দমদমে গণেশ পুজোর উদ্বোধনে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আবার নিশানা করলেন সিপিএমকে। একইসঙ্গে তৃণমূলকেও খোঁচা দিয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, গত ৩৪ বছরের সিপিএম জমানায় রাজ্যে সনাতন সংস্কৃতির পরম্পরা মেনে চলা হয়নি। আর তৃণমূল জমানার ১৫ বছরে বাংলার জামাতিকরণের চেষ্টা হয়েছে। বামফ্রন্ট সরকারের জমানায় বাংলার সনাতন সংস্কৃতি এবং পুজো-পার্বণকে কোণঠাসা করা হয়েছিল বলে দাবি মুখ্যমন্ত্রীর। দু’দিন আগেই শারদোৎসব লিখলে চলবে না। লিখতে হবে দুর্গাপুজো। আর তা না হলে সিপিএমকে দুর্গাপুজোর সময় স্টল করতে দেওয়া হবে না। বিধানসভায় দাঁড়িয়ে এমনই ফরমান দিয়েছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এবার কড়া ভাষায় নিশানা করলেন তিনি।
এদিকে সিপিএম নেতৃত্ব সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবার শতাধিক বুক স্টল হবে। কলকাতা এবং জেলায় তা হবে। এই বুক স্টলগুলিতে রাত পাহারা দেওয়া হবে বলেও তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেই খবর পৌঁছে গিয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর কানে। আর তারপরই শনিবার কেষ্টপুরে এক গণেশ পুজোর উদ্বোধনী মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর নিশানা, ‘দুর্গাপুজোর সময় মণ্ডপের পাশে লাল সালু টাঙিয়ে বসানো বামেদের বইয়ের স্টলে বিদেশি কার্ল মার্ক্স ও লেনিনের বই মিললেও স্বামী বিবেকানন্দ, লোকানন্দজি বা ভারত সেবাশ্রম সংঘের প্রণব প্রকাশনের কোনও বই পাওয়া যায় না। এমনকী হাজার খুঁজলেও পশ্চিমবঙ্গ তৈরির ইতিহাস বা দ্বিজাতি তত্ত্বের কথা সেখানে থাকে না।’
অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী এদিন যা বললেন সেটা একেবারেই সঠিক। সেখানে পার্টির বই অথবা নেতা নেত্রীদের লেখা বই পাওয়া যায়। নিজেদের পার্টির নানা কথা সম্বলিত বই মেলে ওই বুক স্টলগুলি থেকে। কিন্তু অন্য কোনও ধরণের বই সেখানে মেলে না। তাই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৪৭ সালের ২০ জুন ডক্টর শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এবং স্বামী প্রণবানন্দের লড়াইয়ের মাধ্যমে বাঙালি হিন্দুদের হোমল্যান্ড হিসেবে পশ্চিমবঙ্গ তৈরি হয়েছিল। অতীতে পঞ্জিকা, শাস্ত্র, পুরোহিত এবং মন্ত্রোচ্চারণ সবকিছু ভুলিয়ে দেওয়ার চক্রান্ত হয়েছিল। এমনকী দুর্গাপুজো বা মহালয়া শোনা নিয়েও একসময় নানা প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হতো। আগের সরকারের আমলে বিজয়া দশমীর দিন মহরমের যুক্তিতে দুর্গা প্রতিমা নিরঞ্জন বন্ধ রাখার চেষ্টা হতো।’
তাছাড়া পিতৃপক্ষে দুর্গাপুজোর উদ্বোধন ও নানা রীতিনীতি নিয়ে সুর চড়ান মুখ্যমন্ত্রী। তবে এবার সব নিয়ম মেনে হবে বলে জানিয়ে দেন তিনি। আর এখান থেকেই শুভেন্দু অধিকারীর স্পষ্ট বক্তব্য, ‘জেলে থাকা এক প্রাক্তন মন্ত্রীর সৌজন্যে অতীতে পিতৃপক্ষেই দুর্গাপুজোর উদ্বোধন হতো, যা সনাতনী পরম্পরার পরিপন্থী। তবে এবার থেকে দেবীপক্ষ তথা মহালয়ার দিন থেকেই দুর্গাপুজোর উদ্বোধন হবে। মহা অষ্টমীতে শুচি-পবিত্র হয়ে মায়ের অঞ্জলি দেওয়ার ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে হবে। কোনওভাবেই যাতে কেউ আমাদের ধর্ম, সংস্কার ও ঐতিহ্য বদলে দিতে না পারে তার জন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। ওদের স্টলে বিবেকানন্দের বই পাবেন না। পাবেন শুধু মার্ক্স, লেনিনের বই। আর তৃণমূল জমানায় তো বিসর্জনের দিনই বদলে দেওয়া হয়েছিল।’