এনআরএস হাসপাতালে এক ব্যক্তির গলব্লাডার অপারেশনের বদলে অ্যাপেন্ডিক্স অপারেশন করা হয়েছে বলে অভিযোগ। এই অভিযোগ তুলেছিলেন বেলেঘাটার তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক কুণাল ঘোষ। যার জেরে রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় সরাসরি ফোন করেছিলেন কুণালকে। তদন্তের আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু কুণাল ঘোষ গরিব মানুষের সমস্যাটি নিয়ে খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে চিঠি লেখেন। আর ওই ব্যক্তিকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার দাবি জানান। তৎক্ষণাৎ সেই আবেদনে সাড়া দেন মুখ্যমন্ত্রী। এভাবেই শুভেন্দু অধিকারী বুঝিয়ে দিলেন তিনি সকলের মুখ্যমন্ত্রী। সেটা শুধু মুখে বলেছেন এমন নয়, কাজে করে দেখালেন তিনি।
এনআরএস হাসপাতালে চিকিৎসা বিভ্রাটের শিকার হন বেলেঘাটার ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা গোপাল পোড়েল। এনআরএস হাসপাতালে গলব্লাডারে স্টোনের অপারেশন করতে গিয়ে অ্যাপেনডিক্স অপারেশন করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। তখন বিধায়ক কুণাল ঘোষের উদ্যোগে গোপাল পোড়েলের চিকিৎসা হয় বেসরকারি হাসপাতালে। সেখানে তাঁর গলব্লাডারে স্টোনের অপারেশন হয়। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে ওই ব্যক্তিকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার জন্য আর্জি জানান কুণাল ঘোষ। আর কুণাল ঘোষের চিঠি পেয়েই ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এল উত্তর। মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর থেকে অর্থ সাহায্যের আশ্বাস দেওয়া হলো। নবান্নের পক্ষ থেকে ওই বেলেঘাটার বাসিন্দা রোগীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তার পরেই মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ এবং গোপাল পোড়েল।
পেশায় ১০০ দিনের কাজের কর্মী গোপাল পোড়েলের পক্ষে এই বিপুল ব্যয়ভার বহন করা সম্ভব ছিল না। সল্টলেকের করুণাময়ী এলাকার একটি হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা এবং অস্ত্রোপচার হয়। এই চিঠির প্রসঙ্গে গোপাল পোড়েল সংবাদমাধ্যমে বলেন, ‘একে আমার শরীর খুব খারাপ। তার উপর আর্থিকভাবেও আমি নিঃস্ব। এই পরিস্থিতিতে বিধায়ক কুণাল ঘোষ আমার জন্য দরবার করেছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আমায় আর্থিক সাহায্য করার কথা জানিয়েছেন।’ আর সমাজমাধ্যমে কুণাল ঘোষ লিখেছিলেন, ‘এনআরআস হাসপাতালে মারাত্মক অভিযোগ। গলব্লাডারে স্টোন অপারেশনের বদলে অ্যাপেনডিক্স অপারেশন, যেখানে সমস্যা ছিল না। অভিযোগকারী রোগী গোপাল পোড়েল। বেলেঘাটা কেন্দ্র। ওয়ার্ড ৩৫। এখন শরীরে জটিল অবস্থা। নিজে দেখা করতে এসে জানালেন। মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে সাহায্য চেয়েছেন গোপাল। সঙ্গে একটি অনুরোধপত্র দিয়ে নবান্নে পাঠিয়েছি। স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে অনুরোধ, এনআরএসের ঘটনা নিয়ে যে অভিযোগ, অবিলম্বে ঠিকঠাক তদন্তের নির্দেশ দিন। ভুল অপারেশন হয়ে থাকলে, কারা করল, চিহ্নিত করুন।’
তাছাড়া কুণাল ঘোষের চিঠি পেয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, গোপাল পোড়েলকে আর্থিক সাহায্য দেওয়ার বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী অনুমোদন দিয়েছেন। বেসরকারি হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা বিষযক নথিপত্রও চেয়ে পাঠানো হয়েছে। আর স্বাস্থ্যমন্ত্রী কুণাল ঘোষকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘কুণাল ঘোষ যদি সরকারের চোখ এবং কান হিসেবে কাজ করেন তাহলে এটা খারাপ কিছু নয়। আমরা যে কোনও সময় সমালোচনার সম্মুখীন হতে প্রস্তুত। তদন্তের পর আমরা কুণাল ঘোষকে বিষয়টি নিয়ে অবহিত করেছি। উনি তাতে খুশি। উনি চাইলে আমরা তদন্ত রিপোর্টও পাঠিয়ে দেব।’