কলকাতা পুলিশের সদর দপ্তর লালবাজার থেকে একাধিক পদে নতুন চাকরিপ্রার্থীদের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার এই মঞ্চ থেকে নবনিযুক্ত চাকরিপ্রার্থীদের উৎসাহিত করতে গত ৬ মাসের নিয়োগের নানা কথা বর্ণনা করেন এবং পুলিশকে ‘খোলা হাত’ দেওয়ার বার্তাও দেন। একইসঙ্গে এই রাজ্যের পুলিশ পরিকাঠামোর দিক থেকে পিছিয়ে আছে। আগের সরকার ঠিকমতো কাজ করলে এই পরিস্থিতি হতো না। আগামী ডিসেম্বর মাসেও রাজ্য পুলিশে একাধিক পদে নিয়োগ হবে। জানুয়ারি মাসে গঙ্গাসাগর মেলার আগে মিলন মেলা প্রাঙ্গণে কলকাতা পুলিশের ৪ হাজার কনস্টেবলের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
এদিকে নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে মহালয়ার পরদিনই প্রায় ১১ হাজার পুলিশ কনস্টেবল পদপ্রার্থীর হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হয়েছিল। যার মধ্যে ৩ হাজারেরও বেশি মহিলা কনস্টেবল ছিলেন। কদিন আগে পিএসসি-র মাধ্যমে নির্বাচিত দেড়শোর বেশি সমবায় পরিদর্শকের নিয়োগের পর এবার লালবাজারে ৩০৯ জন কলকাতা পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টরের হাতে অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার তুলে দেওয়া হল। যাঁদের মধ্যে ৩০৩ জন সমস্ত ভিআর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সরাসরি পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ পরিবারে যোগ দিলেন বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘কয়েক হাজার পুলিশের আর্থিক নিরাপত্তা ছিল না। তাঁরা ৪২ শতাংশ ডিএ থেকে পিছিয়ে ছিলেন। গোটা ভারতে সপ্তম পে কমিশন হয়ে গেলেও তাঁরা পাননি।’
অন্যদিকে এই বিষয়েই সামাজিক সুরক্ষা এবং নারীদের সুরক্ষার স্বার্থে রাজ্য পুলিশ ও কলকাতা পুলিশকে সম্পূর্ণ ‘খোলা হাত’ এবং কাজের স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে বলে আবার একবার মনে করিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী। নিয়োগপত্র প্রদান মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রী পুলিশকে নির্দিষ্ট বার্তাও দেন। শুভেন্দু অধিকারীর কড়া বার্তা, ‘আগামী দিনে পুলিশের গায়ে হাত দিলে, রক্ত পড়লে, যেই হোক, কাস্টডি ট্রায়াল করানো হবে। অবৈধ মাদকের ঠেক, নেশার পাচার বা বেআইনি কার্যকলাপ চোখে পড়লেই সরাসরি কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। কাজের ক্ষেত্রে কোনও চাপ এলে আমি ব্যক্তিগতভাবে ঢাল হয়ে দাঁড়াব।’
তাছাড়া পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ নিয়োগ পর্ষদে ক্যাবিনেট অনুমোদিত যে নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে তাতে ২৭ হাজার ৫৫৬ জনের নিয়োগ হবে। তার মধ্যে মহিলাদের সংখ্যা ৬ হাজার ৩৪৫ পদ। শুভেন্দু অধিকারীর কথায়, ‘আমরা আগামী কয়েক মাসের মধ্যে পুলিশের ক্ষেত্রে ব্যাপক নিয়োগ করব। শুধু পুলিশ নয় যাঁরা ইউনিফর্মে ডিউটি করেন, ফরেস্ট, ফায়ার ব্রিগেড, এক্সাইজ়, সব ক্ষেত্রেই নিয়োগ দ্রুত করব। আমাদের সময়কালে পিআরবির মাধ্যমে নিয়োগ হবে। আমরা কাউকে কোর্টে যাওয়ার সুযোগ দেব না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং অপরাধ দমনে দায়িত্ব পালনের সময়ে পুলিশকর্মীদের শতভাগ আইনি সুরক্ষা দেওয়ার দায়িত্ব রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের।’