দুর্গাপুজোর পাস বিক্রির মামলায় গ্রেপ্তার হলেন প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। বুধবার তাঁর গ্রেপ্তারের পর দুর্নীতির টাকার অংশ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও ভোগ করেছেন বলে দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। গ্রেপ্তারির পরে তাঁর গলায় শোনা গেল, প্রাতিষ্ঠানিক চোরেদের জেলে যেতে হবে। নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে এই কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যের প্রাক্তন তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ ছিলেন এবং সিপিএমের সঙ্গে সঙ্গীতশিল্পীর ঘনিষ্ঠতা ছিল। সুতরাং ইন্দ্রনীলের যা পরিণতি হওয়ার তাই হয়েছে। তবে আরও বড় জায়গায় হাত পড়বে বলে জানান তিনি।
এদিকে ইউনেস্কোর নাম ব্যবহার করে দুর্গাপুজোর পাস বিক্রি এবং টাকা আদায়ের মামলায় রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনকে গ্রেপ্তার করেছে লালবাজার। সেটা নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা এবং ইন্দ্রনীল একে অপরের পরিপূরক বলে মন্তব্য করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, ‘উনি একা খেয়েছেন এটা ভাবা ভুল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে খাইয়ে খেয়েছেন। ইন্দ্রনীলের যা পরিণতি হওয়ার তাই হয়েছে। তবে আরও বড় জায়গায় ঠিক সময়ে হাত পড়বে। ওঁর বিরুদ্ধে তদন্ত অনেকদিন ধরেই চলেছে। ইডি এবং কলকাতা পুলিশ তদন্ত করছে। তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে তারা আইনগত কাজ করেছে। মমতার প্রত্যক্ষ মদতে এসব করেছেন।’
অন্যদিকে দুর্গাপুজোর পাস বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা দুর্নীতির মামলায় নাম জড়িয়েছিল রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন, তাঁর স্ত্রী এবং তাঁদের সংস্থা মাস আর্ট-এর। ওই মামলাতেই বুধবার গ্রেপ্তার হন তিনি। ইডির তলবে সাড়া দিয়ে সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দেন মমতা ঘনিষ্ঠ প্রাক্তন মন্ত্রী। সেখান থেকে বেরতেই কলকাতা পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য, ‘প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর গাড়িতে জায়গা পেতেন উনি। অনেক বড় বড় মন্ত্রী জায়গা পেতেন না। ওঁরা তো ডুয়েট গাইতেন, আমার যাওয়ার সময় হলো। ইডি নিশ্চয়ই কিছু পেয়েছে। শুধু উনি নন, আরও বড় জায়গায় হাত পড়বে, দেখতে থাকুন। শেষ গানটাও শুনেছি, আমার যাওয়ার সময় হল, দাও বিদায়।’
তাছাড়া মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট অভিযোগ, ইন্দ্রনীল সেনের সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সোজাসুজি সম্পর্ক আছে। ওঁর অ্যাকাউন্ট থেকে ৩০ লক্ষ টাকা মমতার অ্যাকাউন্টে পৌঁছেছে। উনি একসময়ে সিপিএমের ব্লু আইড বয় ছিলেন। একজন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর মেয়ের এনজিও-র দায়িত্বও নিয়েছিলেন। তবে ভোটের পর ইন্দ্রনীল বিজেপিতে আসার চেষ্টা করে সরকারের সুখ্যাতিও করেছিলেন। শুভেন্দু অধিকারীর কথায়, ‘সিঙ্গুরে খামারবাড়ি আছে। স্ত্রীর নামে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থা আছে। শিল্পীদের থেকে থেকেও টাকা তুলেছিলেন। প্রাতিষ্ঠানিক চোরেদের জেলে যেতে হবে। এরা সময়ে সময়ে জলের আকার ধারন করে। তবে বিজেপির দরজা বন্ধ। আইনি প্রক্রিয়ায় যা হওয়ার তাই হয়েছে।’