বাঙালিকে পাখণ্ডী বলে বিতর্কে বাগেশ্বর বাবা, ছবি পোড়াতেই গ্রেপ্তারের নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

Suvendu Adhikari Image: ANI

লিলুয়ায় বাঙালির দুর্গাপুজোয় কী খাওয়া উচিত এবং কী খাওয়া উচিত নয় তা নিয়ে মন্তব্য করে বিতর্ক তৈরি করেছিলেন বাগেশ্বর বাবা। যা নিয়ে রাজ্য-রাজনীতি তোলপাড় হয়ে যায়। কোনও সমর্থন পাননি বাগেশ্বর বাবা। বরং সকলেই তুমুল বিরোধিতা করেছেন তাঁর। এরপরই প্রতিবাদে তাঁর ছবি পুড়িয়ে বিক্ষোভ দেখানো হয়। আর এই বাগেশ্বর বাবার ছবি পুড়িয়ে বিক্ষোভ দেখানোর জেরে নজিরবিহীন পদক্ষেপ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর থানার সামনে বাগেশ্বর বাবার ছবি পুড়িয়ে প্রতিবাদ দেখানো ব্যক্তিদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

মধ্যপ্রদেশের বাগেশ্বরধামের স্বঘোষিত ধর্মগুরু ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রী ওরফে বাগেশ্বর বাবার মন্তব্যের বিরোধিতা করে তাঁর ছবি পুড়িয়ে বিক্ষোভ দেখানো হয়েছিল। সমাজমাধ্যমেও ঝড় উঠেছিল। এবার কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দাকে মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন, ‘বাগেশ্বর বাবা’র ছবি পুড়িয়ে যাঁরা বিক্ষোভ দেখিয়েছেন, তাঁদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে। বৃহস্পতিবার রাজ্য বিধানসভার বিশেষ অধিবেশনে বিশ্ববিদ্যালয় সংশোধনী বিল নিয়ে আলোচনার সময় বিধানসভা কক্ষে দাঁড়িয়ে সরাসরি কলকাতা পুলিশের কমিশনারকে এই কড়া পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। যদিও বাগেশ্বর বাবার মন্তব্যকে সমর্থন করেননি বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার এবং বিরোধীরা।

উল্লেখ্য, রবিবার হাওড়ার লিলুয়ায় ‘হনুমান কথা’র আসরে গিয়েছিলেন বাগেশ্বরধামের ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রী ওরফে বাগেশ্বর বাবা। সেখানে এই বাগেশ্বর বাবা বলেছিলেন, ‘এখানে নবরাত্রির সময়ে দুর্গাপুজোর প্যান্ডেলের পিছনে আমিষ খাবার খাওয়া হয়। খারাপ খাবার পিছনে বানানো হয়। এটা আমার অপছন্দ। এবারে নবরাত্রির সময়ে কলকাতার হিন্দুরা জেগে উঠে এই ধরনের লোকজনকে বহিষ্কার করুন! পশ্চিমবঙ্গের হিন্দুদের কাছে প্রার্থনা, নবরাত্রিতে দেবীর প্রতিমা থাকুক বা না-থাকুক, কিন্তু প্রতিমার পাশে আমিষ বিক্রি চলবে না। দুর্গাপুজোর সময়ে যাঁরা আমিষ খান, তাঁরা ‘পাখণ্ডি’।’ বাগেশ্বর বাবার এই মন্তব্য নিয়েই বিতর্ক শুরু হয়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে, এই বাগেশ্বর বাবার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করে কংগ্রেস।


গোটা পশ্চিমবঙ্গে বিতর্ক তৈরি হতেই বাগেশ্বর বাবার ছবি নিয়ে প্রকাশ্যেই রাস্তায় পোড়ানো হয় এবং বিক্ষোভ দেখানো হয়। কারণ বাঙালির কৃষ্টি, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং আবেগে আঘাত লাগার সমান এই মন্তব্য। তবে এদিন বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ‘লিলুয়ায় এক সন্ত এসেছিলেন। উনি তাঁর মতো করে রাষ্ট্রবাদ-দেশপ্রেমের কথা বলেছেন। যাঁরা গ্রহণ করার করবেন, গ্রহণ করতে না চাইলে করবেন না। উনি কিছু চাপিয়ে দিতে চাননি। ভবানীপুরে থানার সামনে তাঁর ছবি পুড়িয়েছে। আমি সিপি-কে বললাম, এই লোকগুলিকে অ্যারেস্ট করতে হবে। আমি এখান থেকেই সিপিকে নির্দেশ দিচ্ছি, ওই ঘটনায় যুক্তদের অবিলম্বে অ্যারেস্ট করতে হবে।’