তৃণমূল সরকার শিক্ষাকে পণ্য করেছিল। গত সরকারকে বিঁধে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, বাংলার সরকারি স্কুলগুলিতে এবার হবে স্মার্ট ক্লাস। ভিডিও টিউটোরিয়াল শিক্ষার্থীদের জন্য করা হবে। আধুনিকমানের পরিকাঠামো গড়ে তোলা হবে। পশ্চিমবঙ্গ শিক্ষা পোর্টাল এবং পিএম ভি বিদ্যা চ্যালেনে উচ্চমানের অডিও-ভিসুয়াল শিক্ষা সহজে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এমনকী উচ্চশিক্ষায় আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলেজেন্স এবং মেশিন লার্নিং, ডেটা সায়েন্স যুক্ত করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। আবার বুধবার নবান্নে স্কুল কম্পোজিট গ্র্যান্ট প্রদান অনুষ্ঠান থেকে রাজ্য সরকার বা সরকার পোষিত মোট ৮০ হাজার ৩৭৫টি স্কুলকে ২৯৬ কোটি টাকার বেশি আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী।
এদিকে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, খুব তাড়াতাড়িই ৫০ হাজার নিয়োগ করা হবে। গত তৃণমূল কংগ্রেস সরকারকে তুলোধনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু অধিকারীর স্পষ্ট অভিযোগ, গত সরকারের ভুল নীতি, দাম্ভিকতা এবং শিক্ষাকে অবহেলা করার জেরে রাজ্যের ক্ষতি হয়েছে। নিয়োগ দুর্নীতি এবং শূন্যপদ নিয়েও আগের সরকারকে কটাক্ষ করেন তিনি। এখানেই শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেন, ৪২ হাজার ১৯২ জন পার্শ্বশিক্ষকদের বেতন ৫ হাজার টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গ জাতীয় শিক্ষা নীতিতে যুক্ত হবে। তাতে কেন্দ্রীয় সরকারের অনুদান পাবে রাজ্য। স্কুল সার্ভিস কমিশনে সব ধরনের রাজনৈতিক নিয়োগ বন্ধ করা হয়েছে। শিক্ষক, অধ্যাপক নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকবে না।’
অন্যদিকে বেসরকারি ক্ষেত্রে অডিও-ভিসুয়াল অত্যন্ত জনপ্রিয়। ওই ভিডিওগুলিতে কোনও অধ্যায়ের বিষয়ে বিস্তর আলোচনা করা হয়। এবার সরকারি ক্ষেত্রেও পড়ুয়ারও সেই সুবিধা দেওয়া নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, ‘উচ্চমানের অডিও-ভিসুয়াল শিক্ষা সহজলভ্য করা হবে। ১২০০ বেশি সরকারি এবং সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলে ডিজিটাল শিক্ষা সহায়িকা ও পারস্পারিক অংশগ্রহণমূলক শিক্ষা প্রযুক্তি সরবরাহ করা হচ্ছে। দূরবর্তী জেলা, গ্রামীণ স্কুলগুলি অগ্রগতি পাবে। এক হাজারটি উচ্চমাধ্যমিক স্কুলে অটল ল্যাবরেটরি তৈরির অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। এমনকী রাজ্যে আরও পিএমশ্রী স্কুল বানানো হবে। সরকারি শিক্ষাব্যবস্থাকে যদি বেসরকারি শিক্ষাব্যবস্থার সমতুল না করা যায় তাহলে সকলে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দিকে ঝুঁকবে এবং সরকারি স্কুলগুলি পিছিয়ে পড়বে।’
তাছাড়া ২০২০ সালের জাতীয় শিক্ষানীতির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার কথা ঘোষণা করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, বিদ্যালয় পরিচালন কমিটিতে অভিভাবকদের মধ্য থেকেই অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মিড-ডে মিলে আলাদা করে ডিমের ব্যবস্থা করা হবে। ১ আগস্ট থেকে ইসকনের মাধ্যমে মিড-ডে মিল দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তবে তার বাইরে প্রোটিনযুক্ত আহারের কথা মাথায় রেখে হেল্প গ্রুপের মাধ্যমে স্কুলগুলিতে ডিম দেওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, ‘গত সরকারের আমলে রাজ্যের স্কুলে শিক্ষার মান কমেছে। নতুন সরকারের আমলে রাজ্যে কেন্দ্র-রাজ্য যৌথভাবে শিক্ষাব্যবস্থার হাল ফেরাতে উদ্যোগী। আমরা উচ্চশিক্ষা বিভাগ পৃথক করেছি। ভারত সরকারের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে শিক্ষাব্যবস্থার মানোন্নয়নই আমাদের লক্ষ্য।’