কৌশিকী অমাবস্যায় মাছ দিয়ে ভোগ খেলেন মুখ্যমন্ত্রী, আমিষ বিতর্ক চ্যাপ্টার ক্লোজড

CM Suvendu Adhikari Fish Bhog Photo-SNS

শুরু করেছিলেন মধ্যপ্রদেশের বাগেশ্বরধামের স্বঘোষিত ধর্মগুরু ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রী ওরফে বাগেশ্বর বাবা। দুর্গাপুজোর সময় আমিষ খাওয়া, মণ্ডপের বাইরে আমিষ স্টল দেওয়া এবং সেই সময় মাছ মাংস খাওয়া নিয়ে বাঙালিকে পাখণ্ডী বলে বিতর্ক তৈরি করেন এই বাগেশ্বর বাবা। যা নিয়ে রাজ্য-রাজনীতিতে আলোড়ন পড়ে যায়। এবার কৌশিকী অমাবস্যায় কালীঘাট মন্দিরে মায়ের পুজো দিয়ে আমিষ বিতর্ককে ক্লোজড চ্যাপ্টার করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী মন্দিরে পুজো দিয়ে মায়ের ভোগ গ্রহণ করেন। মাটিতে বসে ভোগের বাসন্তি পোলাও, মাছের মাথা, মাছ ভাজা খান তিনি। আর এভাবেই বুঝিয়ে দিলেন বাঙালির খাদ্যাভ্যাস বদলের পক্ষে নন তিনিও।

এদিন মধ্যপ্রদেশের বাগেশ্বরধামের স্বঘোষিত ধর্মগুরু ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রী ওরফে বাগেশ্বর বাবার মন্তব্যের বিরোধিতা করে সমাজমাধ্যমেও ঝড় তুলেছিলেন অনেকে। বাগেশ্বর বাবার ছবি পুড়িয়ে বিক্ষোভও দেখান অনেকে। তার জেরে কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দাকে মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দেন, ‘বাগেশ্বর বাবা’র ছবি পুড়িয়ে যাঁরা বিক্ষোভ দেখিয়েছেন, তাঁদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে। বৃহস্পতিবার রাজ্য বিধানসভার বিশেষ অধিবেশনে বিশ্ববিদ্যালয় সংশোধনী বিল নিয়ে আলোচনার সময় বিধানসভা কক্ষে দাঁড়িয়ে সরাসরি কলকাতা পুলিশের কমিশনারকে এই কড়া পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। যদিও বাগেশ্বর বাবার মন্তব্যকে সমর্থন করেননি বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার এবং বিরোধীরা। এবার কালীঘাটে ভোগ খেয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বাগেশ্বর বাবা সম্পর্কে মুখ্যমন্ত্রী জানান, একজন সন্ত নিজের মত প্রকাশ করেছেন। যাঁদের গ্রহণ করার করবে, না করার হলে করবে না।

এখানেই শেষ নয়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কালীঘাট মন্দিরে জবার মালা, লাল বেনারসি শাড়ি দিয়ে মায়ের পুজো দেন শুভেন্দু অধিকারী। মা কালীর পা ধুয়ে দিয়ে অঞ্জলিও দেন মুখ্যমন্ত্রী। তারপর আরতি করেন এবং পুজো শেষ করে কালীঘাট মন্দিরেই মাটিতে বসে ভোগ খান মুখ্যমন্ত্রী। ওই ভোগের মেনুতে চমক ছিল। মুখ্যমন্ত্রীর পাতে ছিল মাছের মুড়ো, মাছ ভাজা এবং বাসন্তি পোলাও। ভোগ গ্রহণ করার পর কালীঘাট মন্দির চত্বরে উপস্থিত ভক্তদের মধ্যে প্রসাদ বিতরণও করেন শুভেন্দু অধিকারী। এই ঘটনার আগে এদিন বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ‘লিলুয়ায় এক সন্ত এসেছিলেন। উনি তাঁর মতো করে রাষ্ট্রবাদ-দেশপ্রেমের কথা বলেছেন। যাঁরা গ্রহণ করার করবেন, গ্রহণ করতে না চাইলে করবেন না। উনি কিছু চাপিয়ে দিতে চাননি। ভবানীপুরে থানার সামনে তাঁর ছবি পুড়িয়েছে। আমি সিপি-কে বললাম, এই লোকগুলিকে অ্যারেস্ট করতে হবে। আমি এখান থেকেই সিপিকে নির্দেশ দিচ্ছি, ওই ঘটনায় যুক্তদের অবিলম্বে অ্যারেস্ট করতে হবে।’


উল্লেখ্য, রবিবার হাওড়ার লিলুয়ায় ‘হনুমান কথা’র আসরে গিয়েছিলেন বাগেশ্বরধামের ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রী ওরফে বাগেশ্বর বাবা। সেখানে এই বাগেশ্বর বাবা বলেছিলেন, ‘এখানে নবরাত্রির সময়ে দুর্গাপুজোর প্যান্ডেলের পিছনে আমিষ খাবার খাওয়া হয়। খারাপ খাবার পিছনে বানানো হয়। এটা আমার অপছন্দ। এবারে নবরাত্রির সময়ে কলকাতার হিন্দুরা জেগে উঠে এই ধরনের লোকজনকে বহিষ্কার করুন! পশ্চিমবঙ্গের হিন্দুদের কাছে প্রার্থনা, নবরাত্রিতে দেবীর প্রতিমা থাকুক বা না-থাকুক, কিন্তু প্রতিমার পাশে আমিষ বিক্রি চলবে না। দুর্গাপুজোর সময়ে যাঁরা আমিষ খান, তাঁরা ‘পাখণ্ডি’।’ তবে এদিন কালীঘাটে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, ‘মা যেন শক্তি দেন, দেশবিরোধী শক্তিকে যেন রাজ্য থেকে পরিষ্কার করতে পারি। আমি নিজে অষ্টমীর দিন সাত্বিক আহার খাই। কার্তিক মাসেও সাত্বিক আহার গ্রহণ করি। আবার মায়ের মাছের ভোগও খাই। পাঠা বলির প্রসাদও খাই। এদিন মন্দিরে যা ভোগ দেওয়া হয়েছিল, মাছের মাথা, মাছ ভাজা ছিল, বাসন্তি পোলাও খেয়েছি। সনাতন সংস্কৃতি জাগ্রত থাকবে। গেরুয়া ধ্বজ সবসময় উপরে থাকবে। কখনও নিচে নামবে না।’