‘তোলাবাজ ভাইপোর একনম্বর কালেক্টর’, সুমিত রায় গ্রেপ্তার হতে মন্তব্য মুখ্যমন্ত্রীর

Suvendu Adhikari Image: ANI

সুপ্রিম কোর্টের রক্ষাকবচ উঠতেই গ্রেপ্তার হয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্ত-সহায়ক সুমিত রায়। বৃহস্পতিবার অভিষেকের কালীঘাটের বাড়ি থেকেই তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি। তারপর তাঁকে এসএসকেএম হাসপাতালে শারীরিক পরীক্ষা করার পর ভবানী ভবনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে জেরা করার জন্য। এই আবহে অভিষেক এবং তাঁর আপ্ত-সহায়ককে একযোগে আক্রমণ করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। চাঁচাছোলা ভাষায় দুজনকেই তুলোধনা করেছেন তিনি। যদিও অভিষেক এখন চোখের চিকিৎসার জন্য বিদেশে গিয়েছেন।

এদিকে সুমিত রায়কে মেদিনীপুর আদালতে তুলে নিজেদের হেপাজতে নেওয়ার আবেদন জানাবেন সিআইডি অফিসাররা। কারণ শালবনি জমি দখলের অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। জমি জোর করে জবরদখল করে তা মোটা টাকায় বিক্রি করে মুনাফা অর্জন করেছেন সুমিত রায় বলে অভিযোগ। তাই ধৃত সুমিতকে জেরা করে সব তথ্য বের করতে চায় সিআইডি অফিসাররা। আগাম জামিনের আবেদন খারিজ হওয়ায় সুমিত রায় আবার আত্মগোপন করতে পারেন এমন আশঙ্কা থেকেই সিআইডি অফিসাররা গ্রেপ্তার করেছে তাঁকে। এই বিষয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘এই রাজ্যের একজন প্রসিদ্ধ তোলাবাজ সুমিত রায়। সুপ্রিম কোর্ট রক্ষাকবচ তুলে নিয়েছে। তোলাবাজ ভাইপোর একনম্বর কালেক্টর হল এই সুমিত রায়। তাকে সিআইডি গ্রেপ্তার করেছে।’

অন্যদিকে কদিন আগে ভবানী ভবনে ১১ বার তলব করা হয়েছিল সুমিত রায়কে। সুমিত রায় বারবার তদন্তে সহযোগিতা করেছেন। তবে সুপ্রিম কোর্ট আগাম জামিন না দেওয়ায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাঁকে। এই আবহে যাতে কোনওভাবেই পালাতে না পারেন তাই কড়া নজরজারি রেখেছিল রাজ্য এসটিএফের দল। ১১৯ নম্বর কালীঘাট রোডের ঠিকানায় ছিল সুমিত রায়। বৃহস্পতিবার ১২১ নম্বর কালীঘাট রোডে অভিষেকের বাড়িতে ঢুকতেই কিছুক্ষণের মধ্যে গ্রেপ্তার করা হয় সুমিত রায়কে।


তাছাড়া এই নিয়ে শাসকদলের পক্ষ থেকে একের পর এক প্রতিক্রিয়া আসতে শুরু করেছে। শুধু মুখ্যমন্ত্রীই নন, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদারের বক্তব্য, ‘কান টানলে মাথা আসবে। সুমিত রায় গ্রেপ্তার হতোই। সুপ্রিম কোর্টে আগাম জামিন নাকচ হওয়ার পর সুমিত রায় গ্রেপ্তার হবে সেটাই স্বাভাবিক ছিল। কারণ অভিষেকের হয়ে সমস্ত কাজ সে করত। পুরোও সরকারটাই তো সে চালাত। নানা দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।’ আর বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষের কথায, ‘এটার অপেক্ষাতেই ছিলাম। সুপ্রিম কোর্ট রক্ষাকবচ তুলতেই সিআইডি সুমিত রায়কে তুলেছে। পোষ্য গ্রেপ্তার হয়েছে। প্রভু কবে গ্রেপ্তার হবে সেই অপেক্ষায় আছে বাংলা। মানুষ তাঁকে দেখতে চায় জেলের মধ্যে। সেদিন আসল উৎসব হবে।’