পশ্চিমবঙ্গে বাল্যবিবাহ এবং নাবালিকার গর্ভধারণ আশঙ্কাজনক বৃদ্ধি পেয়েছে। এসবের বাড়বাড়ন্ত ঠেকাতে এবার কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। চলতি বছরে স্বাস্থ্য দপ্তরের উদ্বেগজনক পরিসংখ্যান তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী জানান, নাবালিকা বিবাহ এবং প্রসবের ক্ষেত্রে রাজ্য এখন দেশের শীর্ষে পৌঁছে গিয়েছে। এই সামাজিক ব্যাধি অবিলম্বে নির্মূল করতে এবার পকসো আইন এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতা প্রয়োগ করে বাড়ি বাড়ি অভিযান করতে নির্দেশ দিলেন তিনি। এমনকী অভিযুক্তদের সব সরকারি সুযোগ-সুবিধা ও সামাজিক ভাতা বাতিলের মতো নজিরবিহীন পদক্ষেপের কথাও ঘোষণা করলেন শুভেন্দু অধিকারী। যাঁরা বাল্যবিবাহ করেছেন, সেইসব স্বামীদের শোকজ করা হচ্ছে। বাল্যবিবাহ ঠেকাতে জেল হতে পারে পুরোহিত-কাজিদেরও বলে কড়া বার্তা দেন তিনি!
এদিকে ইংরেজ শাসনের সময় বাল্যবিবাহ রোধে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর আন্দোলন করেছিলেন। তখন বাল্যবিবাহ রোধে আইনও করা হয়। দেশ স্বাধীন হতেই বাল্যবিবাহ ঠেকাতে কড়া আইনও আনে কেন্দ্রীয় সরকার। আইনে পরিষ্কার উল্লেখ রয়েছে, মেয়েদের ক্ষেত্রে ১৮ বছরের নিচে আর ছেলেদের ২১ বছরের আগে বিয়ের অধিকার নেই। একদা বাংলায় নবজাগরণের সূচনা হয়েছিল। আর এখন সেই পশ্চিমবঙ্গতেই আবার বেড়েছে বাল্যবিবাহ বলে অভিযোগ। রাজ্যের দক্ষিণবঙ্গের সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে সেই বাল্যবিবাহ মাত্রাছাড়া আকার নিয়েছে। তাই বাল্যবিবাহ ঠেকাতে এবার থেকে বাড়ি বাড়ি অভিযান করা নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই বিষয়ে শুভেন্দু অধিকারী সাংবাদিক বৈঠক করে বলেন, ‘২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুনের মধ্যে রাজ্যে প্রায় ৬৭ হাজার নাবালিকা গর্ভধারণ এবং প্রাতিষ্ঠানিক প্রসবের ঘটনা নথিবদ্ধ হয়েছে। এই তালিকায় ১২,৮৪৭টি ঘটনা নিয়ে শীর্ষে আছে মুর্শিদাবাদ জেলা। তার মধ্যে বড় অংশই ১৫ থেকে ১৮ বছরের কিশোরী, ১০ থেকে ১৩ বছরের প্রসূতিও আছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা (৪,১৭৮) এবং পূর্ব বর্ধমান (৩,৭৭৭)। তারপর পর্যায়ক্রমে মালদহ, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং উত্তর দিনাজপুরের মতো জেলাগুলি রয়েছে। ১৫ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে প্রায় ৫৩ শতাংশ এক বিশেষ সম্প্রদায়ের হলেও, আইন এবং অপরাধের বিচার সব নাগরিকের জন্য সমান।’
অন্যদিকে স্ত্রীর স্কুলের সার্টিফিকেট, আধার কার্ড, বার্থ সার্টিফিকেট নথির প্রমাণ হিসেবে প্রমাণ করতে হবে। ১৮ বছরের নিচে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করলে পকসো ধারা ৩ ও ৪ অনুসারে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু অধিকারীর কড়া বার্তা, ‘২০০৬ সালের বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ আইন অনুযায়ী ১৮ বছরের কম বয়সী মেয়ে এবং ২১ বছরের কম বয়সী ছেলে শিশু হিসেবে গণ্য হয়। নাবালিকার সঙ্গে বিবাহ বা শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করলে পকসোর অধীনে জামিনঅযোগ্য অপরাধ, যেখানে অপরাধীর অন্তত ১০ থেকে ২০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। এই অপরাধ দমন করতে রাজ্য সরকার প্রসূতিদের স্বামীদের স্বাস্থ্য দপ্তরের মাধ্যমে শোকজ নোটিস পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে।’
তাছাড়া নাবালিকার বয়স ১৬ বছরের কম হলে আজীবন কারাবাসও হতে পারে। নাবালিকা গর্ভধারণ করলে ২০ বছরের জেল হতে পারে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘অপরাধ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তরা রাজ্য সরকারের কোনও ভাতা বা আর্থিক অনুদান পাবে না। বিপুল সংখ্যক অপরাধীর আইনি শাস্তির ক্ষেত্রে রাজ্যে জেলের ঘাটতি রয়েছে। পুলিশ অভিযান চালিয়ে অপরাধীদের ধরা হবে।’