‘সোডিয়াম-পটাশিয়াম কমে গিয়েছে’, পুলিশকে অভিষেকের হুঁশিয়ারির পাল্টা কটাক্ষ শুভেন্দুর

MP Abhishek Banerjee-CM Suvendu Adhikari Photo-SNS

পুলিশের কাজকর্ম নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে গতকাল হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নাম-সহ প্রত্যেক পুলিশ অফিসারকে চিহ্নিত করে রাখছেন বলেও বার্তা দিয়েছেন তিনি। আর শুক্রবার এই কথা শুনে পাল্টা জবাব দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের শারীরিক সুস্থতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে খোঁচা দেন মুখ্যমন্ত্রী। অসুস্থতার জেরেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এখনও নানা কুমন্তব্য করে চলেছেন বলেই দাবি করছেন মুখ্যমন্ত্রী। একদিন আগেই মুখ্যমন্ত্রীকেও কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছিলেন অভিষেক। চোরবাগান ইস্যুকে সামনে নিয়ে এসেছিলেন। তা থেকেই পুলিশ এবং মুখ্যমন্ত্রীর ভাইপোর নাম তুলে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। যার জবাব মিলল এদিন।

এদিকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, রাজনৈতিক নেতাদের সন্তুষ্ট করতে গিয়ে একাংশের পুলিশ অফিসার তৃণমূল কর্মীদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসাচ্ছেন। তাঁর স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, শুভেন্দু অধিকারীর অঙ্গুলিহেলনে যাঁরা এসব কাজ করছেন, সরকার বদলালে তাঁদের কাউকেই রেয়াত করা হবে না। অভিষেকের হুঁশিয়ারি, ‘যাঁরা ভাবছেন শুভেন্দু অধিকারীর অঙ্গুলিহেলনে কাজ করছেন, প্রত্যেক অফিসারকে সাবধান করে দিয়ে যাচ্ছি, সরকার যখন বদলাবে তখন কেউ বাঁচাবে না। আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। যদি ভাবেন কারও পায়ে এসে পড়বেন, আর বেঁচে যাবেন, কেউ বাঁচাবে না। তার দায়-দায়িত্ব আমার।’

অন্যদিকে গত বুধবার সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্স থেকে বের হতেই গ্রেপ্তার হন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। সে প্রসঙ্গে পুলিশকে হুঁশিয়ারি দেন ডায়মন্ডহারবারের সাংসদ। আপ্ত সহায়ক সুমিত রায় গ্রেপ্তারি নিয়েও কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে অভিষেক বলেন, ‘আমার আপ্ত সহায়ককে মিথ্যে মামলা দিয়ে প্রায় আড়াই মাসের বেশি হেফাজতে রাখা হয়েছে। দু-চারটে পুলিশ অফিসারকে দিয়ে এসব করানো হচ্ছে। তাঁদের বলা হয়েছে পুরষ্কৃত করা হবে। যাঁরা শুভেন্দু অধিকারীর অঙ্গুলিহেলনে চলছেন আমি সেই পুলিশ অফিসারগুলিকে বলব, এক একটা নাম চিহ্নিত করে রাখা থাকল। যাঁরা ভাবছেন ভাল ভাল পোস্টিং পাব মুখ্যমন্ত্রীকে খুশি করে, দু’বছরে আপনাদের কী পরিণতি হয় আমি দেখব। আমি এখানে থাকব আপনারাও এখানে থাকবেন। কেউ ছাড় পাবেন না। কেউ রেয়াত পাবেন না।’


তাছাড়া এই হুঁশিয়ারির কথা পৌঁছে গিয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর কানেও। তাই তাঁকে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করেন সাংবাদিকরা। পাল্টা খোঁচা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর জবাব, ‘আমার মনে হয় যে চ্যালা ক্যামাক স্ট্রিটের টাকা তুলত, সে সব বলে দিয়েছে। ১৫ বছর সরকারে ছিল, তাই ওদেরও তিন-চারটে লোক থাকতে পারে, যাদের সঙ্গে ফেসটাইমে কথা বলে। মনে হয় সোডিয়াম-পটাশিয়ামের সমস্যা হয়েছে। নিউইয়র্কে যেতে চাইছেন যান। আমরা এনওসি করে দেব। আমরা সব দেখছি।’