‘মমতাকে ডাকেনি একুশে জুলাই কমিশন’, বিস্ফোরক সব তথ্য দিলেন মুখ্যমন্ত্রী

CM Suvendu Adhikari Photo-SNS

১৯৯৩ সালের ২১ জুলাইয়ের ঘটনায় তদন্ত কমিশন গঠন করেছিল তৃণমূল সরকার। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে গত ১৫ বছরেও সেটার রিপোর্ট প্রকাশ্যে আনা হয়নি। এবার সোমবার ২১ জুলাইয়ের একদিন আগে বিধানসভায় সেই রিপোর্ট পেশ করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গঠিত বিচারপতি সুশান্ত কুমার চট্টোপাধ্যায় কমিশনের সেই রিপোর্টের মূল অংশ পাঠ করে বিরোধী শিবির এবং তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বকে একযোগে কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন মুখ্যমন্ত্রী। এবার মণীশ গুপ্তর নাম মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর গলায় শোনা গেল। তবে তখন আন্দোলনকারী যুব কংগ্রেস নেতাদের উপর গুলি চালানো হয়েছিল সম্পূর্ণ বিনা প্ররোচনায় এবং কাল্পনিক আশঙ্কায়! এদিন রিপোর্টে এমনই উল্লেখ রয়েছে বলে দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী।

এদিকে সোমবার ৩৩ তম ২১ জুলাইয়ের প্রাক্কালে বিধানসভায় রিপোর্ট পেশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রিপোর্ট তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মণীশ গুপ্তের নির্দেশই গুলি চলেছিল। পুলিশের গুলিতে মৃত্যুর যথার্থতা প্রমাণিত হয়নি। তৎকালীন বাম আমলের স্বরাষ্ট্রসচিব তথা তৃণমূল আমলের প্রাক্তন বিদ্যুৎমন্ত্রী মণীশ গুপ্তের নির্দেশেই চলেছিল গুলি। কমিশন এই বিষয়ে বহু আগেই রিপোর্ট দিয়েছে। ৪৪ জনকে ডেকেছিল কমিশন। কিন্তু পঙ্কজ বন্দ্যোপাধ্যায় সাক্ষী দিতে রাজি হননি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাইয়ের প্রধান সাক্ষী ছিলেন। তাঁকেই ডাকেনি কমিশন! হয়তো মমতা আলাদা করেই বলে দিয়েছিলেন যে তাঁকে যেন ডাকা না হয়।’

অন্যদিকে যে মনীশ গুপ্তের নির্দেশে গুলি চালানো হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছিল, তাঁকে মন্ত্রিসভায় জায়গা দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেটা নিয়ে কংগ্রেস এবং বিক্ষুব্ধ তৃণমূলের মধ্যে ক্ষোভ অনেকদিনের। এই আবহে শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য, গত তৃণমূল সরকার একুশে জুলাইয়ের কমিটি গড়েছিল। এই কমিশনের তদন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, আইন অনুযায়ী যথাযথ তদন্ত, নির্বাহী তদন্তের রিপোর্টের অনুপস্থিতি বিচারবিভাগীয় পর্যালোচনার আলোচনার বাইরে চলে গিয়েছে। তাই পুলিশি গুলি চালানোর যথার্থতা প্রমাণিত হয় না। মহাকরণ থেকে কেন নথি পাওয়া যাচ্ছে না? প্রশ্ন করে কমিশন। তখন কার মুখ্যমন্ত্রী তথ্য সরবরাহ করেননি। তিনি একটাও নথি দেননি। কারণ ওঁর বিদ্যুৎমন্ত্রী ফেঁসে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল। সমস্ত সাক্ষ্য থেকে কমিশন দেখেছে, মহাকরণ থেকে দূরে জনতা অবস্থান করছিল। গুলি চালানো প্রয়োজন ছিল না।’


এরপর ভরা বিধানসভায় দাঁড়িয়ে আরও বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। যা নিয়ে রাজ্য-রাজনীতিতে জোর চর্চা শুরু হয়ে গিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর বিস্ফোরক অভিযোগ, ‘২১ জুলাইকে ব্যবহার করে অনেকেই অনেক কিছু করে নিয়েছেন। তবে কার নির্দেশে ওইদিন পুলিশ গুলি চালিয়েছিল তা জানাই যায়নি। কমিশনের প্রস্তাব মেনে হতাহতদের টাকাও দেওয়া হয়নি। প্রস্তাব অনুযায়ী নিহতদের পরিবারকে ২৫ লক্ষ এবং আহতদের ৫ লক্ষ করে টাকা দেওয়ার কথা বলেছিল কমিশন। কিন্তু নিহতদের পরিবারকে মাত্র ২ লক্ষ এবং আহতদের ১৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছিল। যা লজ্জাজনক। নিহতদের পরিবার চাইলে নতুন করে এফআইআর করতে পারেন। আপনারা যদি কমিশনের সুপারিশ মতো ক্ষতিপূরণ এখনকার সরকারের কাছ থেকে চান তাহলে মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে সেই টাকা আপনাদের দেওয়া হবে। কেউ রাজনৈতিক পদ পেয়েছেন, কেউ সরকারি ক্ষমতা ভোগ করেছেন, কেউ আমেরিকার হপকিন্সে চোখের চিকিৎসা করিয়েছেন, চার্টার্ড ফ্লাইটে ঘুরেছেন কিংবা হরিশ চ্যাটার্জি ও হরিশ মুখার্জি স্ট্রিটে ৩৮টি প্লটের মালিক হয়েছেন। কিন্তু একুশে জুলাই ঠিক কী ঘটেছিল, কেন গুলি চলেছিল আর কারা চালিয়েছিল সেটা পশ্চিমবঙ্গের ১১ কোটি মানুষ এখনও জানতে পারেনি।’