অপরাধের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে চলবে রাজ্য সরকার। ক্ষমতায় আসার পর এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এবার সে কথা রেখে দেখালেন তিনি। ধূলিয়ানে সুজিত মণ্ডল খুনে কড়া পদক্ষেপ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। একাধিক পুলিশ অফিসারকে সাসপেন্ড করে তদন্তভার সিআইডির হাতে তুলে দিলেন। এই ঘটনা হরগোবিন্দ দাসের কথা মনে করিয়ে দিয়েছে মুখ্যমন্ত্রীকে। যদিও দুটি ঘটনার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। ধূলিয়ানের ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এবার দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাই ঘটনার তদন্ত সিআইডি করবে বলে ঘোষণা করলেন শুভেন্দু অধিকারী। এমনকী মৃতের স্ত্রীকে হোমগার্ডের চাকরি এবং ১০ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে বলেও জানিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
এদিকে মুর্শিদাবাদের ধূলিয়ানে এক যুবককে খুন করা হয়েছিল। আর সেই ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ উঠেছিল। যার জেরে চারজন পুলিশকর্মী মুখ্যমন্ত্রীর শাস্তির কোপে পড়লেন। জঙ্গিপুর পুলিশ জেলার সুপার সুরিন্দর সিংয়ের কাছে এই ঘটনার বিষয়ে রিপোর্টও তলব করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁকে কারণ দর্শাতে বলে সতর্কও করা হয়েছে। সোমবার নবান্নে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘ধূলিয়ানে একটি দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা ঘটেছিল। সেখানে সুজিত মণ্ডল নামে এক ব্যক্তি নিখোঁজ হয়ে যান ২৮ আগস্ট। তারপর খণ্ড খণ্ড অবস্থায় তাঁর দেহ উদ্ধার হয়েছিল। অনেকটাই হরগোবিন্দ দাস এবং চন্দন দাসের মতো। পশু কাটার অস্ত্র দিয়ে এই কাজ করা হয়। গত ২ সেপ্টেম্বর ফরাক্কার ফিডার ক্যানালের পাশ থেকে ওই যুবকের খণ্ডবিখণ্ড দেহ পাওয়া যায়। নিহতের স্ত্রী পুলিশকে জানালেও নিচুতলার পুলিশের কাজে গাফিলতি ছিল।’
অন্যদিকে মৃত সুজিত মণ্ডল বিজেপির সমর্থক ছিলেন বলে এলাকা সূত্রে খবর। তাই এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তুমুল আলোড়ন ছড়িয়ে পড়েছিল ফরাক্কা-সামশেরগঞ্জ জুড়ে। এই ঘটনা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী নবান্ন থেকে দাবি করেন, ‘ধৃতদের নাম সামিরুল শেখ, তাজফেরা বিবি এবং জনি শেখ। এরাই মূল অভিযুক্ত। ধৃতদের আদালতে তুলে পুলিশ হেপাজতে নেওয়া হয়েছে। এই ঘটনা খুব গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। লোকাল পুলিশ সাহায্য করেনি। তদন্তভার সিআইডিকে তুলে দেওয়া হচ্ছে। ডিজিপি এবং স্বরাষ্ট্রসচিবের তদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতে অ্যাকশন নেওয়া হয়েছে। এএসআই সুমন্ত কুমার দাস (ইনচার্জ ধুলিয়ান পুলিশ ফাঁড়ি), এসআই সফিউল আলম (সামশেরগঞ্জ পুলিশ স্টেশন) সাসপেন্ড করা হয়েছে। সামশেরগঞ্জের আইসি সুব্রত ঘোষকে পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হচ্ছে। নতুন আইসির নাম শীঘ্রই ঘোষণা করা হবে।’
তাছাড়া এই ঘটনায় ফরাক্কার এসডিপিও শেখ সামসুদ্দিনকে শাস্তিমূলক বদলি করা হয়েছে। ধূলিয়ানের ঘটনায় নিখোঁজ ডায়েরি করেছিলেন নিহত যুবকের স্ত্রী সুমনা মণ্ডল। ৩০ সেপ্টেম্বর এফআইআর দায়ের করেছিলেন। এই নিয়ে সুমনার অভিযোগ, ২৮ সেপ্টেম্বর সকালে রিয়ান আখতার নামের এক যুবক ফোন করে ডেকে নিয়ে যান তাঁর স্বামীকে। তারপর থেকে খোঁজ পাওয়া যায়নি সুজিতের। ২ সেপ্টেম্বর তাঁর খণ্ডবিখণ্ড দেহ উদ্ধার হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘এই ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগের।’