চোরবাগান সার্বজনীন দুর্গাপুজোয় মৃত্যুমিছিল নিয়ে গোটা শহরে চর্চা শুরু হয়েছে। অপ্রত্যাশিত এই ঘটনার পর নড়েচড়ে বসল রাজ্য প্রশাসন এবং রাজ্য সরকার। দুর্গাপুজোর দিনগুলিতে নিরাপত্তা এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে তৎপরতা এখন তুঙ্গে উঠেছে। রবিবার ভবানী ভবনে একটি উচ্চ পর্যায়ের জরুরি বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই আবহে চোরবাগান সার্বজনীনের পুজোমণ্ডপে শনিবারের বিপর্যয়ের কারণ কী? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে এখন ব্যস্ত লালবাজার। একইসঙ্গে করা হচ্ছে একাধিক পদক্ষেপ। লালবাজারের নজরে এসেছে, ভিড় নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থার নিরাপত্তারক্ষীদের কোনও প্রশিক্ষণ ছিল না।
এই তথ্য হাতে পাওয়ার পর সবটা সরেজমিনে খতিয়ে দেখছে পুলিশ। আর তাই সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থার অভিজ্ঞতা এবং যোগ্যতা যাচাই করা হয়েছিল কিনা সেটা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। এই বিষয়টি সামনে আসতেই তড়িঘড়ি পদক্ষেপ করেছে লালবাজার। একাধিক পুজোমণ্ডপে নিযুক্ত বেসরকারি নিরাপত্তাকর্মীদের প্রশিক্ষণ, অভিজ্ঞতা এবং যোগ্যতা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভিড় সামাল দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত দক্ষতা এবং প্রস্তুতি তাঁদের আছে কিনা সেটা যাচাই করার উপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে চোরবাগানের ঘটনাস্থলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বাজেয়াপ্ত করেছে লালবাজার। ওই এলাকায় জারি করা হয়েছে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৬৩ ধারা।
রাজ্যের সমস্ত জেলার জেলাশাসক, পুলিশ কমিশনার, জেলা পুলিশ সুপার এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সচিবদের নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভার্চুয়াল বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বাকি দুর্গাপুজোর দিনগুলিতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এবং সম্ভাব্য যে কোনও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় কোন কোন ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন সেটার একটি স্পষ্ট রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে নবান্নের বৈঠকে। প্রাথমিক তদন্তে কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে পুলিশ সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতদের তালিকায় আছেন পুজো কমিটির সম্পাদক এবং সহ-সভাপতি, একটি বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থার দুই আধিকারিক-সহ আরও কয়েকজন।
তাছাড়া এদিনের বৈঠকে বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর। তার মধ্যে রয়েছে-দুর্গাপুজো মণ্ডপ এবং জনবহুল এলাকায় পুলিশের নজরদারি বহুগুণ বাড়ানোর নির্দেশ, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে সর্বদা প্রস্তুত রাখা, জেলা প্রশাসন এবং পুলিশ প্রশাসনের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ আরও নিবিড় করা। তবে চোরবাগানের ঘটনায় রাস্তার উপর স্টল বসানো নিয়েও উঠছে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ২৫ ফুট চওড়া রাস্তার ১৫ ফুটই দখল করে রেখেছিল স্টল। তাই বেরোনোর জন্য অবশিষ্ট ছিল মাত্র ১০ ফুট রাস্তা। এতটা গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা কীভাবে স্টল বসানোর জন্য দখল করা হল সেটা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে পুলিশ।