‘শিক্ষাকে শীর্ষে নিয়ে যাবই’, শিক্ষক দিবসে একের পর এক ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

CM Suvendu Adhikari Photo-ANI

শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠান থেকে স্কুল সিলেবাসে বদলের ইঙ্গিত দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার নিউটাউনের কনভেশন সেন্টারে বিদ্যাসাগর শিক্ষক সম্মান প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থাকে দেশের শীর্ষে নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন তিনি। আর সেখানেই বক্তৃতা রাখতে গিয়ে শিক্ষাক্ষেত্রে সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন। এখন থেকেই মুখ্যমন্ত্রী শ্রদ্ধা জানান ড. সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণণ, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, স্বামী বিবেকানন্দকে। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর শিক্ষা নিয়ে যে সংস্কার করেছিলেন সেটা আজও প্রাসঙ্গিক বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে স্বামী বিবেকানন্দ যা বলে গিয়েছেন তা মেনে কাজ করার কথা জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।

এদিকে পশ্চিমবঙ্গ গড়ে ওঠার ইতিহাস সিলেবাসে নেই বলে ক্ষোভ উগরে দেন শুভেন্দু অধিকারী। এমনকী অনেক ইতিহাস, বইতে স্থান পায়নি বলে গত তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, ‘টাটাকে তাড়ানো নিয়ে। স্বামী প্রণবানন্দ, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে নিয়ে এক লাইনও পাবেন না পাঠ্যপুস্তকে। পশ্চিমবঙ্গ সৃষ্টির ইতিহাস কেন থাকবে না? প্রথমেই রাধাকৃষ্ণন সম্পর্কে বলতে হবে। তাঁর জন্মদিনে শিক্ষক দিবস পালন করা হয়। বিদ্যাসাগর ৩০০-র বেশি বই লিখে গিয়েছেন। সবথেকে বেশি কাজ করেছেন নারী শিক্ষা প্রসারের জন্য। তিনি যে সংস্কার করে গিয়েছেন সেটা আজকের দিনের জন্য প্রাসঙ্গিক বলে আমি মনে করি। শিক্ষা কেমন হওয়া উচিত তা বলে গিয়েছেন স্বামী বিবেকানন্দ। তাঁর লেখা বই পড়ার সুযোগ হয়েছে। বেলুড় মঠ ও মিশনে একাধিক বই সংগ্রহ করেছি। শিক্ষা সম্পর্কে যে কথা বলেছেন সেটা আজকের দিনে ভীষণ প্রাসঙ্গিক। তিনি বলে গিয়েছেন, এমন শিক্ষা চাই, মানুষের অন্তর্নিহিত প্রতিবাদ বিকশিত হয়, বুদ্ধিবৃত্তি বিকশিত হয়। তাই পুঁথিগত শিক্ষার মধ্যে যদি আমরা আটকে রাখি তাহলে ভুল করব।’

অন্যদিকে এদিন নিউটাউনের কনভেশন সেন্টারে ‘বিদ্যাসাগর শিক্ষাসম্মান’ প্রদান অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ‘পিএম শ্রী’ প্রকল্পের ধাঁচে রাজ্যের স্কুলগুলির জন্য চালু হবে ‘সিএম শ্রী’ প্রকল্প। উত্তরবঙ্গ এবং পশ্চিমাঞ্চলের জন্য ‘সেন্টার অফ এক্সেলেন্স ইন স্পোর্টস’ গড়ে তোলা হবে। রাজ্যের পড়ুয়ারা শিক্ষায় পিছিয়ে পড়েছে দাবি করে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, ‘গত কয়েক বছরে পড়ুয়ারা খানিক পিছিয়ে পড়েছে। সেখান থেকে তাদের নতুন করে উৎকর্ষের জায়গায় পৌঁছে দিতে গেলে দায়িত্ব নিতে হবে শিক্ষকদেরই। তার জন্য সরকার বিশেষভাবে সচেষ্ট হবে। আমরা পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষাব্যবস্থায় অনেক ভুল করে ফেলেছি। ব্রতচারীর মতো শরীর গঠন ফিরিয়ে আনার দরকার আছে। আমাদের এখানে এনসিসি তুলে দেওয়া হল। জয় হিন্দ বাহিনী তৈরি করা হলো। ভীষণ ক্ষতি। এনসিসি-কে ফিরিয়ে আনা উচিত। আমরা খেলাধূলার প্রতি নজর দিইনি। আমি মেদিনীপুর থেকে উঠে এসেছি। সেই জেলা মাধ্যমিকে শতাংশের বিচারে সবসময় প্রথম স্থান হিসেবে উঠে আসে। আমাদের ওই জেলায় ময়না বলে একটা জায়গা আছে। সেখানে আপনি যদি বিদ্যালয়গুলিতে যান, সেই পুরনো লোকেদের তৈরি করা ভাবনায় বড় বড় জমি দিয়ে গিয়েছেন। একেকটা বিদ্যালয়ে প্রেয়ার হল, বিরাট খেলার মাঠ, সাঁতার কাটার জন্য পুকুর, কী নেই সেখানে। ঢুকলেই মনে হবে শান্ত পরিবেশে এলাম। অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বামী বিবেকানন্দের মূর্তি, বিদ্যাসাগর, মাতঙ্গিনী হাজরার মূর্তি আছে। হলগুলিতে রবীন্দ্র চর্চা হয়। শারীরিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ছিল। সব অবহেলিত হয়েছে। আমাদের তা ফিরিয়ে আনতে হবে।’


তাছাড়া সরকারি উদ্যোগে তৈরি হবে স্মার্ট ক্লাসঘর, ডিজিটাল গবেষণাগার। একই সঙ্গে সব স্কুলে যাতে সেরা মানের শিক্ষক নিয়োগ করা যায় সে দিকেও লক্ষ্য রাখা হবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। শিক্ষকদের ডিএ নিয়েও সুখবর শুনিয়েছেন তিনি। শুভেন্দু অধিকারীর কথায়, ‘কলকাতার একটি স্কুল পড়ুয়াকে সাপে কামড়েছে। এটা ভাবা যায় না। কিন্তু এমন হতেই পারে কারণ, স্কুলগুলি গত তিন বছর কম্পোজিট গ্রান্টের টাকা পায়নি। ওই টাকা খুব সামান্য হলেও সেটা দিয়েই তো ব্লিচিং পাউডার, কার্বলিক অ্যাসিড কেনা হয়। ডিএ সংক্রান্ত বিষয়ে মালহোত্রা কমিটির প্রস্তাব মেনে নেবে রাজ্য সরকার। একবারে সম্ভব না হলেও পর্যায়ক্রমে পোষিত স্কুলের শিক্ষক, শিক্ষাকর্মীদের বকেয়া ডিএ মিটিয়ে দেওয়া হবে। ক্ষমতায় এসেই আমাদের সরকার সপ্তম বেতন কমিশন গঠন করেছে। সব বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিলের কিচেন গ্যাসে চলবে। বিদ্যুৎ তো থাকবেই। সোলার প্যানেলে কনভার্ট করুন। পাখার ব্যবস্থা করুন। অ্যাকাওয়াগার্ড দেওয়ার ব্যবস্থা করুন, শৌচালয় দেওয়ার ব্যবস্থা করুন, ছাত্রীদের জন্য আলাদা শৌচালয়ের ব্যবস্থা করুন। তবলা, সেতার, হারমোনিয়াম, খঞ্জনি, একতারা দিন। লাইব্রেরিগুলি সাজান। খেলার মাঠ সাজিয়ে দিন স্কুলগুলিকে এটাই বলছি। এভাবেই শিক্ষাকে শীর্ষে নিয়ে যাবই।’