SNS

বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি একদিনে হওয়া সম্ভব নয়। টাকার পাহাড় সামনে আসতেই এই তথ্যই সামনে আসছে। বীরভূমের ‘পাথর ব্যবসায়ী’ টুলু মণ্ডলের দুর্নীতির পর্দাফাঁস হতেই এমন মন্তব্য করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। টুলুর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠক করে তা স্পষ্ট করলেন তিনি। এই দুর্নীতির সঙ্গে যে বা যারা যুক্ত তাদের বিরুদ্ধে কড়া ‘পদক্ষেপ’ করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু অধিকারীকে হত্যার যে ছক কষেছিল জইশ জঙ্গি হামিদ মণ্ডল তা নিয়েও মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী।

এই টুলু মণ্ডল তাঁর আত্মীয়ের বাড়িতে বিপুল পরিমাণ সম্পদ রেখে গা-ঢাকা দিয়েছে। বিদেশে আছেন এই ব্যবসায়ী বলে সূত্রের খবর। আর অনুব্রত মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ টুলু মণ্ডল বলেই সামনে এসেছে। টুলু মণ্ডলের বিপুল সম্পত্তির বিবরণ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘টুলু মণ্ডলের নানা অ্যাকাউন্টে থাকা ৯৩ কোটি টাকা ফ্রিজ করেছি। নগদ ৫৩ লক্ষ টাকা বাজেয়াপ্ত করেছি। ২৬৮ গ্রাম সোনা, ৪০০ গ্রাম রুপো এবং ৬৩ গ্রাম প্ল্যাটিনাম। ৩টি টাকা গোনার মেশিন, ১ কম্পিউটার ও সিপিইউ, ২টি পেনড্রাইভ মিলেছে। ৮৩টি ট্রাক ও ডাম্পার। বিএমডব্লিউ, অডি মিলিয়ে মোট ২৪২টি গাড়ি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। মোট ২১টি সম্পত্তির খোঁজ মিলেছে। তার মধ্যে রয়েছে ৭টি বাড়ি, ১টি ফার্মহাউস, ২টি পেট্রল পাম্প, ১টি পার্কিং, ২টি ক্রাশার। সবমিলিয়ে ৩০০ বিঘা সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হচ্ছে।’

মুখ্যমন্ত্রীর উপরেই হামলার ছক ছিল বর্ধমানে গ্রেপ্তার হওয়া জৈশ জঙ্গিকে নিয়ে মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, ‘ভীষণ স্পর্শকাতর বিষয়। আমি কোনও মন্তব্য করব না। আগামিকাল এসটিএফ বিবৃতি দেবে। এটা জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়।’ এই আবহে মহম্মদবাজার পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন সভাপতি শম্পা মাহারার শ্বশুরবাড়ি মহম্মদবাজারের কুলিয়া গ্রামে এবং বাপের বাড়ি খড়িয়া গ্রামে অভিযান চালায় জেলা পুলিশ। শম্পা মাহারা টুলু মণ্ডল ঘনিষ্ঠ বলে এলাকায় পরিচিত। তবে এখনও টুলু মণ্ডলের নাগাল পুলিশ এখনও পায়নি। যদিও মুখ্যমন্ত্রীর বিশ্বাস, খুব দ্রুত টুলু মণ্ডলকে খুঁজে বের করবে রাজ্য পুলিশ। টুলুর সঙ্গে অনুব্রতর নাম জড়িয়ে যাওয়ায় ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তিনি। অনুব্রত মণ্ডলের দাবি, ‘টুলু মণ্ডলকে অনুব্রতর ঘনিষ্ঠ বলা হচ্ছে। টুলু মণ্ডলকে কে চেনে না? এভাবে ঘনিষ্ঠ বলার জন্য মানহানির মামলা করব। আর ছেড়ে কথা বলব না। সব প্রস্তুতি নিচ্ছি। সরকারের রাজস্ব কত উঠছে, সেটা জেলাশাসক দেখতেন। আমি কি সরকারের মন্ত্রী ছিলাম নাকি, যে আমি দেখতাম। সবটাই জেলাশাসক জানত।’


অনুব্রত এসব কথা বললেও বিতর্ক থেমে থাকছে না। আবার অনুব্রত ওরফে কেষ্ট এখন ভাল তৃণমূল হয়েছে। তবে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ‘মূল মাথার খোঁজে যা যা করার করব। এত বড় দুর্নীতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের সাপোর্ট ছাড়া হতে পারে না। এতদিন ধরে এত বড় দুর্নীতি, সবাই যুক্ত রয়েছে। এটা একদিনের একটা ঘটনা নয়। আমার রাজ্যে কী ঘটছে, তার জন্য আমি দায়ী নই। কিন্তু তারপর কী ব্যবস্থা নিচ্ছেন, সেটাই আসল। এত সম্পত্তি তো একদিনে হয় না। এতদিন ধরে কী করছিলেন? উঁচুতলা থেকে নির্দেশ না গেলে, এটা হয় না। বেচারি পুলিশ, জেলাশাসককে দোষ দিয়ে কী লাভ আছে। তবে যারা যুক্ত তাদের সকলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’