‘আরজি কর কাণ্ডের মতো ঘটনা রুখতে আধ্যাত্মিক জাগরণ প্রয়োজন’, আদ্যাপীঠে বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

CM Suvendu Adhikari Photo-IANS

আদ্যাপীঠ মন্দির পরিদর্শন করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার মন্দিরে পৌঁছলে মুখ্যমন্ত্রীকে প্রসাদী মালা পরিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান আদ্যাপীঠের অধ্যক্ষ ব্রহ্মচারী মুরাল ভাই। সেখানে শুভেন্দু অধিকারী বিশ্বশান্তি কামনায় বিশেষ পুজো এবং আরতি করেন। তারপর মন্দির প্রাঙ্গণের গোশালা ঘুরে দেখেন। তারপর সেখানে দাঁড়িয়েই মুখ্যমন্ত্রী জানান, মনের ‘পাপ’ দূর করতে মানুষকে গীতা পড়ানো উচিত। গীতাপাঠে আধ্যাত্মিক জাগরণ সম্ভব। আরজি কর কাণ্ডের মতো ঘটনা থেকে বিরত করতে মানুষকে গীতা পড়াতে হবে বলে আদ্যাপীঠের মন্দিরে দাঁড়িয়ে বার্তা দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

এদিকে এখানে মুখ্যমন্ত্রী আদ্যাপীঠ পরিচালিত অনাথ আশ্রম এবং নানা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাজকর্ম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আশ্রম কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেন। এমনকী শুভেন্দু অধিকারী ভক্তদের সুবিধার্থে একটি নতুন অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা এবং আদ্যাপীঠের নবনির্মিত মূল ফটক আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন। মুখ্যমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন আশ্রমের আবাসিক ও পড়ুয়ারা। তাদের সঙ্গেও হালকা কথাবার্তা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। আদ্যাপীঠের গোশালাতে পৌঁছে শুভেন্দু অধিকারী গোমাতার সেবা করেন। তারপর মন্দিরে গিয়ে আদ্যা মায়ের পুজোও দেন এবং আরতিও করেন।

অন্যদিকে মন্দিরে পুজো দেওয়ার পর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী জানান, কলকাতা শুধু সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নয়, এটি একটি বড় আধ্যাত্মিক রাজধানীও বটে। তাঁর সরকার রাজ্যে আধ্যাত্মিক জাগরণ সুনিশ্চিত করতে সনাতন প্রতিষ্ঠানগুলির পাশে থাকবে। এখানেই মুখ্যমন্ত্রী বার্তা দেন, ‘কলকাতা সাংস্কৃতিক পীঠস্থানের সঙ্গেই আধ্যাত্মিক রাজধানীও। এই সরকার আধ্যাত্মিক জাগরণকে সম্পূর্ণ করতে সাহায্য করবে। মানুষকে গেরুয়া রঙের মাহাত্ম্য বোঝাতে হবে। প্রত্যেকটা সনাতন প্রতিষ্ঠানের সেবার মানসিকতা রয়েছে। আরজি করের মতো মর্মান্তিক ও নিন্দনীয় ঘটনা প্রতিরোধে সমাজের নৈতিক ও আধ্যাত্মিক জাগরণ অত্যন্ত জরুরি।’


তাছাড়া আরজি করের নির্যাতিতাকে স্মরণ করে শুভেন্দু অধিকারী জানান, নিহত চিকিৎসকের মায়ের লিখিত আবেদনের ভিত্তিতে ১৯৫২ সালের ‘স্পেশাল কমিশন অ্যাক্ট’ বা বিশেষ কমিশন আইনের আওতায় সমগ্র কাণ্ডের পুনর্তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। পাশাপাশি নির্যাতিতার শবদাহ প্রক্রিয়ায় চরম অনিয়ম এবং আইনি গাফিলতির অভিযোগে রাজ্য পুলিশের এক্তিয়ারভুক্ত এলাকায় পৃথক মামলা দায়ের করে জড়িতদের অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এখানেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘অযোধ্যার রাম মন্দিরের জন্য তিন লক্ষ মানুষ আত্মবলিদান দিয়েছেন। হিন্দুদের টাকায় তৈরি হয়েছে ওই মন্দির। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মা-গঙ্গার সঙ্গে জুড়েছে কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরকে। আরজি কর কাণ্ডের মতো পাপকাজ থেকে বিরত রাখতে মানুষকে গীতা পড়ানোর দরকার। গেরুয়া রং কোনও রাজনৈতিক রং নয়, এই রং কৃচ্ছ সাধনের।’