‘প্রাইভেটে নিয়ে গেছিলাম বলে ২৫টা লোক বাড়ি যেতে পারল’, চোরবাগান নিয়ে ব্যাখ্যা মুখ্যমন্ত্রীর

Suvendu Adhikari Image: ANI

চোরবাগানের বিপর্যয়ে মৃতদের প্রত্যেকের বাড়ি যাবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই কথা আগেই জানানো হয়েছিল। গতকালের পর বুধবারও সেই কথা রাখতে স্বজনহারাদের পাশে পৌঁছে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে আহতদের কেন বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হল? এই নিয়ে প্রশ্ন তুলে সরব হয়েছিলেন কলকাতা মেডিক্যালের জুনিয়র চিকিৎসকদের একাংশ। এবার ওই বিতর্কের মধ্যেই সরকারি হাসপাতালের পরিকাঠামোর ঘাটতির কথা কার্যত স্বীকার করে নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তবে তার জন্য তিনি পিছিয়ে আসেননি। বরং মানুষের বিপদে পাশে থেকে সুস্থ করে তুলেছেন তিনি। সে কথা কেউ বলছেন না।

এদিকে বুধবার বাজেকদমতলা ঘাট পরিদর্শনে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। যাতে বিসর্জনের সময় কোনও অঘটনা না ঘটে তা সরেজমিনে দেখেন তিনি। সেখানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারি হাসপাতালে ব্যবস্থা কম, প্রাইভেটে নিয়ে গিয়েছিলাম বলে ২৫টা লোক বাড়ি যেতে পারল। অনেকে বলছিলেন, মেডিক্যাল কলেজ থেকে আহতদের নিয়ে যাওয়া হল। তবে কি স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ব্যর্থ? হ্যাঁ, মেডিক্যাল কলেজে যে হেলথ সিস্টেম ছিল, প্রাইভেটে নিয়ে গিয়েছিলাম বলে ২৫টা লোকই বাড়ি ফিরে গেলেন। সরকারি হাসপাতালের ব্যবস্থায় তো কম আছে।’ এভাবেই সমালোচকদের জবাব দিলেন তিনি।

অন্যদিকে ১৭ অক্টোবর, প্রথম সপ্তমীর সন্ধ্যায় চোরবাগান সার্বজনীন দুর্গাপুজো প্যান্ডেলে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যু হয়। আহত হন একাধিক। আহতদের উদ্ধার করে প্রাথমিকভাবে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও সেখান থেকে ইএম বাইপাসের ধারে একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করতে হয়। ১৪ জনকে শহরের নানা বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। চিকিৎসকদের একাংশও সমালোচনা করেন। বিতর্ক বাড়তে থাকায় নবমীর রাতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, তাঁদের মূল লক্ষ্য ছিল মানুষের প্রাণ বাঁচানো। কিন্তু বিজয়া দশমীর দিনও এই প্রশ্ন পিছু ছাড়ল না। কারণ পরে আরও কয়েকজনকে নিয়ে যাওয়া হয় বেসরকারি হাসপাতালে।


তাছাড়া এই বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ফলেই মোট আহত ২৫ জন প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন। সুস্থ হয়ে সকলেই বাড়ি ফিরেছেন। তারপরও প্রশ্ন উঠতে থাকছে। তাই এই সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যে সার্ভিস কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ দিতে পারবে, তার থেকে ভাল সার্ভিস বেসরকারি হাসপাতাল দিতে পারবে বলেই আমরা ১৯টা মৃত্যুর পর ২৫ জনকে বেসরকারিতে নিয়ে গিয়েছিলাম। সেখানে চিকিৎসা শুরু হওয়ার পর আর মৃতের সংখ্যা বাড়েনি। তবে ক্ষমার অযোগ্য ভুল আমি বলব। আমাদের সহ-নাগরিক ১৯ জন মারা গিয়েছেন। ক্ষমা করা যাবে না। ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং হবে, অ্যাকশনও হবে। কলকাতা পুলিশের ডিডি তদন্ত করছে। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির টিম হয়েছে। আজ নোটিফিকেশনও হচ্ছে। আমরা চাইছি ফুলপ্রুফ থাকতে। ৬ মাসের মধ্যে আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপের মতো পরিবর্তন হয় না।’